বিজ্ঞান • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
বিজ্ঞান প্রশ্ন
শামীমা বাড়ির সব কাজে এবং রান্নার কাজেও নদীর পানি ব্যবহার করে। কিন্তু নদীর পানিতে জীবাণু থাকায় এক সমাজকর্মী তাকে এই পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। সমাজকর্মী বলেন যে, নদীর পানি প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে এবং তা রোধ করতে জনসচেতনতাই একমাত্র পন্থা।
- ক)(1)
লোনা পানি কাকে বলে?
- খ)(2)
পানিকে উভধর্মী পদার্থ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের পদার্থকে বোতলজাত করার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সমাজকর্মীর শেষ উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সমুদ্রের পানিতে প্রচুর লবণ থাকে, তাই সমুদ্রের পানিকে লোনা পানি (Marine water) বলে।
- খ)
পানি কখনো এসিড হিসেবে, কখনো ক্ষার হিসেবে কাজ করতে পারে। সাধারণত এসিডের উপস্থিতিতে পানি ক্ষার হিসেবে আচরণ করে, আর ক্ষারের উপস্থিতিতে পানি এসিড হিসেবে আচরণ করে। অর্থাৎ পানির মধ্যে এসিড ও ক্ষার উভয় ধরনের ধর্ম আছে। এ কারণে পানিকে উভধর্মী পদার্থ বলা হয়।
- গ)
উদ্দীপকের পদার্থটি পানি। নদীর পানিকে বোতলজাত করার পদ্ধতি নিচে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হলো।
১. পরিস্রাবণ: প্রথমে পানিকে বালির স্তর বা উন্নতমানের ফিল্টারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয়। এতে পানিতে অদ্রবণীয় ধুলাবালি ও ময়লার কণা আটকে যায়।
২. জীবাণুমুক্তকরণ: নদীর পানিতে রোগজীবাণু থাকে বলে তা অবশ্যই দূর করতে হয়। বোতলজাত পানির কারখানায় এ জন্য ওজোন গ্যাস (O₃) বা অতিবেগুনি রশ্মি ব্যবহার করা হয়। ক্লোরিনের মতো জীবাণুনাশকও ব্যবহার করা যায়।
৩. বোতলজাতকরণ: জীবাণুমুক্ত ও বিশুদ্ধ পানি এরপর পরিষ্কার বোতলে ভরে সিল করা হয়।
আরও বিশুদ্ধ পানির (যেমন- ওষুধ তৈরির জন্য) প্রয়োজন হলে পাতন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- ঘ)
সমাজকর্মীর শেষ উক্তি, “নদীর পানি প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে এবং তা রোধ করতে জনসচেতনতাই একমাত্র পন্থা”, আংশিক যথার্থ। জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে একমাত্র পন্থা নয়।
১. জনসচেতনতার গুরুত্ব: শহরের পানিদূষণকারী বর্জ্যের বড় অংশ আসে বাসাবাড়ি থেকে। অ্যারোসল, রং, পরিষ্কারক ও কীটনাশকের কৌটা যেখানে-সেখানে ফেলে দিলে তা পানি দূষিত করে। মানুষ সচেতন হলে এগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলবে। রেডিও-টেলিভিশনে প্রচার ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের পোস্টার তৈরি এ ক্ষেত্রে কাজে আসে।
২. অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা: শিল্পকারখানার বর্জ্যপানিকে বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থার (ETP) মাধ্যমে পরিশোধন করে নদীতে ফেলতে হবে। জলাভূমি ও বনভূমি রক্ষা করতে হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ছিদ্রযুক্ত পদার্থ ব্যবহার করে পানির ময়লা নদীতে পড়া কমাতে হবে।
৩. আইনের প্রয়োগ: দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সুতরাং, জনসচেতনতা দূষণ প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ উপায়, কিন্তু সরকারি পদক্ষেপ, প্রযুক্তি ও আইনের সাথে মিলিয়ে এটি প্রয়োগ করলেই নদীর পানি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও