‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ছকটি দেখ এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

  1. ক)

    ১৯৫৮ সালে কে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন?

    (1)
  2. খ)

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন নির্বাচনের ইঙ্গিত রয়েছে? উক্ত নির্বাচনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত নির্বাচনে কোন জোট জয়লাভ করে এবং তাদের বিজয়ের কারণসমূহ আলোচনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা সামরিক শাসন জারি করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার ছাত্র ও যুবসমাজ বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। তাঁদের এই আত্মত্যাগকে বিশ্বপরিমণ্ডলে সম্মান জানাতে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কো (UNESCO) ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের সকল দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এটি দ্বারা পৃথিবীর প্রতিটি জাতির মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা ও ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণের চেতনাকে বোঝায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের ইঙ্গিত রয়েছে।

    ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট:
    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য শুরু করে। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে পাকিস্তানি শাসকদের দমননীতি ও বাংলা ভাষার ওপর আঘাত পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং পূর্ব পাকিস্তানের পাট ও অন্যান্য সম্পদ থেকে অর্জিত আয় পশ্চিম পাকিস্তানে স্থানান্তর করা হয়। পাশাপাশি, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবির প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের অবহেলা বাঙালি জনগণকে চরমভাবে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সাত বছর কোনো সাধারণ নির্বাচন না দিয়ে সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত জনগণের তীব্র দাবির মুখে ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে জনরোষকে একত্রিত করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উদ্দেশ্যে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রজা পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং খেলাফতে রব্বানী পার্টির সমন্বয়ে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠিত হয়। এভাবে পূর্ব বাংলার সামগ্রিক শোষণ ও বৈষম্যের প্রেক্ষাপটেই ১৯৫৪ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে 'যুক্তফ্রন্ট' জয়লাভ করে। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'নৌকা' এবং মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন (মুসলিম আসনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা) পেয়ে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।

    যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের প্রধান কারণসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক শাসন ও জনবিচ্ছিন্নতা: পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুসলিম লীগ সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিপরীতে কাজ করে জনপ্রিয়তা হারায় এবং দুর্নীতি ও অপশাসনে জড়িয়ে পড়ে।
    ২. ২১ দফার জনপ্রিয়তা: যুক্তফ্রন্ট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঐতিহাসিক '২১ দফা' কর্মসূচি ঘোষণা করে। বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা, জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ, পাট শিল্প জাতীয়করণ, অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা এবং পূর্ব বাংলার পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দাবিসংবলিত এই ২১ দফা জনগণের আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে।
    ৩. শীর্ষ নেতৃত্বের ঐক্য: মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো দূরদর্শী ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় জাতীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচার জনগণকে উদ্বেলিত করেছিল। শেখ মুজিবুর রহমানসহ তরুণ নেতৃত্বের গতিশীল প্রচার ছিল অন্যতম চালিকাশক্তি।
    ৪. ছাত্র ও যুবসমাজের সক্রিয় ভূমিকা: বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে তরুণ ও ছাত্রসমাজ যুক্তফ্রন্টের পক্ষে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী প্রচার পরিচালনা করে।
    ৫. অর্থনৈতিক সংকট ও বৈষম্য: নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, লবণের সংকট এবং পাকিস্তানি শাসকদের একচেটিয়া শোষণের কারণে কৃষক, শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত সাধারণ জনগণ মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে যুক্তফ্রন্টকে নির্বাচিত করে।

    অতএব, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সমন্বয় এবং পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ হিসেবেই যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন