অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশ প্রায় দুইশত বছর ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক শাসনাধীন ছিল। তখন ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার পিছনে এ দেশের কাঁচামালের যোগান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারপর বাংলাদেশ প্রায় দুই যুগ পাকিস্তানের শাসনাধীন থাকে এবং দুর্ভাগ্যবশত তখনও পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশের জনগণের জন্য খুবই কম অংশ উন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দ রাখত। এক সময় বাংলাদেশ দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে নেয়। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তন, শিল্প ও সেবাখাতের অবদান বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে সাফল্য, সমুদ্র বিজয়, আইসিটির ব্যাপক ব্যবহার, রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স অর্জন, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করেছে।
- ক)(1)
গ্রামীণ খাত কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশে কৃষির অনগ্রসরতার কারণ কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে স্বাধীনতা পূর্ববর্তীকালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতার কারণগুলো নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকের বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাকে তুমি কিভাবে মূল্যায়ন করবে?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, গ্রামীণ ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি খাতকে গ্রামীণ খাত বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশে কৃষির অনগ্রসরতার প্রধান কারণ হলো সনাতন উৎপাদন পদ্ধতি ও আধুনিক কৃষি উপকরণের অপ্রতুলতা। এছাড়া জমি খণ্ডবিখণ্ড হওয়া, কৃষকদের মূলধনের অভাব, উন্নত বীজ ও সারের ঘাটতি, সেচ সুবিধার অপ্রতুলতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটা কৃষির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিকে ব্যাহত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে স্বাধীনতা পূর্ববর্তীকালে (ব্রিটিশ ও পাকিস্তান শাসনামল) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতার মূল কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ঔপনিবেশিক শোষণ ও কাঁচামালের নিষ্কাশন: প্রায় দুইশত বছরের ব্রিটিশ শাসনামলে এ অঞ্চলকে কেবল কাঁচামালের যোগানদাতা এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা দেশের নিজস্ব শিল্প বিকাশে বাধা দেয়।
২. বাজেট ও উন্নয়ন বৈষম্য: পাকিস্তান আমলে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যয় হতো এবং পূর্ব পাকিস্তানের (তৎকালীন বাংলাদেশ) জনগণের জন্য খুব সামান্য বরাদ্দ রাখা হতো।
৩. বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্যে বৈষম্য: পূর্ব পাকিস্তান থেকে পাট ও কৃষিপণ্য রপ্তানি করে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো।
৪. নীতিগত বৈষম্য ও অবহেলা: শিল্পায়ন, অবকাঠামো এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করায় এ অঞ্চলের অর্থনীতি পশ্চাৎপদ ও স্থবির হয়ে পড়েছিল। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্যাবলির আলোকে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল ও বাস্তবসম্মত। এর মূল্যায়ন নিচে তুলে ধরা হলো:
১. কাঠামোগত রূপান্তর: কৃষি খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কাটিয়ে শিল্প ও সেবা খাতের অবদান ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের জন্য অপরিহার্য।
২. বৈদেশিক আয় বৃদ্ধি: রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স অর্জন এবং তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি খাতের প্রসার দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করেছে।
৩. সামাজিক সূচকের অগ্রগতি: শিক্ষা খাতের বিস্তার, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস এবং গড় আয়ু বৃদ্ধি মানবসম্পদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করেছে।
৪. প্রযুক্তি ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন: আইসিটির ব্যাপক ব্যবহার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা এনেছে এবং সমুদ্র বিজয়ের ফলে ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।সুতরাং, দীর্ঘ শোষণের ইতিহাস পেছনে ফেলে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অগ্রগতি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যকে সম্পূর্ণরূপে অর্জনযোগ্য করে তুলেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও