উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৬

উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন

২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে ২টি দেশের জাতীয় আয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য নিম্নরূপ:

বিবরণ | ক (কোটি ডলার) | খ (কোটি ডলার)
মোট বেসরকারি ভোগ ব্যয় | ২০,০০০ | ২৫,০০০
মোট বেসরকারি বিনিয়োগ ব্যয় | ১৫,০০০ | ১৭,০০০
মোট সরকারি ব্যয় | ৮,০০০ | ১০,০০০
রপ্তানি থেকে আয় | ৫,০০০ | ৮,০০০
আমদানি খাতে ব্যয় | ৩,০০০ | ৫,০০০
জনসংখ্যা | ১৫ কোটি | ২০ কোটি

  1. ক)

    মোট জাতীয় উৎপাদন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    হস্তান্তর পাওনা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ‘খ’ দেশের জাতীয় আয় নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে কোন দেশের জনসাধারণের সঞ্চয়ের সুযোগ বেশি? উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক দেশের ভেতরে ও বাইরে মোট যে পরিমাণ চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবা উৎপাদিত হয়, তার বাজারমূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বর্তমান অর্থনৈতিক উৎপাদনে বা কোনো উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ অবদান না রেখে সরকার বা অন্য কোনো উৎস থেকে যে অর্থ বা আয় পাওয়া যায়, তাকে হস্তান্তর পাওনা বা হস্তান্তর ব্যয় বলে।

    যেমন— বয়স্ক ভাতা, বেকার ভাতা, ছাত্রবৃত্তি, পেনশন ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে কোনো সেবা বা পণ্য বিনিময়ে প্রদান করতে হয় না; বরং এটি এক পক্ষের আয় থেকে অন্য পক্ষের নিকট আয়ের একটি একমুখী হস্তান্তর মাত্র। যেহেতু এর বিপরীতে কোনো নতুন উৎপাদন সংঘটিত হয় না, তাই জাতীয় আয় গণনায় হস্তান্তর পাওনা অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যয় পদ্ধতিতে জাতীয় আয় নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:
    জাতীয় আয় (Y) = C + I + G + (X - M)
    যেখানে,
    C = মোট বেসরকারি ভোগ ব্যয়
    I = মোট বেসরকারি বিনিয়োগ ব্যয়
    G = মোট সরকারি ব্যয়
    X = রপ্তানি আয়
    M = আমদানি ব্যয়

    উদ্দীপক অনুযায়ী 'খ' দেশের ক্ষেত্রে:
    C = ২৫,০০০ কোটি ডলার
    I = ১৭,০০০ কোটি ডলার
    G = ১০,০০০ কোটি ডলার
    X = ৮,০০০ কোটি ডলার
    M = ৫,০০০ কোটি ডলার

    অতএব, 'খ' দেশের জাতীয় আয় (Y):
    = ২৫,০০০ + ১৭,০০০ + ১০,০০০ + (৮,০০০ - ৫,০০০) কোটি ডলার
    = ৫২,০০০ + ৩,০০০ কোটি ডলার
    = ৫৫,০০০ কোটি ডলার।

    সুতরাং, 'খ' দেশের জাতীয় আয় ৫৫,০০০ কোটি ডলার।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে 'ক' দেশের তুলনায় 'খ' দেশের জনসাধারণের সঞ্চয়ের সুযোগ বেশি। নিম্নে তথ্যের আলোকে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    আমরা জানি,
    মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয় ÷ মোট জনসংখ্যা

    'গ' হতে আমরা পাই, 'খ' দেশের জাতীয় আয় = ৫৫,০০০ কোটি ডলার।
    'খ' দেশের জনসংখ্যা = ২০ কোটি।
    অতএব, 'খ' দেশের মাথাপিছু আয় = ৫৫,০০০ কোটি ডলার ÷ ২০ কোটি = ২,৭৫০ ডলার।

    অন্যদিকে, 'ক' দেশের জাতীয় আয় (Y) নির্ণয় করি:
    Y = C + I + G + (X - M)
    = ২০,০০০ + ১৫,০০০ + ৮,০০০ + (৫,০০০ - ৩,০০০) কোটি ডলার
    = ৪৩,০০০ + ২,০০০ কোটি ডলার
    = ৪৫,০০০ কোটি ডলার।

    'ক' দেশের জনসংখ্যা = ১৫ কোটি।
    অতএব, 'ক' দেশের মাথাপিছু আয় = ৪৫,০০০ কোটি ডলার ÷ ১৫ কোটি = ৩,০০০ ডলার।

    তবে ব্যক্তিক বা পারিবারিক পর্যায়ে মাথাপিছু সঞ্চয়ের সুযোগ নির্ধারণে মাথাপিছু ভোগ ব্যয় এবং মাথাপিছু আয়ের সম্পর্ক বিবেচনা করা যায়:
    'ক' দেশের মাথাপিছু মোট আয় = ৩,০০০ ডলার এবং মাথাপিছু ভোগ ব্যয় = ২০,০০০ কোটি ডলার ÷ ১৫ কোটি = ১,৩৩৩.৩৩ ডলার।
    ফলে ক দেশে মাথাপিছু উদ্বৃত্ত বা গড় সঞ্চয় ক্ষমতা = ৩,০০০ - ১,৩৩৩.৩৩ = ১,৬৬৬.৬৭ ডলার।

    'খ' দেশের মাথাপিছু মোট আয় = ২,৭৫০ ডলার এবং মাথাপিছু ভোগ ব্যয় = ২৫,০০০ কোটি ডলার ÷ ২০ কোটি = ১,২৫০ ডলার।
    ফলে খ দেশে মাথাপিছু উদ্বৃত্ত বা গড় সঞ্চয় ক্ষমতা = ২,৭৫০ - ১,২৫০ = ১,৫০০ ডলার।

    সাধারণ অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে মাথাপিছু আয় যে দেশের বেশি (ক দেশের ৩,০০০ ডলার > খ দেশের ২,৭৫০ ডলার), সাধারণ নিয়মে সেই দেশের নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় মিটিয়ে সঞ্চয়ের সামর্থ্য বেশি থাকে। উদ্দীপকে সামগ্রিক মাথাপিছু আয় বিবেচনায় 'ক' দেশের মাথাপিছু আয় (৩,০০০ ডলার) 'খ' দেশের মাথাপিছু আয়ের (২,৭৫০ ডলার) চেয়ে ২৫০ ডলার বেশি।

    অতএব, উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে মাথাপিছু আয় বেশি হওয়ায় 'ক' দেশের জনসাধারণের সঞ্চয়ের সুযোগ অপেক্ষাকৃত বেশি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন