অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

"X" দেশে ২০১৮ ও ২০২২ সালে বিভিন্ন বিজ্ঞ পণ্যের দাম এবং পরিমাণের তালিকা নিচে প্রদত্ত হলো। উক্ত দেশের সরকার দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দেশি-বিদেশি ঋণ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। এছাড়াও করোনা কালীন স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে সুদের হার হ্রাসসহ উৎপাদনকারীদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ সুবিধা প্রদান করে।

  1. ক)

    মুদ্রাস্ফীতি কি?

    (1)
  2. খ)

    অর্থের অবমূল্যায়ন মুদ্রাস্ফীতির উপর কিরূপ প্রভাব ফেলে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক থেকে ভোক্তার দাম সূচক নিম্নে নির্ণয় কর

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারের পদক্ষেপ গুলো দেশের অর্থনীতিতে কী রকম প্রভাব ফেলবে?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনীতিতে সামগ্রিক দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত এবং দীর্ঘস্থায়ী ঊর্ধ্বগতিকে মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থের অবমূল্যায়ন বলতে বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে দেশীয় মুদ্রার মান বা বিনিময় হার হ্রাস করাকে বোঝায়। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায়।

    দেশীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানিকৃত পণ্যের খরচ দেশীয় মুদ্রায় বৃদ্ধি পায়। আমদানিকৃত কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক উৎপাদন খরচ বাড়ে, যা আমদানিজনিত মুদ্রাস্ফীতি (Imported Inflation) তৈরি করে। তাছাড়া দেশীয় মুদ্রা সস্তা হওয়ায় রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়ে সামগ্রিক চাহিদা বাড়ে, যা চাহিদা-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করতে সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ২০১৮ সালকে ভিত্তি বছর (00) এবং ২০২২ সালকে চলতি বছর (nn) বিবেচনা করে ভোক্তার দাম সূচক (Consumer Price Index - CPI) নির্ণয় করা হলো।

    ভোক্তার দাম সূচক নির্ণয়ের সূত্র:
    CPI=∑PnQ0∑P0Q0×100CPI = \frac{\sum P_n Q_0}{\sum P_0 Q_0} \times 100

    এখানে,
    P0P_0 = ভিত্তি বছরের (২০১৮) দাম
    Q0Q_0 = ভিত্তি বছরের (২০১৮) ভোগকৃত পরিমাণ
    PnP_n = চলতি বছরের (২০২২) দাম

    সারণি থেকে মানসমূহ গণনা করা হলো:
    ১. চাল:

    • P0Q0=৫০×৩০=১৫০০P_0 Q_0 = ৫০ \times ৩০ = ১৫০০ টাকা
    • PnQ0=৬০×৩০=১৮০০P_n Q_0 = ৬০ \times ৩০ = ১৮০০ টাকা

    ২. লবণ:

    • P0Q0=২৫×২=৫০P_0 Q_0 = ২৫ \times ২ = ৫০ টাকা
    • PnQ0=৩০×২=৬০P_n Q_0 = ৩০ \times ২ = ৬০ টাকা

    ৩. আলু:

    • P0Q0=২০×১০=২০০P_0 Q_0 = ২০ \times ১০ = ২০০ টাকা
    • PnQ0=৩০×১০=৩০০P_n Q_0 = ৩০ \times ১০ = ৩০০ টাকা

    ৪. তেল:

    • P0Q0=১০০×৫=৫০০P_0 Q_0 = ১০০ \times ৫ = ৫০০ টাকা
    • PnQ0=১৮০×৫=৯০০P_n Q_0 = ১৮০ \times ৫ = ৯০০ টাকা

    অতএব,
    ∑P0Q0=১৫০০+৫০+২০০+৫০০=২২৫০\sum P_0 Q_0 = ১৫০০ + ৫০ + ২০০ + ৫০০ = ২২৫০ টাকা
    ∑PnQ0=১৮০০+৬০+৩০০+৯০০=৩০৬০\sum P_n Q_0 = ১৮০০ + ৬০ + ৩০০ + ৯০০ = ৩০৬০ টাকা

    সুতরাং, ভোক্তার দাম সূচক (CPI):
    CPI=৩০৬০২২৫০×১০০=১৩৬CPI = \frac{৩০৬০}{২২৫০} \times ১০০ = ১৩৬

    অতএব, ২০২২ সালের ভোক্তার দাম সূচক হলো ১৩৬। অর্থাৎ ভিত্তি বছরের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় ৩৬% বৃদ্ধি পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' দেশের সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো— দেশি-বিদেশি ঋণ নিয়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, সুদের হার হ্রাস এবং উৎপাদনকারীদের প্রণোদনা প্যাকেজ সুবিধা প্রদান। এই পদক্ষেপগুলো দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

    ১. ইতিবাচক প্রভাব:

    • উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি: সুদের হার হ্রাস এবং আর্থিক প্রণোদনা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ব্যয় কমাতে সাহায্য করে, যা উৎপাদন বৃদ্ধি ও ব্যবসা সম্প্রসারণে প্রেরণা জোগায়।
    • কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার: মহামারি পরবর্তী অর্থনৈতিক স্থবিরতা দূর করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
    • অবকাঠামোগত উন্নয়ন: দেশি-বিদেশি ঋণের মাধ্যমে অবকাঠামো শক্তিশালী হলে দীর্ঘমেয়াদে পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

    ২. নেতিবাচক প্রভাব:

    • মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি: সুদের হার হ্রাস এবং প্রণোদনার কারণে বাজারে অর্থের যোগান বৃদ্ধি পাবে। ফলে জনগণের হাতে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়ায় সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, যা মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দেবে।
    • ঋণের বোঝা ও সুদের চাপ: অতিরিক্ত দেশি-বিদেশি ঋণ নেওয়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের দেনা ও সুদ পরিশোধের চাপ বৃদ্ধি পাবে। যদি গৃহীত প্রকল্পগুলো সময়মতো এবং লাভজনকভাবে বাস্তবায়িত না হয়, তবে তা অর্থনৈতিক সংকটের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    উপসংহার: সরকারের পদক্ষেপগুলো স্বল্পমেয়াদে করোনা মহামারিজনিত স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হলেও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক ঋণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন