‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ভারতীয়দের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ১৮৮৫ সালে সর্বপ্রথম এ উপমহাদেশে একটি রাজনৈতিক দলের উদ্ভব ঘটে। মুসলমানদের স্বার্থ এবং দাবি-দাওয়া পূরণের উদ্দেশ্যে আরো একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। দল দুটি প্রাথমিক পর্যায়ে ব্রিটিশদের প্রতি আনুগত্য দেখায়। পরবর্তীতে দল দুটির নেতৃত্বে ভারত বিভক্ত হয়ে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

  1. ক)

    দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?

    (1)
  2. খ)

    প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন কোন রাজনৈতিক দলের কথা বলা হয়েছে? যে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য উদ্দেশ্য আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ভারত বিভক্তিতে উক্ত দল দুটির ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা হলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে বোঝায় যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্র বা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ ব্যতিরেকে সংবিধান অনুযায়ী প্রদেশগুলোর নিজস্ব বিষয়ে স্বাধীনভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ভারতে সর্বপ্রথম প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের রূপরেখা প্রবর্তন করা হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে 'ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস' এবং মুসলমানদের স্বার্থে ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ'-এর কথা বলা হয়েছে।

    'ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস'-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
    ১. ব্রিটিশ ভারতের সকল জাতির মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটানো।
    ২. সাংবিধানিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ভারতীয় জনগণের ন্যায্য অধিকার ও দাবিদাওয়া ব্রিটিশ সরকারের নিকট তুলে ধরা।
    ৩. শাসনব্যবস্থায় ভারতীয়দের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করা।
    (অথবা মুসলিম লীগের উদ্দেশ্য: মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা এবং ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য বৃদ্ধি করা।)

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তিতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং নিখিল ভারত মুসলিম লীগ—উভয় দলের ভূমিকাই ছিল কেন্দ্রীয় ও নির্ণায়ক।

    প্রথমত, নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় কাজ শুরু করে। কালক্রমে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব প্রকট হলে ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগ লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করে এবং পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে মুসলমানদের জন্য পৃথক স্বাধীন আবাসভূমি (পাকিস্তান) প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।

    দ্বিতীয়ত, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন পরিচালনা করলেও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ স্বার্থরক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি এবং মুসলিম লীগের দাবিসমূহকে সঠিকভাবে সমন্বিত করতে না পারার কারণে বিভেদ স্থায়ী রূপ নেয়। মন্ত্রিসভা মিশন পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ অখণ্ড ভারতের আদর্শ ত্যাগ করে রক্তপাত এড়াতে দেশবিভাগ মেনে নিতে বাধ্য হন।

    পরিশেষে, মুসলিম লীগের পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি এবং কংগ্রেসের দেশবিভাগ মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সমন্বিত ফলেই মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের আগস্টে ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। সুতরাং, ভারত বিভক্তিতে উক্ত দল দুটির ভূমিকা ছিল মূখ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন