অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞদের মতামত হলো, একটি দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে অবশ্যই ওই দেশকে আমদানি বিকল্প শিল্প নীতি অনুসরণ করতে হবে। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ এ নীতি অনুসরণ করছে। এর মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের সংরক্ষণ, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পায়। এ নীতি অনুসরণে কৌশল নির্ধারণ, কর্মসংস্থান, ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওযার মতো কিছু সমস্যাও সৃষ্টি হয়।

  1. ক)

    হাইটেক শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    স্বনির্ভরতা অর্জনে শিল্পায়ন জরুরি কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশে আমদানি বিকল্প শিল্পের গুরুত্ব আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের সমস্যাসমূহ বিশ্লেষণপূর্বক এ নীতির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাইটেক শিল্প বলতে জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক, উচ্চ সংযোজন ক্ষমতাসম্পন্ন এবং পরিবেশবান্ধব উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পকে বোঝায় (যেমন- তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স, বায়োটেকনোলজি ইত্যাদি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য শিল্পায়ন অত্যন্ত জরুরি, কারণ একটি দেশ কেবল কৃষির ওপর নির্ভর করে টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না। শিল্পায়ন দেশের অভ্যন্তরীণ কাঁচামালের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমায় এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের অভ্যন্তরীণ যোগান বৃদ্ধি করে। এছাড়া এটি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে পরনির্ভরশীলতা হ্রাস করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশে আমদানি বিকল্প শিল্প গড়ে তোলার গুরুত্ব অপরিসীম। আমদানি বিকল্পায়ন নীতি বলতে বোঝায় অতীতে যেসব পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো, সেগুলো দেশীয় শিল্প-কারখানায় উৎপাদন করে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত গুরুত্বসমূহ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক:
    ১. দেশীয় শিল্পের সংরক্ষণ ও বিকাশ: আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে দেশীয় উদ্যোক্তাদের অনুকূল পরিবেশ দেওয়া সম্ভব হয়, ফলে স্থানীয় শিল্প দ্রুত বিকশিত হয়।
    ২. বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়: নিত্যপ্রয়োজনীয় ও শিল্পজাত পণ্য দেশেই উৎপাদিত হলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাওয়া রোধ হয়।
    ৩. বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস: আমদানিব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।

    সুতরাং, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং পরনির্ভরশীলতা দূর করতে বাংলাদেশে আমদানি বিকল্পায়ন শিল্পের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আমদানি বিকল্প নীতির সুবিধার পাশাপাশি কৌশল নির্ধারণের জটিলতা, কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সংকট এবং ভোক্তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ নীতিতে সরকার অতিরিক্ত সংরক্ষণ প্রদান করলে দেশীয় শিল্পগুলো প্রতিযোগিতাহীন হয়ে পড়ে, যার ফলে পণ্যের গুণগত মান হ্রাস পায় এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোক্তাদের চড়া দামে নিম্নমানের পণ্য কিনতে হয়। এতে ভোক্তা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া অনেক সময় এ জাতীয় শিল্পে পুঁজি-নিবিড় প্রযুক্তি ব্যবহৃত হওয়ায় প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় শিল্পগুলো পরনির্ভরশীল ও অদক্ষ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

    তবে এই সীমাবদ্ধতাগুলো সত্ত্বেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের শিল্পায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে এ নীতির যথার্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ ও বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করে। সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য উপযুক্ত নীতি ও তদারকি রাখা জরুরি, যেমন—শিল্পের জন্য সময়াবদ্ধ সংরক্ষণ সুবিধা দেওয়া, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং ক্রমান্বয়ে প্রতিযোগিতামুখী উন্মুক্ত বাজার নীতির সাথে সমন্বয় সাধন করা। পরিশেষে বলা যায়, সঠিক কৌশল ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ নীতি প্রয়োগ করলে এটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন