সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

সহপাঠ প্রশ্ন

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘মেঘনাদবদ্ধ কাব্য’ অনুসারে রাম-রাবণের যুদ্ধে স্বপক্ষত্যাগী, বিশ্বাসঘাতক, দেশদ্রোহী, অকৃতজ্ঞ ও স্বজনবিমুখ হিসেবে চিহ্নিত। অপরদিকে বীরবাহু, কুম্ভকর্ণ ও মেঘনাদ দেশপ্রেমিক। নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা জীবনেউৎসর্গকারী। যদিও বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে মেঘনাদ যুদ্ধ করার সুযোগ পায়নি। আজও বাঙালি সমাজে প্রবাদ হয়ে আছে- ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’।।

  1. ক)

    সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    “আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভীড়।” এ উক্তিটি তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বিভীষণের সাথে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য আছে? আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের মেঘনাদ ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, ষড়যন্ত্রের কাছে।”- উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের আলোকে এ উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম মোহাম্মদী বেগ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা ক্লাইভের গোপন চিঠিপত্র বহনকারী দ্রুতগামী বার্তাবাহক উমিচাঁদের অন্তরের গভীর ভীতি ও অনিশ্চয়তাবোধকে বোঝানো হয়েছে।

    নাটকে উমিচাঁদ যখন ক্লাইভ ও অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে স্বার্থের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে এবং নিজেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আবিষ্কার করে, তখন তার কাছে চারপাশের পরিবেশকে এক দমবন্ধ করা প্রতিবন্ধকতা বা দেয়ালতুল্য মনে হয়। সে বুঝতে পারে চারপাশের মানুষ ও ষড়যন্ত্রের জাল তাকে ঘিরে ফেলেছে, যেখান থেকে পালানোর কোনো পথ নেই। এই অবরুদ্ধ মানসিক যাতনা ও ভয় থেকেই সে উক্ত মন্তব্যটি করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বিভীষণের সাথে সিকান্দার আবু জাফর রচিত ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রধান ষড়যন্ত্রকারী ও বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরের চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বিভীষণ লঙ্কার রাজপরিবারের সদস্য হয়েও রাম-রাবণের যুদ্ধে স্বদেশের বিরুদ্ধে গিয়ে শত্রুপক্ষ রামের সাথে হাত মেলায় এবং স্বদেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। তার দেশদ্রোহিতার ফলে মেঘনাদ নিরস্ত্র অবস্থায় প্রাণ হারায় এবং দেশ ধ্বংসের মুখে পড়ে।

    ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকেও মীর জাফর ছিল নবাবের প্রধান সেনাপতি এবং নবাবের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তুল্য। কিন্তু ক্ষমতার লোভে ও ব্যক্তিস্বার্থে সে দেশের স্বাধীনতা জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশি ইংরেজ বেনিয়াদের সঙ্গে গোপনে ষড়যন্ত্র করে। পলাশীর যুদ্ধক্ষেত্রে বিশাল নবাবী বাহিনী নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে সে যুদ্ধ পরিচালনা করেনি এবং কৌশলে নবাবের পরাজয় নিশ্চিত করে। সুতরাং, স্বজাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশদ্রোহিতার দিক থেকে উদ্দীপকের বিভীষণ ও নাটকের মীর জাফর চরিত্রটি একই সূত্রে গাঁথা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের মেঘনাদ ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, ষড়যন্ত্রের কাছে।”—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    উদ্দীপকের মেঘনাদ ছিলেন বীর দেশপ্রেমিক যোদ্ধা। তিনি অস্ত্রাগারে পূজারত অবস্থায় নিজের আত্মীয় বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতায় শত্রুপক্ষের দ্বারা পরিবেষ্টিত হন। সম্মুখসমরে মেঘনাদকে পরাস্ত করা অসম্ভব জেনে রাম-লক্ষ্মণ বিভীষণের সহায়তা নিয়ে অন্যায় ও চোরাগোপ্তা পথে মেঘনাদকে হত্যা করে। মেঘনাদের এই পতন কোনো বীরোচিত যুদ্ধের পরাজয় ছিল না, বরং তা ছিল ঘরের শত্রুর ষড়যন্ত্রের নির্মম পরিণতি।

    একইভাবে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বীরদর্পে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন। মীর মদন ও মোহনলালের অসম সাহসিকতায় নবাব বাহিনী জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু মীর জাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফদের মতো প্রধান সেনাপতিরা বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং যুদ্ধ থামানোর অন্যায় নির্দেশ দিয়ে ইংরেজদের পথ সুগম করে দেয়। সিরাজউদ্দৌলার সৈন্যবল বা সামরিক শক্তির অভাব ছিল না; নবাবের এই পরাজয় ঘটেছিল সভাসদ ও সেনাপতিদের নীচ ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের কারণে।

    অতএব, উদ্দীপক ও নাটক উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, দেশপ্রেমিক বীররা সামরিক শক্তির কাছে নয়, বরং স্বজন ও নিকটজনদের হীন ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের কারণেই শোচনীয় পরিণতি বরণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাই প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন