পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাতৃভাষাকে বাদ দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা কি রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে চাইলে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং শাসকগোষ্ঠীকে দাবি মানতে বাধ্য করে।
- ক)(1)
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কোনটি?
- খ)(2)
প্রাদেশিক স্বার্থ শাসন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে উক্ত আন্দোলনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হলো ২১শে ফেব্রুয়ারি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের কোনো নির্দিষ্ট প্রদেশ বা অঞ্চলের শাসনভার সেই অঞ্চলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ন্যস্ত থাকা এবং কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ ছাড়া অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি স্বাধীনভাবে পরিচালনার সাংবিধানিক অধিকার লাভ করা। এতে প্রদেশগুলো নিজস্ব রাজস্ব, শিক্ষা, কৃষি ও আইনশৃঙ্খলার মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের মহান 'ভাষা আন্দোলন'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬% মানুষের মাতৃভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীর মুখের ভাষাকে উপেক্ষা করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভাষাকে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করে সংখ্যালঘু বা অন্য ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার অপচেষ্টা চালালে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ প্রবল বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে সেই অপচেষ্টা প্রতিহত করে এবং শেষ পর্যন্ত শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। তাই উদ্দীপকের ঘটনাটি ভাষা আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি ছিল বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের প্রথম কার্যকর পদক্ষেপ।
প্রথমত, ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত তথাকথিত 'দ্বিজাতি তত্ত্বের' অসারতা প্রমাণিত হয়। বাঙালিরা বুঝতে পারে ধর্ম নয়, বরং তাদের মূল শক্তি ও পরিচয় হচ্ছে ভাষা ও সংস্কৃতি। এর ফলে ধর্মভিত্তিক পরিচয়ের চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে।
দ্বিতীয়ত, ভাষা আন্দোলন বাঙালি সমাজকে স্বাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ করে। এ আন্দোলনের প্রেরণাই ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বাঙালির ঐতিহাসিক বিজয় নিশ্চিত করেছিল।
তৃতীয়ত, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, যা পরবর্তীতে ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-র ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
সুতরাং, ভাষা আন্দোলন কেবল মুখের ভাষার লড়াই ছিল না; এটি ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তিপ্রস্তর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও