ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র প্রশ্ন
সোনালী লি. এর অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজন হওয়ায় ২,০০০ শেয়ার বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এই শেয়ারহোল্ডারগণের কোনো ভোটাধিকার নাই, তবে নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পাবে। অন্যদিকে ইস্যুকৃত শেয়ারের মধ্যে ১,৫০০ শেয়ারের মালিকগণ পূর্ববর্তী বছরের বকেয়া লভ্যাংশ পরবর্তী বছরে প্রাপ্তির সুযোগ পাবেন। অবশিষ্ট ৫০০ শেয়ারের কোনো মেয়াদ নাই তবে মালিকগণ ৫ বছর পর কোম্পানির ভোটাধিকার পাওয়ার দাবিদার।
- ক)(1)
পুট বন্ড কী?
- খ)(2)
নিমজ্জিত তহবিল সৃষ্টি করা হয় কেন?,
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সোনালী লি. কর্তৃক ইস্যুকৃত ১,৫০০ শেয়ার কোন ধরনের শেয়ার? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মেয়াদহীন ৫০০টি শেয়ারের মালিকগণকে ভোটাধিকার প্রদানের কারণ ও ঐসব শেয়ারের ধরন বিশদভাবে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে বন্ডের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় বা মেয়াদের পূর্বে বন্ডধারীর ইচ্ছানুযায়ী ইস্যুকারী কোম্পানির কাছে বন্ডটি ফেরত দিয়ে লিখিত বা নির্দিষ্ট মূল্য ফেরত পাওয়ার অধিকার থাকে, তাকে পুট বন্ড (Put Bond) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদপূর্তিতে ঋণপত্র বা বন্ডের আসল মূল্য পরিশোধের জন্য প্রতি বছর মুনাফা থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আলাদা করে যে তহবিল গঠন করা হয়, তাকে নিমজ্জিত তহবিল বা সিঙ্কিং ফান্ড (Sinking Fund) বলে।
নিমজ্জিত তহবিল সৃষ্টির মূল কারণ হলো মেয়াদ শেষে বন্ড বা ঋণের টাকা এককালীন পরিশোধ করতে গিয়ে কোম্পানি যাতে কোনো প্রকার আর্থিক সংকটে বা তারল্য ঘাটতিতে না পড়ে। এই তহবিলে জমাকৃত অর্থ সাধারণত নিরাপদ লাভজনক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট সময় পর সুদসহ পর্যাপ্ত অর্থ জমা হয় এবং সহজে ঋণের দায় পরিশোধ করা সম্ভব হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সোনালী লি. কর্তৃক ইস্যুকৃত ১,৫০০ শেয়ার হলো 'সঞ্চয়ী বা পুঞ্জীভূত অগ্রাধিকার শেয়ার' (Cumulative Preference Share)।
যে অগ্রাধিকার শেয়ারে কোনো নির্দিষ্ট বছরে কোম্পানির অপর্যাপ্ত মুনাফার কারণে ঘোষিত লভ্যাংশ প্রদান সম্ভব না হলে, তা বকেয়া হিসেবে জমা থাকে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে পর্যাপ্ত মুনাফা হলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদানের পূর্বেই অতীতের সমস্ত বকেয়া লভ্যাংশ পরিশোধ করতে হয়, তাকে সঞ্চয়ী বা পুঞ্জীভূত অগ্রাধিকার শেয়ার বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সোনালী লি. অতিরিক্ত মূলধনের জন্য ২,০০০টি শেয়ার বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয় যাদের ভোটাধিকার নেই কিন্তু নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পাওয়ার অধিকার রয়েছে—অর্থাৎ এগুলো অগ্রাধিকার শেয়ার। এর মধ্যে ১,৫০০ শেয়ারের মালিকগণ পূর্ববর্তী বছরের বকেয়া লভ্যাংশ পরবর্তী বছরে প্রাপ্তির সুযোগ পাবেন। যেহেতু এই ১,৫০০ শেয়ারের ক্ষেত্রে বকেয়া লভ্যাংশ ভবিষ্যতে পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, তাই এটি সঞ্চয়ী অগ্রাধিকার শেয়ার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মেয়াদহীন ৫০০টি শেয়ার হলো 'অশোধনীয় বা চিরস্থায়ী অগ্রাধিকার শেয়ার' (Irredeemable/Perpetual Preference Share)। নিচে এর ধরন ও মালিকদের ভোটাধিকার প্রদানের কারণ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. শেয়ারের ধরন:
যেসব অগ্রাধিকার শেয়ারের অর্থ কোম্পানির জীবদ্দশায় বা নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে ফেরত দেওয়া হয় না, শুধুমাত্র কোম্পানি অবসায়নকালে মূলধন ফেরত দেওয়া হয়, সেগুলোকে অশোধনীয় বা চিরস্থায়ী অগ্রাধিকার শেয়ার বলে। উদ্দীপকের অবশিষ্ট ৫০০টি শেয়ারের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই, যার ফলে এটি স্পষ্টতই একটি অশোধনীয় বা মেয়াদহীন অগ্রাধিকার শেয়ার।২. ভোটাধিকার প্রদানের কারণ:
সাধারণত অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ভোটাধিকার থাকে না, কারণ তারা নির্দিষ্ট হারে নিয়মিত লভ্যাংশ ও অবসায়নে মূলধন ফেরতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন। তবে কোম্পানি আইনে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে তাদের সীমিত বা পূর্ণ ভোটাধিকার দেওয়া হয়:
ক. লভ্যাংশ বকেয়া থাকা: যদি কোম্পানি পরপর কয়েক বছর (সাধারণত দুই বা ততোধিক বছর) অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারদের নির্দিষ্ট লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ভোটাধিকার অর্পিত হয়।
খ. স্বার্থের পরিপন্থী সিদ্ধান্ত: যদি এমন কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যা উক্ত শ্রেণির শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে, তবে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার লাভ করেন।
গ. দীর্ঘমেয়াদি বা মেয়াদহীন বিনিয়োগ ঝুঁকি: যেহেতু ৫০০টি শেয়ারের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই (চিরস্থায়ী পুঁজি) এবং একটি দীর্ঘ সময় (৫ বছর) তারা কোম্পানিতে মূলধন বিনিয়োগ করে রেখেছে, তাই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় এবং ব্যবস্থাপনায় অংশীদারিত্ব দিতে কোম্পানি চুক্তির শর্তানুসারে ৫ বছর পর ভোটাধিকার প্রদানের বিধান রেখেছে।অতএব, দীর্ঘমেয়াদে মূলধন ধরে রাখা এবং তাদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হলো মেয়াদহীন এই ৫০০টি শেয়ারের মালিকদের ৫ বছর পর ভোটাধিকার দাবিদার হওয়ার প্রধান কারণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও