অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

ফজলু তার অল্প জমিতে পরম যত্নে চাষাবাদ করে যে পরিমাণ ফসল উৎপাদন করে, তা দিয়ে সে কোনমতে তার পরিবারের ভরণপোষণ করতে পারে, কিন্তু বাজারজাত করার মত তেমন কোন উদ্বৃত্ত তার থাকে না। অপরদিকে তার বন্ধু রানা এমনভাবে চাষ করে যে, সে একই জমিতে তিন-চারটি ফসল উৎপাদন করতে পারে ; যেমন ধান, আলু, সবজি, ডাল ইত্যাদি।

  1. ক)

    বায়োটেকনোলজি কি?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের কৃষি ঋণ ব্যবস্থা অনানুষ্ঠানিক উৎসগুলোর উপর বেশি নির্ভরশীল কেন?

    (2)
  3. গ)

    ফজলুর কৃষি খামারটির উৎপাদন কৌশল ও দক্ষতা সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্য বর্ণনাপূর্বক এর প্রকৃতি নির্ণয় কর।

    (3)
  4. ঘ)

    রানার চাষাবাদ পদ্ধতিটি কি এবং কিভাবে এটি শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সাধনে সহায়তা কর? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বায়োটেকনোলজি বা জীবপ্রযুক্তি হলো এমন একটি প্রযুক্তি যা উদ্ভিদ, প্রাণী বা অণুজীবের জৈবিক উপাদান বা কোষীয় প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে মানবকল্যাণে উন্নত জাতের বীজ, ফসল, ওষুধ ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের কৃষি ঋণ ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক উৎসসমূহে ঋণ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া বেশ জটিল, সময়সাপেক্ষ এবং এতে জামানতের প্রয়োজন হয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষকই দরিদ্র, নিরক্ষর ও ভূমিহীন হওয়ায় তাদের পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র বা জামানত প্রদর্শন করে আনুষ্ঠানিক ব্যাংক ঋণ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তাৎক্ষণিক আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে তারা সহজেই গ্রাম্য মহাজন, আত্মীয়স্বজন বা বেপারিদের মতো অনানুষ্ঠানিক উৎসের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ফজলুর কৃষি খামারটি হলো একটি 'আত্মপোষণমূলক খামার' বা জীবিকানির্বাহ খামার (Subsistence Farming)।

    যে খামারে কৃষক কেবল তার পরিবারের খাদ্য ও ভরণপোষণের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে উৎপাদন পরিচালনা করে এবং বাজারে বিক্রির মতো কোনো উদ্বৃত্ত থাকে না, তাকে আত্মপোষণমূলক খামার বলে।

    ফজলুর খামারের উৎপাদন কৌশল ও দক্ষতা সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. সনাতন উৎপাদন কৌশল: এ ধরনের খামারে কৃষক সাধারণত সনাতন প্রযুক্তি, সাধারণ যন্ত্রপাতি ও পারিবারিক শ্রম ব্যবহার করে ফসল ফলায়।
    ২. সীমিত দক্ষতা ও স্বল্প উৎপাদনশীলতা: আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত উপকরণের অভাবে উৎপাদনের দক্ষতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
    ৩. উদ্বৃত্তের অনুপস্থিতি: উদ্দীপকে দেখা যায়, ফজলু তার অল্প জমিতে চাষ করে কেবল পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে পারে; বাজারজাতকরণের জন্য কোনো উদ্বৃত্ত থাকে না।

    সুতরাং, সীমিত আয়তন, সনাতন কৌশল এবং পারিবারিক চাহিদাভিত্তিক উৎপাদনের কারণে ফজলুর কৃষি খামারটির প্রকৃতি আত্মপোষণমূলক খামার।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রানার চাষাবাদ পদ্ধতিটি হলো 'বহুমুখী শস্য চাষ' বা শস্য বহুমুখীকরণ (Crop Diversification)। একই জমিতে বছরের বিভিন্ন সময়ে বৈচিত্র্যময় ফসল যেমন ধান, আলু, সবজি, ডাল ইত্যাদির চাষ করাই হলো শস্য বহুমুখীকরণ।

    শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের মাধ্যমে এটি দেশের নির্ভরযোগ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে:

    ১. কৃষিজাত শিল্পের বিকাশ: রানার মতো কৃষকরা আলু, ডাল ও শাকসবজির বহুমুখী উৎপাদন করলে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের নিয়মিত জোগান নিশ্চিত হয়। ফলে কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প বিকশিত হয়।
    ২. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: একই জমিতে সারা বছর বিভিন্ন ফসল চাষাবাদের ফলে জমিতে শ্রমিকের সারা বছরব্যাপী কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতে গ্রামীণ মৌসুমি বেকারত্ব দূর হয় এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়।
    ৩. পুষ্টি চাহিদা পূরণ: কেবল ধান চাষে খাদ্যশস্যের জোগান নিশ্চিত হলেও সুষম পুষ্টির অভাব থাকে। বহুমুখী চাষের মাধ্যমে উৎপাদিত শাকসবজি ও ডাল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ভিটামিন, খনিজ ও আমিষের মতো মৌলিক পুষ্টি চাহিদা মেটায়।
    ৪. ঝুঁকি হ্রাস ও টেকসই উন্নয়ন: প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বাজারের দামের ওঠানামার ক্ষেত্রে একক ফসলের ওপর নির্ভরতা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। বিভিন্ন ফসল চাষের ফলে কৃষকের অর্থনৈতিক ঝুঁকি হ্রাস পায় এবং মাটির উর্বরতা রক্ষা পেয়ে কৃষিতে টেকসই বা নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

    অতএব, রানার শস্য বহুমুখীকরণ পদ্ধতিটি শিল্প সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে এক কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সাধন করতে সক্ষম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন