যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃষ্টান্ত-১: চিকিৎসক হয় বুদ্ধিমান জীব।দৃষ্টান্ত-২: মানুষ হয় বুদ্ধিমান জীব।দৃষ্টান্ত-৩ : মানুষ হয় বিবেকবান ও সৃষ্টিশীল।
- ক)(1)
যৌক্তিক সংজ্ঞার অংশ কয়টি ও কী কী?
- খ)(2)
সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতা বলতে কী বুঝ ?
- গ)(3)
দৃষ্টান্ত -১ এর সংজ্ঞাটিতে সংঘটি অনুপপত্তি নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
পাঠ্যবইয়ের আলোকে দৃষ্টান্ত-২ এবং ৩ এর মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌক্তিক সংজ্ঞার অংশ দুটি; যথা: সংজ্ঞেয় পদ এবং সংজ্ঞার্থ পদ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যায় সব পদের যৌক্তিক সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয়; যেসব সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু পদের সংজ্ঞা দেওয়া যায় না, তাকে সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতা বলে। যেমন—পরতম জাতি, বিশিষ্ট নামবাচক পদ বা একক ব্যক্তি, মৌলিক গুণ বা অনুভূতি প্রভৃতির সংজ্ঞা দেওয়া যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-১ এর সংজ্ঞাটিতে 'অতিব্যাপ্ত সংজ্ঞা অনুপপত্তি' সংঘটিত হয়েছে।
সংজ্ঞার নিয়ম অনুযায়ী, সংজ্ঞেয় পদ এবং সংজ্ঞার্থ পদের ব্যক্ত্যর্থ সর্বদা সমান হতে হবে; অর্থাৎ জাত্যর্থের কম-বেশি উল্লেখ করা যাবে না। কিন্তু কোনো সংজ্ঞায় যদি সংজ্ঞেয় পদের চেয়ে কম জাত্যর্থ উল্লেখ করা হয়, তবে সংজ্ঞার্থ পদের ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে যায় এবং সেখানে 'অতিব্যাপ্ত সংজ্ঞা অনুপপত্তি' ঘটে।
উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ বলা হয়েছে: 'চিকিৎসক হয় বুদ্ধিমান জীব।' এখানে সংজ্ঞেয় পদ হলো 'চিকিৎসক'। কিন্তু 'বুদ্ধিমান জীব' চিকিৎসকের পূর্ণাঙ্গ জাত্যর্থ নয়, এটি কেবল চিকিৎসকের একটি অংশ এবং এটি সমগ্র মানবজাতিকে নির্দেশ করে। ফলে চিকিৎসকের বিশেষ জাত্যর্থ বা পেশাগত গুণ উল্লেখ না করায় এর ব্যক্ত্যর্থ চিকিৎসক ছাড়িয়ে অন্যান্য সব মানুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়ে পড়েছে। এভাবে সংজ্ঞার্থের ব্যক্ত্যর্থ সংজ্ঞেয় পদের চেয়ে বেশি হয়ে যাওয়ায় এখানে অতিব্যাপ্ত সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাঠ্যবইয়ের আলোকে দৃষ্টান্ত-২ হলো একটি যথার্থ যৌক্তিক সংজ্ঞা এবং দৃষ্টান্ত-৩ হলো একটি বর্ণনা বা বিবরণ। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. সংজ্ঞার প্রকৃতি ও নিয়মানুযায়ী বিশ্লেষণ:
দৃষ্টান্ত-২ এ বলা হয়েছে—"মানুষ হয় বুদ্ধিমান জীব।" যুক্তিবিজ্ঞান অনুসারে কোনো পদের সংজ্ঞা দিতে হলে তার আসন্নতম জাতি এবং ব্যবচ্ছেদক গুণ নির্দেশ করে পূর্ণ জাত্যর্থ ব্যক্ত করতে হয়। মানুষের আসন্নতম জাতি হলো 'জীব' (বা জীববৃত্তি) এবং ব্যবচ্ছেদক গুণ হলো 'বুদ্ধিমত্তা'। দৃষ্টান্ত-২ এ এই দুটি অপরিহার্য জাত্যর্থ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করায় সংজ্ঞেয় পদ ও সংজ্ঞার্থ পদের ব্যক্ত্যর্থ সমান হয়েছে। অতএব, এটি মানুষের একটি সঠিক ও নিখুঁত যৌক্তিক সংজ্ঞা।২. বর্ণনামূলক প্রকৃতি বিশ্লেষণ:
অন্যদিকে, দৃষ্টান্ত-৩ এ বলা হয়েছে—"মানুষ হয় বিবেকবান ও সৃষ্টিশীল।" 'বিবেকবান' ও 'সৃষ্টিশীল' গুণ দুটি মানুষের মৌলিক জাত্যর্থ নয়, বরং জাত্যর্থ থেকে উদ্ভূত উপলক্ষণ বা অবান্তর লক্ষণ। সংজ্ঞায় জাত্যর্থের বদলে উপলক্ষণ বা অবান্তর গুণাবলি উল্লেখ করলে তা সংজ্ঞা না হয়ে 'বিবরণ' বা বর্ণনায় রূপ নেয়। তাই দৃষ্টান্ত-৩ কোনো যৌক্তিক সংজ্ঞা নয়, এটি মানুষের একটি বিবরণ।৩. ব্যক্ত্যর্থের সমতা:
দৃষ্টান্ত-২ এ সংজ্ঞেয় এবং সংজ্ঞার্থ পদের বিস্তৃতি সমান হওয়ায় এটি নিয়মসম্মত। কিন্তু দৃষ্টান্ত-৩ এ সম্পূর্ণ জাত্যর্থ সুস্পষ্ট না করে কেবল কিছু সহায়ক বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ রয়েছে।সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, দৃষ্টান্ত-২ হলো যুক্তিবিদ্যার নিয়মানুযায়ী মানুষের নির্ভুল যৌক্তিক সংজ্ঞা এবং দৃষ্টান্ত-৩ হলো কেবল তার একটি আনুসঙ্গিক বিবরণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও