বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

নরওয়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন ভিদকুন কুইজলিং। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি জার্মান শাসক হিটলারের সাথে গোপন আঁতাত করেন। হিটলার নরওয়ে আক্রমণ করলে কুইজলিং রাজধানী থেকে ৫০ কি.মি. দূরে ঘাঁটি গাড়েন এবং নরওয়ে সরকার পরাজিত হয়ে পালিয়েছে-এ মর্মে অপপ্রচার চালাতে থাকেন। অতঃপর হিটলার নরওয়ে জয় করার পর কুইজলিংকে সরকার প্রধানের দায়িত্ব দেন।

  1. ক)

    ইংরেজদের সাথে উমিচাঁদের কত টাকার চুক্তি হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    “আমি বরং নবাবকে বিশ্বাস করতে পারি।”-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কুইজলিং-এর সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রটির তুলনামূলক ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “কুইজলিংরা থাকে বলেই যুগে যুগে হিটলাররা নরওয়ে জয় করে।” উক্তিটির আলোকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কাহিনি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইংরেজদের সাথে উমিচাঁদের ৩০ লক্ষ (বা ত্রিশ লক্ষ) টাকার চুক্তি হয়েছিল (মিথ্যা চুক্তির শর্তে নবাবের কোষাগারের পাঁচ শতাংশ বা ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “আমি বরং নবাবকে বিশ্বাস করতে পারি”— উক্তিটি ক্লাইভকে উদ্দেশ করে ওয়াটস করেছিলেন ইংরেজদের স্বার্থরক্ষা ও ষড়যন্ত্রের দ্বিধাদ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে।

    ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটস উপলব্ধি করেছিলেন যে, নবাব সিরাজউদ্দৌলা একজন স্পষ্টবাদী ও প্রতিশ্রুতিশীল শাসক, যিনি তাঁর কথার মর্যাদা রক্ষা করেন। কিন্তু দেশীয় ষড়যন্ত্রকারী মীরজাফর, রায়দুর্লভ কিংবা উমিচাঁদদের কোনো বিশ্বাস নেই; তারা নিজেদের স্বার্থে যেকোনো মুহূর্তে অবস্থান বদলাতে পারে। তাই চরিত্রহীন ও স্বার্থপর দেশীয় বেইমানদের তুলনায় নবাবের স্বচ্ছ ব্যক্তিত্বকে বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে করে ওয়াটস এ কথা বলেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের কুইজলিং-এর সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি মীরজাফর চরিত্রের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকের ভিদকুন কুইজলিং ছিলেন নরওয়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি নিজ দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিদেশি আগ্রাসী শক্তি হিটলারের সাথে গোপন আঁতাত করেন এবং নরওয়ের পতন ত্বরান্বিত করে বিদেশি শক্তির কৃপায় ক্ষমতা লাভ করেন।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও মীরজাফর ছিলেন বাংলার প্রধান সেনাপতি। কিন্তু তিনি দেশপ্রেম বিসর্জন দিয়ে ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও নবাবের সিংহাসন পাওয়ার লোভে বিদেশি বেনিয়া শক্তি ক্লাইভ ও ইংরেজদের সাথে গোপন চুক্তি করেন। পলাশীর যুদ্ধে বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে থেকে তিনি নবাবের পরাজয় নিশ্চিত করেন এবং প্রতিদানে ক্লাইভের পুতুল নবাব হিসেবে ক্ষমতা লাভ করেন। কুইজলিং ও মীরজাফর উভয়েই নিজ দেশের প্রতিরক্ষার প্রধান হয়েও বিদেশি শত্রুর হাত ধরে মাতৃভূমির স্বাধীনতা বলি দিয়েছেন। ফলে উভয়ের চরিত্র একই সূত্রে গাঁথা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “কুইজলিংরা থাকে বলেই যুগে যুগে হিটলাররা নরওয়ে জয় করে”— উক্তিটির মূল বক্তব্য হলো, অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই বহিরাগত আগ্রাসীরা সফল হয়, যা ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ঐতিহাসিক কাহিনিতে পুরোপুরি সত্য প্রমাণিত।

    নরওয়ের ইতিহাসে ভিদকুন কুইজলিং যেমন দেশের অভ্যন্তরে থেকে শত্রু হিটলারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে দেশকে পরাধীন করেছিল, ঠিক তেমনি বাংলার ইতিহাসে মীরজাফর, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ ও রাজবল্লভরা ইংরেজদের পথ সুগম করেছিল। রবার্ট ক্লাইভ বা ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে সামান্য মুষ্টিমেয় সৈন্য নিয়ে কখনো সুবিশাল বাংলা দখল করা সম্ভব হতো না, যদি না নবাবের প্রধান সেনাপতি মীরজাফর বিশ্বাসঘাতকতা করতেন। পলাশীর প্রান্তরে নবাবের বিপুল সৈন্যবাহিনীর বিজয় যখন সুনিশ্চিত, তখন মীরজাফরের ইচ্ছাকৃত যুদ্ধবিরতি আদেশই নবাবের নিশ্চিত বিজয়কে পরাজয়ে পরিণত করে।

    বিদেশি শক্তি তখনই বিজয়ী হয় যখন ঘরের ভেতরেই কুইজলিং বা মীরজাফরদের মতো চরম স্বার্থপর ও দেশদ্রোহীদের পাওয়া যায়। মীরজাফরদের বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া ক্লাইভদের পক্ষে বাংলা বিজয় কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। সুতরাং, প্রশ্নোদ্ধৃত উক্তিটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মূল ঐতিহাসিক সত্যকে যথার্থভাবে ধারণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন