ইতিহাস ২য় পত্র • প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লীগ অব নেশনস • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
দুটি অঞ্চলের জনগণের মধ্যকার সংঘর্ষ এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ শেষে সালিশের মাধ্যমে জনগণ একটি গ্রামবাসীকে সংঘর্ষের জন্য দায়ী করে তাদেরকে অপমানজনক মুচলেকায় স্বাক্ষর ও জরিমানা প্রদানে বাধ্য করে। ফলে উক্ত গ্রামবাসী জরিমানা প্রদানে বাধ্য হলেও সুযোগ খুঁজতে থাকে প্রতিশোধ গ্রহণের।
- ক)(1)
বসনিয়ার রাজধানীর নাম কী ছিল?
- খ)(2)
তোষণনীতি কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনা ও মুচলেকার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনা ও চুক্তির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত চুক্তির ত্রুটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি রচনা করেছিল- তুমি কি একমত? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বসনিয়ার রাজধানীর নাম ছিল সারায়েভো (Sarajevo)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তোষণনীতি (Appeasement Policy) হলো একটি বিশেষ কূটনীতি, যেখানে সম্ভাব্য সংঘাত বা যুদ্ধ এড়ানোর জন্য কোনো আগ্রাসী ও শক্তিশালী রাষ্ট্রকে অযৌক্তিক দাবি বা ছাড় দিয়ে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করা হয়। ১৯৩০-এর দশকে ব্রিটেন ও ফ্রান্স হিটলারের নাৎসি জার্মানির একের পর এক আগ্রাসী দাবি মেনে নিয়ে এই তোষণনীতি অনুসরণ করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনা ও মুচলেকার সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং এর অবসানকারী ঐতিহাসিক 'ভার্সাই চুক্তি'র (১৯১৯) মিল রয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি এবং তার মিত্র শক্তি পরাজিত হলে বিজয়ী মিত্রশক্তি ১৯১৯ সালের ২৮ জুন ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জার্মানির ওপর এক কঠোর ও অপমানজনক চুক্তি চাপিয়ে দেয়। চুক্তির যুদ্ধাপরাধ ধারায় (ধারা ২৩১) সম্পূর্ণ যুদ্ধের দায় জার্মানির ওপর চাপানো হয় এবং জার্মানিকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয়। উদ্দীপকেও দেখা যায় দুটি পক্ষের সংঘর্ষ শেষে একটি গ্রামবাসীকে দায়ী করে অপমানজনক মুচলেকা এবং জরিমানা আদায় করা হয়, যা ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে জার্মানিকে ক্ষতিপূরণ ও যুদ্ধাপরাধের দায় চাপিয়ে দেওয়ার অনুরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্ত চুক্তি অর্থাৎ ১৯১৯ সালের 'ভার্সাই চুক্তি'র চরম ত্রুটি ও প্রতিশোধমূলক শর্তাবলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি রচনা করেছিল— আমি এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত।
ভার্সাই চুক্তি কোনো আপস বা সমঝোতামূলক চুক্তি ছিল না, বরং এটি ছিল পরাজিত জার্মানির ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া এক 'দণ্ডাদেশ' (Diktat)। এই চুক্তির মাধ্যমে জার্মানির সমস্ত উপনিবেশ কেড়ে নেওয়া হয়, সামরিক বাহিনীকে সংকুচিত করা হয় এবং অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়। এর ফলে জার্মান জাতির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, অপমান ও প্রতিশোধের স্পৃহা তৈরি হয়।
এই গণঅসন্তোষকে পুঁজি করে চরম উগ্র জাতীয়তাবাদী দল নাৎসি পার্টি ও তার নেতা এডলফ হিটলারের উত্থান ঘটে। হিটলার ভার্সাই চুক্তি অস্বীকার করে পুনরায় সামরিকীকরণ শুরু করেন এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলো আক্রমণ করেন। এভাবে ভার্সাই চুক্তির অন্যায্য ও পক্ষপাতদুষ্ট শর্তগুলোই জার্মান জাতিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসাত্মক পথে ঠেলে দিয়েছিল। সুতরাং বলা যায়, ভার্সাই চুক্তির মধ্যেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বীজ নিহিত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও