অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের কৃষি এখনও প্রকৃতির ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। বিশ্বব্যাপী অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, নগরায়ণ, কার্বন নির্গমন ইত্যাদির প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এর প্রভাবে বন্যা, খরা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ইত্যাদি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বংলাদেশের কৃষি অতিমাত্রায় ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষি কার্যক্রমের অভিযোজন কৌশল বাস্তবায়নের জন্য সরকার একটি তহবিল গঠনসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
- ক)(1)
কৃষি ঋণ কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশের কৃষি কি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
বাংলাদেশের কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবসমূহ উদ্দীপকের আলোকে আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সরকার কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রমগুলো উদ্দীপকের আলোকে আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষি উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা, কৃষি উপকরণের ক্রয় এবং আনুষঙ্গিক কাজের ব্যয় নির্বাহের জন্য কৃষক যে ঋণ গ্রহণ করে, তাকে কৃষি ঋণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, বাংলাদেশের কৃষি এখনও বহুলাংশে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। এ দেশের কৃষিকাজে সেচ, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও ঋতুচক্রের প্রাকৃতিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে ফসলের ভালো ফলন হয়। অন্যদিকে খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা অতিরিক্ত শিলাবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। আধুনিক সেচ ও প্রযুক্তির কিছুটা বিস্তার ঘটলেও সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের কৃষি এখনও প্রকৃতির আচরণের ওপর ব্যাপকভাবে সংবেদনশীল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের নানাবিধ নেতিবাচক প্রভাব ফুটে উঠেছে। নিচে প্রভাবসমূহ আলোচনা করা হলো:
১. প্রাকৃতিক দুর্যোগের পৌনঃপুনিকতা: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, খরা ও জলোচ্ছ্বাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ও দণ্ডায়মান ফসল নষ্ট হয়।
২. লবণাক্ততা বৃদ্ধি: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে চাষযোগ্য জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে এবং সেখানে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
৩. ঋতুচক্রের পরিবর্তন ও ফলন হ্রাস: তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের ফলে ফসলের জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে, পোকামাকড় ও রোগের বিস্তার বাড়ছে এবং সার্বিকভাবে কৃষি উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে।উদ্দীপকের আলোকে স্পষ্ট যে, জলবায়ুর এসব প্রতিকূল পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষিকে অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় উদ্দীপকে উল্লেখিত সরকারের অভিযোজন কৌশল ও তহবিল গঠনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও কার্যকর। নিচে এসব কার্যক্রম আলোচনা করা হলো:
১. অভিযোজন তহবিল গঠন: উদ্দীপকে উল্লিখিত 'বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড' (BCCTF)-এর মতো তহবিল গঠনের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
২. সহনশীল জাত উদ্ভাবন: জলবায়ুর ঝুঁকি এড়াতে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে লবণাক্ততাসহিষ্ণু, খরাসহিষ্ণু ও জলমগ্নতাসহিষ্ণু উফশী ফসলের জাত উদ্ভাবন ও কৃষকদের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
৩. সেচ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন: উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং আধুনিক ড্রিপ ও স্প্রিংকলার সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটানো হচ্ছে।
৪. কৃষি পুনর্বাসন ও সচেতনতা: দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার বিতরণ এবং শস্য বহুমুখীকরণ ও ভাসমান বেডে সবজি চাষের মতো বিকল্প কৃষি পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।পরিশেষে বলা যায়, সরকারের এসব সমন্বিত অভিযোজন কার্যক্রম জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি কমিয়ে বাংলাদেশের কৃষির ধারাবাহিকতা ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও