বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
দীপ শিখা গার্মেন্টসের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহত হয় গার্মেন্টস কর্মী দম্পতি জলিল ও রাবেয়া। তাদের একমাত্র মেয়ে জোবাইদা অনাথ হয়ে আশ্রয় নেয় বৃদ্ধ নানা-নানির সংসারে। গরিব নানা-নানি তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে তাকে বিয়ে দেয় পাশের গ্রামের আকিবের সাথে। কিন্তু সুখের মুখ দেখা হলো না জোবাইদার। আকিব তাকে মারধর করে এবং সারাদিন কিছু না খেতে দিয়ে ঘরে আটকে রাখে। স্বামীর এই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে আবার ফিরে আসে নানানানির কাছে। নানা-নানি এতে ভীষণ কষ্ট পায়, তবু পরম যত্নে আগলে রাখে অসহায় জোবাইদাকে।
- ক)(1)
হাতে দুটো পয়সা এলে কার স্বভাব বদলে যায়?
- খ)(2)
আহ্লাদির দিকে তাকিয়ে বৃদ্ধ রহমানের চোখে জল আসে কেন? বুঝিয়ে দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আকিব চরিত্রটি ‘মাসি-পিসি’ গল্পের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের নানা-নানির অবস্থা ‘মাসি-পিসি’ গল্পের মাসি ও পিসির মতোই হৃদয় বিদারক।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাতে দুটো পয়সা এলে গোকুলের স্বভাব বদলে যায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আহ্লাদির দুর্ভাগ্যের সাথে নিজের মৃত মেয়ের দুঃখজনক পরিণতির মিল খুঁজে পেয়ে এবং তার প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকে বৃদ্ধ রহমানের চোখে জল আসে।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাসি-পিসি’ গল্পে রহমান আহ্লাদিকে দেখে নিজের মেয়ের কথা স্মরণ করে। রহমানের মেয়েও আহ্লাদির বয়সেই স্বামীর ঘরে গিয়ে অত্যাচারিত হয়ে অকালে মৃত্যুবরণ করেছিল। আহ্লাদির মতো কোমল এক যুবতীর ওপর তার স্বামীর নির্মম নির্যাতন ও বর্তমান অভিভাবকহীন বিপন্ন অবস্থা দেখে রহমানের পিতৃসুলভ হৃদয় ব্যথিত হয়ে ওঠে, যার কারণে তার চোখে জল চলে আসে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আকিব চরিত্রটি ‘মাসি-পিসি’ গল্পের আহ্লাদির স্বামী জগু চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘মাসি-পিসি’ গল্পে জগু আহ্লাদির চরিত্রহীন, লোভী ও পাশবিক প্রকৃতির স্বামী। সে আহ্লাদিকে ঘরে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। এমনকি তাকে খেতে না দিয়ে মারধর করত এবং ঘরের মধ্যে আটকে রেখে অত্যাচার করত। জগুর অত্যাচারের মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে আহ্লাদি একপর্যায়ে তার শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে মাসি-পিসির আশ্রয়ে চলে আসতে বাধ্য হয়।
উদ্দীপকের আকিবের আচরণেও জগুর এই নিষ্ঠুর রূপটি পুরোপুরি ফুটে উঠেছে। আকিব তার সদ্য বিবাহিতা এতিম স্ত্রী জোবাইদাকে মারধর করে, অনাহারে রেখে ঘরে আটকে রাখে। জগুর মতোই সে একজন পাষণ্ড ও দায়িত্বজ্ঞানহীন স্বামী, যার অমানুষিক নির্যাতনের কারণে জোবাইদা আবার তার নানা-নানির কাছে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। নারী নির্যাতন ও পাশবিকতার এই অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে আকিব চরিত্রটি সরাসরি জগুর প্রতিনিধিত্ব করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অসহায় নিঃস্বাবস্থায় চরম সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক নিগৃহীত মেয়েকে আগলে রাখার লড়াইয়ের দিক থেকে উদ্দীপকের নানা-নানির অবস্থা ‘মাসি-পিসি’ গল্পের মাসি ও পিসির মতোই হৃদয়বিদারক—মন্তব্যটি যথাযথ।
‘মাসি-পিসি’ গল্পে বিধবা মাসি ও পিসি উভয়েই ছিলেন সর্বহারা এবং সমাজে টিকে থাকার জন্য চরম লড়াইরত। আহ্লাদির বাবা-মা মহামারীতে মারা যাওয়ার পর তারা দুজন আহ্লাদিকে অপশক্তির হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব নেন। জগু এবং গ্রামের লম্পট জোতদারদের লোভাতুর দৃষ্টি থেকে আহ্লাদিকে রক্ষা করতে তারা দিন-রাত পরিশ্রম করতেন এবং বঁটি হাতে প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি নিতেন। তাঁদের জীবনসংগ্রাম ও আহ্লাদির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক।
উদ্দীপকের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডে বাবা-মা হারানো অনাথ জোবাইদাকে অতি কষ্টে লালন-পালন করে বিয়ে দিয়েছিলেন তার দরিদ্র নানা-নানি। কিন্তু স্বামীর ঘরে নির্যাতনের শিকার হয়ে মেয়েটি আবার তাঁদের কাছে ফিরে আসে। বৃদ্ধ ও আর্থিক অনটনে থাকা সত্ত্বেও নানা-নানি নিজেদের চরম কষ্টে দিনাতিপাত করে মেয়েটিকে পরম স্নেহে আগলে রাখেন। একদিকে ক্ষুধা ও বার্ধক্যের লড়াই, অন্যদিকে অসহায় নাতনির নষ্ট হয়ে যাওয়া জীবনের বেদনা তাঁদের অবস্থাকে করুণ করে তুলেছে।
সুতরাং দেখা যায়, মাসি-পিসির মতোই উদ্দীপকের নানা-নানি চরম দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বের মাঝেও এক নির্যাতিতা তরুণীকে আশ্রয় ও স্নেহের ছায়া দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা পাঠকহৃদয়কে গভীর বেদনায় আপ্লুত করে। তাই মন্তব্যটি সর্বাংশে যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও