যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: একজন ডায়াবেটিক রোগীর রোগ শনাক্তের জন্য খাওয়ার পূর্বে এবং খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর পরীক্ষাগারে রক্ত পরীক্ষা করে ডাক্তার চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হন তার ডায়াবেটিক হয়েছে।দৃশ্যকল্প-২: বারী সাহেব বাজার থেকে আম ক্রয় করতে যান। আম বিক্রেতা একটি আম ঝুঁড়ি থেকে খেতে দেন। বিক্রেতা বলেন, ঝুড়ির সব আমই মিষ্টি। বারী সাহেব বলেন, সব আম খেলে বুঝতে পারবো সব আম মিষ্টি কি-না।
- ক)(1)
কার্যকারণ নিয়ম কী?
- খ)(2)
অবৈজ্ঞানিক আরোহ কি প্রকৃত আরোহ?
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ধরনের প্রকৃত আরোহের ইঙ্গিত আছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ যে ধরনের আরোহের প্রতিফলন ঘটেছে তাকে প্রকৃত আরোহ বলা যায় কি? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কার্যকারণ নিয়ম হলো প্রকৃতির একটি মৌলিক নিয়ম, যার মূল কথা হলো প্রতিটি ঘটনারই একটি কারণ থাকে এবং কারণ ছাড়া কোনো কার্য সংঘটিত হতে পারে না।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, অবৈজ্ঞানিক আরোহ হলো প্রকৃত আরোহ। যুক্তিবিদ মিলের মতে, প্রকৃত আরোহের মূল লক্ষণ বা প্রাণকেন্দ্র হলো 'আরোহমূলক লম্ফ'। অবৈজ্ঞানিক আরোহে কোনো কার্যকারণ সম্পর্কের নির্ণয় ছাড়াই কেবল অনুকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জ্ঞাত বা বিশেষ কিছু দৃষ্টান্ত থেকে অজ্ঞাত বা সমগ্র সম্পর্কে একটি সার্বিক সংশ্লেষক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখানে আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত থাকায় এটি একটি প্রকৃত আরোহ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ প্রকৃত আরোহের অন্যতম রূপ 'বৈজ্ঞানিক আরোহের' ইঙ্গিত রয়েছে।
প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি বিশেষ বস্তু বা ঘটনার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য স্থাপন করার প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। বৈজ্ঞানিক আরোহে পরীক্ষাগারের সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ও বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষণ পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একজন ডায়াবেটিক রোগীর রোগ নিশ্চিত করার জন্য খাওয়ার আগে ও দুই ঘণ্টা পর রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এই বৈজ্ঞানিক ও পরীক্ষাগার-ভিত্তিক রক্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমেই ডায়াবেটিসের কারণ ও কার্য নির্ধারণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে। যেহেতু এখানে কার্যকারণ সম্পর্কের অনুসন্ধান ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, তাই এটি বৈজ্ঞানিক আরোহের উদাহরণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ প্রতিফলিত আরোহটি হলো পূর্ণাঙ্গ আরোহ (Perfect Induction), যাকে প্রকৃত আরোহ বলা যায় না।
উদ্দীপকে বারী সাহেব ঝুড়ির প্রতিটি আম পরখ করে দেখার কথা বলেছেন, যা পূর্ণাঙ্গ আরোহের বৈশিষ্ট্য। পূর্ণাঙ্গ আরোহে একটি শ্রেণির প্রতিটি দৃষ্টান্তকে পৃথক পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণ বা গণনা করে সেই শ্রেণির ওপর একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত স্থাপন করা হয়। এখানে কোনো অজ্ঞাত দৃষ্টান্তের দিকে যাওয়ার সুযোগ বা 'আরোহমূলক লম্ফ' থাকে না।
যুক্তিবিদ মিল ও বেইনের মতে, 'আরোহমূলক লম্ফ' (জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে, বিশেষ থেকে সার্বিকে পদার্পণ) হলো প্রকৃত আরোহের প্রধান ও অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। পূর্ণাঙ্গ আরোহে যেহেতু কোনো লম্ফ থাকে না এবং পরিচিত সমস্ত ক্ষেত্র আগেই গণনা করে ফেলা হয়, তাই এতে নতুন কোনো জ্ঞান পাওয়া যায় না। এটি কেবল সংগৃহীত তথ্যের সংক্ষেপীকরণ মাত্র। অতএব, যুক্তিবিদ্যার নিয়মানুযায়ী দৃশ্যকল্প-২ এর এই আরোহকে 'অপ্রকৃত আরোহ' বলা হয়, একে প্রকৃত আরোহ বলা যায় না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও