যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: বড় উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাবার তৈরি করে থাকে। মাঝারি উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাবার তৈরি করে। ছোট উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাবার তৈরি করে। সুতরাং সব উদ্ভিদই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাবার তৈরি করে।দৃশ্যকল্প-২: অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে ফল কাঁচা অবস্থায় টক থাকে, পাকলে মিষ্টি হয়। সুতরাং সকল টক ফলই পাকলে মিষ্টি হয়।
- ক)(1)
আরোহ অনুমান কাকে বলে?
- খ)(2)
অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-২ আরোহের কোন রূপকে নির্দেশ করেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
আরোহের প্রকারভেদের আলোকে দৃশ্যকল্প-১ এর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কতিপয় বিশেষ বিশেষ বাস্তব ঘটনার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য গঠন করার প্রক্রিয়াকে আরোহ অনুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য হয় কারণ এটি কেবল অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর প্রতিষ্ঠিত, কোনো কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর নয়।
অবৈজ্ঞানিক আরোহে কোনো ব্যতিক্রমহীন অনুকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এখানে কার্যকারণ নিয়ম আবিষ্কারের কোনো বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষণ বা চেষ্টা করা হয় না। ফলে ভবিষ্যতে একটিমাত্র প্রতিকূল বা ভিন্ন দৃষ্টান্ত পাওয়া গেলেই অবৈজ্ঞানিক আরোহের পুরো সিদ্ধান্তটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই এর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত না হয়ে সর্বদা সম্ভাব্য থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ আরোহের অন্যতম প্রকারভেদ 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ' (Unscientific Induction)-কে নির্দেশ করেছে।
যে আরোহ অনুমানে কোনো প্রকার কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় না করে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি এবং প্রতিকূল দৃষ্টান্তহীন অবাধ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য স্থাপন করা হয়, তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে।
দৃশ্যকল্প-২ এ বলা হয়েছে, অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে ফল কাঁচা অবস্থায় টক থাকে এবং পাকলে মিষ্টি হয়; এর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, "সুতরাং সকল টক ফলই পাকলে মিষ্টি হয়।" এখানে ফল পাকার সাথে টক থেকে মিষ্টি হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক বা কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণ করা হয়নি, বরং সাধারণ অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সাধারণীকরণ করা হয়েছে। বাস্তবক্ষেত্রে অনেক টক ফল পাকলেও টক থাকে (যেমন: তেঁতুল, লেবু)। তাই কার্যকারণহীন কেবল অভিজ্ঞতানির্ভর অনুমানের কারণে এটি অবৈজ্ঞানিক আরোহ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আরোহের প্রকারভেদের আলোকে দৃশ্যকল্প-১ 'বৈজ্ঞানিক আরোহ' (Scientific Induction)-এর বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে। নিচে এর বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপন: দৃশ্যকল্প-১ এ বড়, মাঝারি ও ছোট উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত থেকে "সব উদ্ভিদই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাবার তৈরি করে"—একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপন করা হয়েছে।
২. আরোহমূলক লম্ফ: দৃশ্যকল্পটিতে কিছু পর্যবেক্ষণকৃত উদ্ভিদের স্বভাব থেকে বিশ্বের সমস্ত উদ্ভিদের বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হয়েছে, যা আরোহমূলক লম্ফের উপস্থিতিকে নির্দেশ করে।
৩. প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ সম্পর্ক: দৃশ্যকল্পে সালোকসংশ্লেষণ ও উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির সম্পর্কের পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ নীতি রয়েছে (ক্লোরোফিল, আলো ও পানির ভূমিকা)। একই কারণে প্রকৃতিতে সমজাতীয় ফলাফল দেখা যায়।
৪. বাস্তব ভিত্তি: দৃশ্যকল্প-১ এর সিদ্ধান্তটি বাস্তব পর্যবেক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত।অতএব, দৃশ্যকল্প-১ এ আরোহমূলক লম্ফ, প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা এবং বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ সম্পর্কের স্পষ্ট ভিত্তি থাকায় এটি বৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত হিসেবে সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যগুলো পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও