বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বাবুল নাইট গার্ডের চাকরি করে। রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ডিউটি। দোকানের মালামাল, রাস্তার নির্মাণ সামগ্রী, জানমালের নিরাপত্তা বিধান সহ নানা গুরুদায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সারারাত তাকে জেগে থাকতে হয়। বিনিময়ে সে বেতন পায়, তা দিয়ে সংসার চালানো দায়। তার দুঃখের বোঝা যেন কখনোই শেষ হয় না ।
- ক)(1)
‘রানার’ কবিতায় রানার সবচেয়ে বড় ভয় কিসে?
- খ)(2)
‘জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কেড়ে নিয়েছে অল্প দামে।’ এ চরণ দ্বারা কবি কি বুঝিয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বাবুলের সাথে ‘রানার’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকটি ‘রানার’ কবিতার সমগ্র ভাব বহন করে না ।” - মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- খ)
এ চরণ দ্বারা কবি বুঝিয়েছেন, মালিক বা শোষক শ্রেণি অতি অল্প মজুরির বিনিময়ে রানারের শ্রম ও বিশ্রামের সময় কিনে নিয়েছে। রানার সারা রাত জেগে কাজ করে, কিন্তু বিনিময়ে যা পায় তা তার প্রাপ্যের তুলনায় নগণ্য। এভাবে তার জীবনের রাতগুলো, অর্থাৎ বিশ্রাম ও আনন্দের সময়, শোষণের শিকার হয়েছে।
- গ)
উদ্দীপকের বাবুলের সঙ্গে ‘রানার’ কবিতার কঠোর পরিশ্রম, দায়িত্ব পালন এবং অল্প মজুরিতে দুঃখময় জীবন-এর দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
বাবুল রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত জেগে থেকে মালামাল ও মানুষের নিরাপত্তার গুরুদায়িত্ব পালন করে। কিন্তু যে বেতন পায়, তা দিয়ে সংসার চলে না। কবিতার রানারও রাতের পর রাত জেগে ডাক পৌঁছে দেয়, অথচ তার মজুরি সামান্য এবং জীবন দুঃখে ভরা। দুজনই শ্রমের উপযুক্ত মূল্য থেকে বঞ্চিত।
- ঘ)
মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে কেবল শ্রমিকের দুঃখ-কষ্টের একটি দিক এসেছে, কিন্তু ‘রানার’ কবিতার ভাব আরও বিস্তৃত।
১. উদ্দীপকে বাবুলের দুঃখের বোঝা শেষ না হওয়ার কথা আছে। কবিতায় রানারের দুঃখের পাশাপাশি তার প্রতি কবির গভীর সহানুভূতি ও শোষকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।
২. কবিতায় শোষিত মানুষের জাগরণের সম্ভাবনা এবং শোষণহীন নতুন ভোরের আশাবাদ আছে। উদ্দীপকে সেই আশাবাদ নেই।
৩. কবিতায় রানারের ছুটে চলার মধ্য দিয়ে বঞ্চিত মানুষের মুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীকী ব্যঞ্জনা এসেছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।সুতরাং, উদ্দীপকটি ‘রানার’ কবিতার সমগ্র ভাব বহন করে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও