‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • সিলেট সরকারি কলেজ • সিলেট সরকারি কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

রাহাত একটি বই পড়ে জানতে পারল, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের সরকারব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। ক্ষমতা বণ্টনের নীতি অনুসারে এই দুই দেশের সরকার পরিচালনা পদ্ধতি ভিন্ন। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান ভিন্ন ব্যক্তি এবং আইন বিভাগ শক্তিশালী। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে একই ব্যক্তি রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান এবং রাষ্ট্রপতি ক্ষমতাশালী।

  1. ক)

    একনায়কতন্ত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    "মন্ত্রিসভার স্থায়িত্ব নির্ভর করে আইনসভার আস্থার ওপর"-ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারগুলো একই পদ্ধতির সরকারের ভিন্নরূপ- ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত দুটি সরকারের পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একনায়কতন্ত্র হলো এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের সার্বিক ক্ষমতা এক ব্যক্তি বা একটি রাজনৈতিক দলের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং সেখানে জনগণের মতামতের কোনো প্রাধান্য থাকে না।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সংসদীয় বা মন্ত্রিসভাশাসিত সরকারব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার স্থায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে আইনসভার আস্থার ওপর নির্ভরশীল। এই ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের আইনসভার আস্থাভাজন থাকতে হয়। আইনসভা যদি মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস করে, তবে মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হয়। তাই মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পালন এবং পদে টিকে থাকা আইনসভার সমর্থনের ওপর নির্ভর করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থা মূলগতভাবে গণতান্ত্রিক হলেও ক্ষমতা বণ্টনের নীতি এবং শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের সম্পর্কের ভিত্তিতে তা যথাক্রমে সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থার দুটি ভিন্ন রূপ।

    গণতন্ত্রের মূল কাঠামোতে জনগণই ক্ষমতার উৎস। তবে শাসন বিভাগের সাথে আইন বিভাগের সম্পর্কের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সরকার দুই ভাগে বিভক্ত: সংসদীয় সরকার ও রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান, যেখানে প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারপ্রধান এবং আইনসভা সার্বিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসনব্যবস্থা কার্যকর, যেখানে রাষ্ট্রপতি একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান এবং তাঁর হাতেই নির্বাহী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারগুলো মূলত গণতান্ত্রিক সরকারেরই দুটি ভিন্ন রূপ বা প্রকাশ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত দুটি সরকার হলো বাংলাদেশের 'সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদশাসিত সরকার' এবং যুক্তরাষ্ট্রের 'রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার'। এদের মধ্যে কাঠামোগত ও কার্যপদ্ধতিগত বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে:

    ১. রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের পদমর্যাদা: সংসদীয় ব্যবস্থায় (বাংলাদেশে) রাষ্ট্রপ্রধান (রাষ্ট্রপতি) হলেন নিয়মতান্ত্রিক প্রধান এবং সরকারপ্রধান (প্রধানমন্ত্রী) হলেন প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় (যুক্তরাষ্ট্রে) রাষ্ট্রপতি একই সাথে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান এবং তিনিই প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী।

    ২. শাসন ও আইন বিভাগের সম্পর্ক: সংসদীয় পদ্ধতিতে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল এবং তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতিতে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়; এখানে 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি' কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়।

    ৩. মন্ত্রিসভার গঠন ও অবস্থান: সংসদীয় ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য আইনসভা থেকে নির্বাচিত হন এবং তাঁরা আইনসভার সদস্য থাকেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নিজের ইচ্ছানুযায়ী আইনসভার বাইরের ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করতে পারেন এবং তাঁরা আইনসভার সদস্য নন।

    ৪. স্থায়িত্ব ও অনাস্থা প্রস্তাব: সংসদীয় পদ্ধতিতে আইনসভা অনাস্থা প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে মন্ত্রিসভার পতন ঘটাতে পারে, যা এই সরকারের স্থায়িত্বকে নমনীয় করে। পক্ষান্তরে, রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতিতে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে অনাস্থা প্রস্তাব এনে রাষ্ট্রপতিকে সহজে অপসারণ করা যায় না; শুধু বিশেষ প্রক্রিয়া বা অভিশংসনের (Impeachment) মাধ্যমেই তা সম্ভব।

    অতএব, ক্ষমতা বণ্টন ও শাসন পরিচালনার নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন