ইতিহাস ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
দাদু তার নাতিকে এমন একজন ভাষা শহিদের গল্প শোনালেন যিনি পাকিস্তান সরকারের সচিবালয়ের পিয়ন ছিলেন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তারিখে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলে যোগ দিয়ে তিনি পুলিশের গুলিতে আহত হন। দেড় মাস ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে সংগ্রাম করে অবশেষে তিনি মারা যান। মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে সম্মানিত করা হয়। তার নামে একটি গ্রাম ও একটি ফোটিবিয়াস নামকরণ করা হয়।
- ক)(1)
কে সর্বপ্রথম বাংলাদেশের শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন?
- খ)(2)
'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' পটভূমির সূচনায় প্রবাসী বাঙালিদের অবদান সংক্ষেপে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ভাষা শহিদের ন্যায় দুইজন ভাষা শহিদের পরিচয় দাও।
- ঘ)(4)
শহিদদের আত্মত্যাগই ভাষা আন্দোলনের গতিকে তাৎপর্যময় করে তোলে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন শহিদ শফিউর রহমানের পিতা মাহবুবুর রহমান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একুশে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতির পটভূমিতে কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশি রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালামের অবদান ছিল অগ্রগণ্য। ১৯৯৮ সালে তারা 'মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স অব দ্য ওয়ার্ল্ড' নামক সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতিসংঘে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাঠান। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক তৎপরতায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সচিবালয়ের পিয়ন ভাষা শহিদ আবদুস সালামের কথা বলা হয়েছে। তার ন্যায় আরও দুইজন ভাষা শহিদের পরিচয় নিচে দেওয়া হলো:
১. শহিদ রফিকউদ্দিন আহমদ: তিনি মানিকগঞ্জ জেলার দেবেন্দ্র কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে তিনি প্রথম শহীদ হন। তার মাথায় গুলি লেগে মাথার খুলি উড়ে যায়।
২. শহিদ বরকত (আবুল বরকত): তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এম.এ. ক্লাসের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিলে যোগ দিলে পুলিশের গুলিতে মারাত্মক আহত হন এবং সেদিন রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহিদদের আত্মত্যাগ আন্দোলনটির গতিপথকে শুধুমাত্র তীব্রই করেনি, বরং বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তিকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার যে অন্যায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রাজপথে নামে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেওয়ার পর এই আন্দোলন আর কেবল ভাষার দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি স্বাধিকার ও মুক্তির সংগ্রামে রূপ নেয়। সাধারণ মানুষ, শ্রমিক, কর্মচারী সবাই এ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
শহিদদের রক্তের বিনিময়ে সরকার ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমেই বাঙালি উপলব্ধি করে যে রক্তের বিনিময়ে দাবি আদায় সম্ভব। ফলে ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনে প্রধান প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও