জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

কঃ ডিম →\to নিম্ফ →\to পূর্ণাঙ্গ প্রাণী

  1. ক)

    ব্রাঙ্কিওস্টেগাল পর্দা কী?

    (1)
  2. খ)

    ডায়াপজ গুরুত্বপূর্ণ কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি সম্পন্নকারী প্রাণীর বিশেষ ধরনের দর্শন কৌশল বিদ্যমান — বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রুই মাছের ফুলকা প্রকোষ্ঠের অঙ্কীয় দেশে কানকোর কিনারা বরাবর যে পাতলা চামড়ার মতো পর্দা ফুলকা ছিদ্রকে ঢেকে রাখে, তাকে ব্রাঙ্কিওস্টেগাল পর্দা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিকূল পরিবেশীয় অবস্থায় (যেমন- অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা খাদ্যাভাব) প্রাণীর বৃদ্ধি, বিকাশ বা পরিস্ফুটনের সাময়িক স্থগিতাবস্থাকে ডায়াপজ বলে।

    ডায়াপজের মাধ্যমে প্রতিকূল আবহাওয়া বা চরম শীতে ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধি স্থগিত রেখে ডিম বা ভ্রূণ নিজেকে টিকিয়ে রাখে। অনুকূল পরিবেশ ফিরে এলে পুনরায় স্বাভাবিক পরিস্ফুটন শুরু হয়। ফলে প্রতিকূল পরিবেশের হাত থেকে প্রজাতির ধারাবাহিকতা ও অস্তিত্ব রক্ষায় ডায়াপজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত 'ক' প্রক্রিয়াটি হলো ঘাসফড়িংয়ের 'অসম্পূর্ণ রূপান্তর' (Incomplete metamorphosis বা Hemimetabolous metamorphosis)।

    যে রূপান্তরে কোনো পতঙ্গের ডিম ফুটে যে বাচ্চা বের হয়, তা দেখতে ক্ষুদ্রাকৃতির পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর মতো হয় এবং কোনো পিউপা বা মূককীট দশা থাকে না, তাকে অসম্পূর্ণ রূপান্তর বলে।

    এ প্রক্রিয়ার প্রধান ধাপসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. ডিম (Egg): স্ত্রী ঘাসফড়িং ওভিপজিটর যন্ত্রের সাহায্যে মাটির নিচে গর্ত করে গুচ্ছাকারে ডিম পাড়ে।
    ২. নিম্ফ (Nymph): ডিম ফুটে যে বাচ্চা বের হয়, তাকে নিম্ফ বলে। নিম্ফ দেখতে ক্ষুদ্রাকার পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িংয়ের মতো, তবে এটি ডানাহীন, অসম্পূর্ণ প্রজনন অঙ্গবিশিষ্ট এবং আকারে ছোট হয়।
    ৩. মোর্ফোজেনেসিস ও একডাইসিস: নিম্ফ পর্যায়ক্রমে খাদ্য গ্রহণ করে বৃদ্ধি পায় এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর এর কিউটিকল বা বহিঃকঙ্কাল মোচন ঘটে। এই খোলস ত্যাগের প্রক্রিয়াকে একডাইসিস বা মোল্টিং বলে। দুটি মোল্টিংয়ের মধ্যবর্তী সময়কে ইনস্ট্যান্ট বা ইনস্টার বলে। ঘাসফড়িংয়ের নিম্ফ সাধারণত ৫ বার খোলস ত্যাগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ডানা ও জননাঙ্গ গঠন করে পূর্ণাঙ্গ ঘাসফড়িংয়ে (ইমাগো) রূপান্তরিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি সম্পন্নকারী প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং। ঘাসফড়িংয়ের দর্শন অঙ্গ হলো একজোড়া পুঞ্জাক্ষি (Compound eyes), যা ওমাটিডিয়াম (Ommatidium) নামক অসংখ্য গাঠনিক ও কার্যকরী একক নিয়ে গঠিত। আলোর তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে ঘাসফড়িং দুই ধরনের বিশেষ দর্শন কৌশল সম্পন্ন করে — অ্যাপোজিশন ও সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব গঠন।

    ১. অ্যাপোজিশন বা মোজাইক প্রতিবিম্ব (উজ্জ্বল আলোয়):
    তীব্র বা উজ্জ্বল আলোতে ওমাটিডিয়ামের আইরিশ ও রেটিনাল রঞ্জক আবরণী সম্পূর্ণ প্রসারিত হয়ে ওমাটিডিয়ামগুলোকে পরস্পর থেকে সম্পূর্ণ পৃথক রাখে। এ অবস্থায় শুধুমাত্র লম্বালম্বিভাবে আপতিত আলোকরশ্মি কর্নিয়া ও ক্রিস্টালাইন কোনের মধ্য দিয়ে সরাসরি র্যাবডোমে প্রবেশ করে প্রতিবিম্ব তৈরি করে। কিন্তু তির্যকভাবে আসা রশ্মিগুলো রঞ্জক আবরণী দ্বারা শোষিত হয়। ফলে প্রতিটি ওমাটিডিয়ামে বস্তুর পৃথক পৃথক অংশের প্রতিবিম্ব গঠিত হয় এবং সামগ্রিকভাবে পুরো বস্তুর একটি সুস্পষ্ট ও খণ্ড খণ্ড মোজাইক প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়।

    ২. সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব (মৃদু আলোয়):
    মৃদু বা স্তিমিত আলোতে আইরিশ ও রেটিনাল রঞ্জক আবরণী সংকুচিত হয়ে কর্নিয়া এবং র্যাবডোমের প্রান্তে অবস্থান নেয়। এতে ওমাটিডিয়ামগুলোর মাঝে ব্যবধান কমে যায় বা মুক্ত থাকে। ফলে লম্বালম্বি আলোকরশ্মির পাশাপাশি তির্যকভাবে আপতিত আলোকরশ্মিও পার্শ্ববর্তী একাধিক ওমাটিডিয়ামের র্যাবডোমে প্রবেশ করতে পারে। এতে একটি ওমাটিডিয়ামের আলোক প্রতিবিম্ব অপর ওমাটিডিয়ামের ওপর উপরিপাতিত বা সমাপতিত (Superimposed) হয়। ফলে অস্পষ্ট ও ঝাপসা প্রতিবিম্ব গঠিত হয়, যা ঘাসফড়িংকে অন্ধকারে বস্তুর উপস্থিতি বুঝতে সহায়তা করে।

    সুতরাং, আলোর উজ্জ্বলতার হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে সাথে রঞ্জক আবরণীর সংকোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে ঘাসফড়িং পুঞ্জাক্ষির সাহায্যে এই বিশেষ ধরনের দ্বৈত দর্শন কৌশল অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন