ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

রাজা আলমগীর তার সাম্রাজ্যে ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। কেন্দ্রীয় টাকশাল স্থাপন করে নির্দিষ্ট মানের মুদ্রা চালু করেন। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে উপকৃত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটে। তিনি প্রচলিত ডাক ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করেন। সাম্রাজ্যের সৌন্দর্যবৃদ্ধির জন্য সুরম্য প্রাসাদ, নান্দনিক স্মৃতিফলক প্রভৃতি নির্মাণ করেন, যা সকলের দৃষ্টি কাড়ে। এভাবে স্থাপত্যশিল্পের বিকাশে তিনি। অনবদ্য ভূমিকা রাখেন।

  1. ক)

    'কুব্বাতুস সাখরা' কী?

    (1)
  2. খ)

    খলিফা আবদুল মালিক কর্তৃক আরবি ভাষা জাতীয়করণ বিষয়ে ধারণা দাও।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কার খলিফা আবদুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের অনুরূপ- ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    স্থাপত্যশিল্পের উন্নয়নে উদ্দীপকের রাজার তুলনায় আবদুল মালিকের কৃতিত্ব ছিল অনেক বেশি- উক্তিটির যথার্থতা যাচাই করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'কুব্বাতুস সাখরা' (Dome of the Rock) হলো খলিফা আবদুল মালিক কর্তৃক জেরুজালেমে নির্মিত একটি অনন্য ও ঐতিহাসিক সুরম্য অষ্টকোণাকৃতির গম্বুজ বা ইমারত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খলিফা আবদুল মালিকের শাসনকাল পর্যন্ত উমাইয়া সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় দপ্তরগুলোতে পারসিক, গ্রিক ও কিবতি প্রভৃতি বিভিন্ন প্রাদেশিক ভাষা ব্যবহৃত হতো। এতে প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিত এবং শাসনব্যবস্থা আরবদের একক নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হতো। এই অসুবিধা দূর করার লক্ষ্যে খলিফা আবদুল মালিক সাম্রাজ্যের সকল রাষ্ট্রীয় কাজে আরবি ভাষাকে সরকারি ও একমাত্র ভাষা হিসেবে ঘোষণা করে এর জাতীয়করণ করেন। এর ফলে প্রশাসনিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং উমাইয়া সাম্রাজ্যে একীভূত আরব সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের রাজা আলমগীরের মুদ্রা সংস্কার উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের যুগান্তকারী মুদ্রা সংস্কারের সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

    খলিফা আবদুল মালিকের পূর্বে মুসলিম জাহানে রোমান ও পারসিক মুদ্রা প্রচলিত ছিল, যার ফলে বাণিজ্যিক নির্ভরশীলতা ও নানা সমস্যা দেখা দিত। আবদুল মালিক ৬৯৫-৬৯৬ খ্রিস্টাব্দে নিজস্ব আরবি মুদ্রা প্রচলন করেন। তিনি কেন্দ্রীয়ভাবে 'দিনার' (স্বর্ণমুদ্রা), 'দিরহাম' (রৌপ্যমুদ্রা) এবং 'ফালস' (তাম্রমুদ্রা) চালু করেন এবং এসব মুদ্রায় রোমান প্রতীকের পরিবর্তে কালেমা ও কুরআনের বাণী অঙ্কন করেন। এতে মুসলিম বাণিজ্যে স্থায়িত্ব আসে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটে।

    উদ্দীপকের রাজা আলমগীরও সাম্রাজ্যের বাণিজ্যিক উন্নয়ন ও ক্রেতা-বিক্রেতার সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় টাকশাল প্রতিষ্ঠা করে নির্দিষ্ট মানের সুনির্দিষ্ট মুদ্রা চালু করেন। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ও কার্যপদ্ধতি খলিফা আবদুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের অনুরূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্থাপত্যশিল্পের উন্নয়নে উদ্দীপকের রাজার তুলনায় খলিফা আবদুল মালিকের কৃতিত্ব ছিল ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী—উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।

    উদ্দীপকে রাজা আলমগীর সাম্রাজ্যের সৌন্দর্য বাড়াতে সুরম্য প্রাসাদ ও নান্দনিক ফলক নির্মাণ করে স্থাপত্যশিল্পে ভূমিকা রেখেছিলেন, যা সাধারণ স্থাপত্য কার্যক্রমের প্রতিফলন।

    পক্ষান্তরে, খলিফা আবদুল মালিকের স্থাপত্যকীর্তি ছিল তৎকালীন বিশ্বের স্থাপত্যরীতির এক অনন্য মাইলফলক। তাঁর অমর সৃষ্টি হলো জেরুজালেমের পবিত্র পাথরের ওপর নির্মিত 'কুব্বাতুস সাখরা' (Dome of the Rock)। এটি ইসলামি স্থাপত্যের অন্যতম প্রাচীন ও শ্রেষ্ঠ নিদর্শন, যার নকশা, সুদৃশ্য গম্বুজ এবং অনুপম মোজাইকের অলংকরণ বিশ্বজুড়ে স্থাপত্যশিল্পের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় সংযোজন। এছাড়াও তিনি জেরুজালেমের 'মসজিদুল আকসা'র পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করেন এবং দামেস্কে বিভিন্ন মনোরম স্থাপনা গড়ে তোলেন। তাঁর স্থাপত্যগুলোতে ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি স্বকীয় ইসলামি রীতির বিকাশ ঘটেছিল।

    অতএব, কেবল সুরম্য প্রাসাদ নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্ববিখ্যাত অমর স্থাপত্য সৃষ্টির মাধ্যমে খলিফা আবদুল মালিক যে অবদান রেখে গেছেন, তা উদ্দীপকের রাজার তুলনায় বহুলাংশে শ্রেষ্ঠ ও প্রভাবশালী ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন