রসায়ন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন
(CH3)3C−OH→গাঢ় HClঅনাৰ্দ্র ZnCl2A+H2O \text{(CH}_3\text{)}_3\text{C}-\text{OH} \xrightarrow[\text{গাঢ় HCl}]{\text{অনাৰ্দ্র ZnCl}_2} \text{A} + \text{H}_2\text{O}
CH3−CH2−CH2OH→PCl3B+H3PO3 \text{CH}_3-\text{CH}_2-\text{CH}_2\text{OH} \xrightarrow{\text{PCl}_3} \text{B} + \text{H}_3\text{PO}_3
- ক)(1)
প্যারাফিন কী?
- খ)(2)
R-কে সার্বজনীন গ্যাস ধ্রুবক বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
অ্যালকোহলীয় KOH এর সাথে উদ্দীপকের A যৌগের বিক্রিয়া সমীকরণসহ লেখ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের A ও B যৌগের মধ্যে কোনটি SN1 S_N1 বিক্রিয়া দিবে? কারণসহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অ্যালকেনসমূহকে প্যারাফিন বলা হয়। ল্যাটিন শব্দ 'Parum' (স্বল্প) এবং 'Affinis' (আসক্তি) থেকে প্যারাফিন শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ স্বল্প আসক্ত বা নিষ্ক্রিয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আদর্শ গ্যাস সমীকরণ PV = nRT থেকে লেখা যায়, R = PV / (nT)। এখানে P হলো চাপ, V হলো আয়তন, n হলো মোল সংখ্যা এবং T হলো পরম তাপমাত্রা।
কাজের সমীকরণ অনুযায়ী, কাজ = বল × সরণ = (বল/ক্ষেত্রফল) × আয়তন = চাপ × আয়তন (PV)।
অতএব, R = কাজ / (মোল × কেলভিন) = প্রতি মোল গ্যাসের প্রতি কেলভিন তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে কৃতকাজ।
যেহেতু যেকোনো গ্যাসের ক্ষেত্রে 1 মোল পরিমাণের তাপমাত্রা 1 K বৃদ্ধি করলে কাজের পরিমাণ গ্যাসের প্রকৃতি, আয়তন বা ভরের ওপর নির্ভর না করে সবসময় নির্দিষ্ট ও স্থির থাকে, তাই R-কে সার্বজনীন গ্যাস ধ্রুবক বা মোলার গ্যাস ধ্রুবক বলা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে লুকাস বিকারকের সাথে 3° অ্যালকোহল (CH₃)₃C-OH এর বিক্রিয়ায় A যৌগটি উৎপন্ন হয়।
বিক্রিয়া:
(CH₃)₃C-OH + গাঢ় HCl ⎯⎯(অনার্দ্র ZnCl₂)→ (CH₃)₃C-Cl (A: ২-মিথাইল-২-ক্লোরোপ্রোপেন বা টারশিয়ারি বিউটাইল ক্লোরাইড) + H₂Oযৌগ A হলো টারশিয়ারি বিউটাইল ক্লোরাইড [(CH₃)₃C-Cl]। এটিকে অ্যালকোহলীয় KOH (alc. KOH) সহযোগে উত্তপ্ত করলে অপনয়ন (Elimination, E2/E1) বিক্রিয়া ঘটে এবং ডিহাইড্রোহ্যালোজিনেশনের মাধ্যমে অ্যালকিন (আইসোবিউটিলিন বা ২-মিথাইলপ্রোপিন) উৎপন্ন হয়।
বিক্রিয়ার সমীকরণ:
(CH₃)₃C-Cl + KOH (alc.) ⎯⎯(Δ)→ (CH₃)₂C=CH₂ + KCl + H₂O
(২-মিথাইলপ্রোপিন বা আইসোবিউটিলিন) - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিক্রিয়া অনুযায়ী:
(CH₃)₃C-OH + HCl ⎯(অনার্দ্র ZnCl₂)→ (CH₃)₃C-Cl (A: ৩° অ্যালকাইল হ্যালাইড)
3 CH₃-CH₂-CH₂-OH + PCl₃ ⎯→ 3 CH₃-CH₂-CH₂-Cl (B: ১° অ্যালকাইল হ্যালাইড) + H₃PO₃সুতরাং, A হলো টারশিয়ারি বিউটাইল ক্লোরাইড (3° অ্যালকাইল হ্যালাইড) এবং B হলো ১-ক্লোরোপ্রোপেন (1° অ্যালকাইল হ্যালাইড)।
A ও B যৌগের মধ্যে A যৌগটি প্রধানত বা অগ্রাধিকারভিত্তিতে S_N1 বিক্রিয়া প্রদর্শন করবে।
কারণ বিশ্লেষণ:
১. কার্বোক্যাটায়নের স্থায়িত্ব: S_N1 বিক্রিয়া দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ও ধীর গতিসম্পন্ন ধাপে অ্যালকাইল হ্যালাইড থেকে হ্যালাইড আয়ন অপসারিত হয়ে কার্বোক্যাটায়ন গঠিত হয়।
A যৌগ [(CH₃)₃C-Cl] আয়নিত হয়ে ৩° কার্বোক্যাটায়ন [(CH₃)₃C⁺] গঠন করে, যা তিনটি মিথাইল গ্রুপের ধনাত্মক আবেশীয় ফল (+I effect) এবং নয়টি আলফা হাইড্রোজেন পরমাণুর হাইপারকনজুগেশন দ্বারা অত্যন্ত স্থিতিশীল হয়। পক্ষান্তরে, B যৌগ (CH₃-CH₂-CH₂-Cl) আয়নিত হলে ১° কার্বোক্যাটায়ন গঠিত হয়, যার স্থায়িত্ব অত্যন্ত কম। কার্বোক্যাটায়নের স্থায়িত্বের ক্রম: 3° > 2° > 1°।২. স্টেরিক বাধা: ৩° অ্যালকাইল হ্যালাইডে (A) কেন্দ্রীয় কার্বনের চারপাশে তিনটি মিথাইল গ্রুপ থাকায় তীব্র স্টেরিক বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে নিউক্লিওফাইলের পক্ষে পেছন দিক থেকে সরাসরি আক্রমণ (S_N2 কৌশল) করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে এটি সহজেই বন্ধন ভেঙে S_N1 কৌশলে অংশ নেয়। কিন্তু B যৌগে স্টেরিক বাধা কম থাকায় তা মূলত S_N2 কৌশলে বিক্রিয়া করে।
অতএব, কার্বোক্যাটায়নের উচ্চ স্থায়িত্ব এবং স্থানিক বাধার কারণে A যৌগটি S_N1 বিক্রিয়া দেবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও