যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: প্লেনে যাত্রার সময় পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে মাথা ব্যথা ও বমি হতে পারে।দৃশ্যকল্প-২: পবন দেবতার রোষানলে কালবৈশাখী ঝড় হয়।দৃশ্যকল্প-৩:

  1. ক)

    ব্যাখ্যা প্রধানত কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    'মানব মনের জিজ্ঞাসার নিবৃত্তি হলো ব্যাখ্যা' বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-৩ এ কোন ধরনের ব্যাখ্যার প্রতিফলন ঘটেছে?

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প ১ ও ২ এ প্রতিফলিত ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যাখ্যা প্রধানত দুই প্রকার। যথা: ১. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং ২. লৌকিক ব্যাখ্যা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো অজ্ঞাত, অস্পষ্ট বা জটিল বিষয় সম্পর্কে মানুষের মনে যে স্বাভাবিক কৌতূহল বা প্রশ্ন জাগে, যুক্তিসংগত ও স্পষ্ট উত্তরের মাধ্যমে সেই কৌতূহল দূর করাই হলো ব্যাখ্যা।

    মানুষ স্বভাবতই অনুসন্ধিৎসু। প্রকৃতির বিভিন্ন রহস্য বা কার্যকারণ সম্পর্ক জানার আগ্রহ মানুষের সহজাত। যখন কোনো জটিল বা দুর্বোধ্য ঘটনার কার্যকারণ নিয়ম বা অন্তর্নিহিত সত্য প্রকাশ করে বিষয়টিকে বোধগম্য ও সহজ করে তোলা হয়, তখন মানুষের মনের সংশয় দূর হয়ে মানসিক তৃপ্তি বা জিজ্ঞাসার নিবৃত্তি ঘটে। তাই বলা হয়—'মানব মনের জিজ্ঞাসার নিবৃত্তি হলো ব্যাখ্যা'。

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-৩ এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত 'বিশ্লেষণ' (Analysis) প্রক্রিয়ার প্রতিফলন ঘটেছে।

    কোনো জটিল বা মিশ্র ঘটনার অন্তর্নিহিত বিভিন্ন উপাদান বা কারণকে পৃথক পৃথকভাবে প্রদর্শন করে তার প্রকৃতি সুস্পষ্ট করাই হলো বিশ্লেষণ। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় জটিল কার্যকারণ সম্বন্ধ উন্মোচনে বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

    উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-৩ এর চিত্রে দেখা যাচ্ছে, 'পানির পাম্প গতিশীল হয়'—এই মিশ্র বা জটিল কার্যটির পেছনে বিদ্যমান বিভিন্ন শর্ত বা কারণসমূহ, যেমন: পর্যাপ্ত ডিজেল, মোটরের ক্ষমতা এবং সুইচের ব্যবহারকে পৃথক পৃথকভাবে নির্দেশ বা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জটিল ঘটনাটিকে তার মৌলিক ও কার্যকারণ সম্পর্কিত অংশগুলোতে ভেঙে ব্যাখ্যা করার এই রূপটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার বিশ্লেষণমূলক রূপকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা' এবং দৃশ্যকল্প-২ এ 'লৌকিক ব্যাখ্যা' প্রতিফলিত হয়েছে। নিচে এদের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ধারণাগত ভিত্তি: দৃশ্যকল্প-১ এ প্লেনে যাত্রার সময় অক্সিজেনের অভাবের কারণে মাথা ব্যথা ও বমির কারণ দর্শানো হয়েছে, যা প্রাকৃতিক নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। অপরদিকে, দৃশ্যকল্প-২ এ কালবৈশাখী ঝড়ের কারণ হিসেবে পবন দেবতার রোষানলকে দায়ী করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্ধবিশ্বাস ও মনগড়া ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত লৌকিক ব্যাখ্যা।

    ২. কার্যকারণ সম্পর্ক: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘটনার পেছনের বাস্তব কার্যকারণ সম্পর্ক ও প্রাকৃতিক নিয়ম আবিষ্কার করা হয় (যেমন: বায়ুর চাপ ও অক্সিজেনের হ্রাস)। অন্যদিকে লৌকিক ব্যাখ্যায় বাস্তব কার্যকারণ বিবেচনা না করে অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃতিক শক্তির ওপর নির্ভর করা হয়।

    ৩. যাচাইযোগ্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা: দৃশ্যকল্প-১ এর ব্যাখ্যাটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণযোগ্য, পরীক্ষণযোগ্য এবং বস্তুনিষ্ঠ। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ এর ব্যাখ্যাটি ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে এবং তা কোনোভাবেই পরীক্ষণ বা প্রমাণ সাপেক্ষ নয়।

    ৪. সার্বজনীনতা: দৃশ্যকল্প-১ এর ব্যাখ্যা দেশ-কাল-পাত্র নির্বিশেষে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও সার্বজনীন। পক্ষান্তরে, দৃশ্যকল্প-২ এর লৌকিক ব্যাখ্যাটি কেবল নির্দিষ্ট কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সার্বজনীন নয়।

    সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ বাস্তবমুখী ও যুক্তিযুক্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং দৃশ্যকল্প-২ কল্পনাপ্রসূত ও ভিত্তিহীন লৌকিক ব্যাখ্যা প্রকাশ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন