‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • সিলেট সরকারি কলেজ • সিলেট সরকারি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

জলালপুর গ্রামে 'সবুজ সংঘ' নামে যুবকদের একটি সংগঠন আছে। উক্ত সংগঠনের একটি লিখিত নীতিমালা আছে। সংগঠনটির অধিকাংশ সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে নীতিমালাটি তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজনে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে নীতিমালাটি পরিবর্তনও করা যাবে। সবাই এ নীতিমালাটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। সংগঠনের সদস্যদের মূল কাজ মানুষের মধ্যে নৈতিকতা জাগ্রত করা, অসহায় মানুষের সেবা করা ও সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

  1. ক)

    "যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন" উক্তিটি কার?

    (1)
  2. খ)

    Oধর্ম কীভাবে আইনের উৎস হিসেবে কাজ করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটির কাজের সাথে সরকারের কোন বিভাগের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "সবুজ সংঘের সদস্যদের মতো দেশের সবাই আইন মেনে চললে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব" তুমি কি একমত? যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন" উক্তিটি করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টি. এইচ. গ্রিন (T. H. Green)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাচীনকাল থেকেই ধর্ম আইনের অন্যতম প্রধান ও শক্তিশালী উৎস হিসেবে কাজ করে আসছে।

    প্রাচীন ও মধ্যযুগে মানুষের সামাজিক আচরণ এবং ন্যায়-অন্যায় নির্ধারণ হতো ধর্মীয় অনুশাসন ও ধর্মগ্রন্থের বিধানের মাধ্যমে। শাসকগণ ধর্মের নির্দেশাবলী অনুযায়ী বিচারকার্য ও শাসন পরিচালনা করতেন। আধুনিক কালেও পারিবারিক আইন, যেমন—উত্তরাধিকার, বিবাহ, তালাক প্রভৃতি ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধানাবলি গৃহীত হয়ে রাষ্ট্রীয় আইনের রূপ ধারণ করেছে। এভাবে ধর্ম আইনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'সবুজ সংঘ' সংগঠনের নীতিমালা তৈরি ও পরিবর্তনের কার্যক্রমের সাথে সরকারের 'আইন বিভাগ'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    সরকারের আইন বিভাগের মূল কাজ হলো দেশের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা, বিদ্যমান আইন সংশোধন বা রদবদল করা এবং যুগোপযোগী আইন তৈরি করা। এটি সাধারণত জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।

    উদ্দীপকের 'সবুজ সংঘ' সংগঠনটির একটি লিখিত নীতিমালা রয়েছে যা অধিকাংশ সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে এটি সংশোধন বা পরিবর্তন করা যায়। আইন বিভাগও ঠিক একইভাবে সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান ও সাধারণ আইন তৈরি এবং সংশোধন করে। সুতরাং, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে নিয়ম প্রণয়ন ও পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার দিক থেকে সংগঠনটির কাজ আইন বিভাগের অনুরূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "সবুজ সংঘের সদস্যদের মতো দেশের সবাই আইন মেনে চললে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব"—উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।

    আইন সমাজের সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে এবং বৈষম্য দূর করতে বাধ্যবাধকতা তৈরি করে। আইনের শাসনের প্রধান শর্তই হলো আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান এবং আইন সবার জন্য উন্মুক্ত।

    উদ্দীপকের সবুজ সংঘের সদস্যরা নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রত্যেকে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও সেবা জাগ্রত করার মাধ্যমে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে। তেমনিভাবে, রাষ্ট্রের সকল নাগরিক যদি আইন মান্য করে, তবে ধনী-দরিদ্র, ক্ষমতাশালী ও দুর্বল নির্বিশেষে সকলেই আইনের সমান আশ্রয় ও সুফল লাভ করবে। আইন ভঙ্গ না হলে ক্ষমতার অপব্যবহার ও শোষণ বন্ধ হবে। এতে করে সমাজে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাম্য সুসংহত হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও মান্যতাই আইনের শাসনের ভিত্তি, যা সমাজে সাম্য বজায় রাখার অন্যতম চালিকাশক্তি।

    অতএব, সবাই আইন মেনে চললে অধিকার ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ঘটে এবং সামাজিক বৈষম্য দূর হয়, ফলে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা নিশ্চিতভাবেই সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন