অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
A দেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যা অত্যাধিক। দেশটির জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র। ভূমিরূপ ও সমতল। এদেশের জনগণের প্রধান খাদ্য ভাত। এছাড়া এখানে শিক্ষার হার অত্যন্ত কম। অধিক জনসংখ্যার কারণে এদেশে খাদ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার নিম্নমান ইত্যাদি সমস্যা লেগেই আছে। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে উক্ত দেশের সরকার শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
- ক)(1)
নিট অভিবাসন কাকে বলে?
- খ)(2)
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে A দেশের জনাধিক্যের কারণগুলো ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অধিক জনসংখ্যার প্রভাব মোকাবেলায় A দেশের সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) একটি দেশে বহিরাগমনকারী (Immigrants) এবং দেশত্যাগী বা বহির্গমনকারী (Emigrants) জনসংখ্যার মধ্যকার পার্থক্যকে নিট অভিবাসন (Net Migration) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবার পরিকল্পনা হলো একটি পরিবারে সন্তানের সংখ্যা নির্ধারণ, সন্তান গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধের সচেতন প্রয়াস। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রচার ও সামগ্রী সহজলভ্য করে জন্মহার কার্যকরভাবে হ্রাস করা যায়। তাছাড়া এটি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি পরিকল্পিত পরিবার গঠনে সহায়তা করে জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধির চাপ কমাতে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' দেশের জনাধিক্যের পেছনে প্রধানত ভৌগোলিক ও আর্থ-সামাজিক কারণসমূহ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
উদ্দীপক অনুযায়ী, 'A' দেশের জনাধিক্যের প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ ও সমতল ভূমিরূপ: দেশটির ভূমিরূপ সমতল এবং জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র। এ ধরনের ভৌগোলিক পরিবেশ মানুষের বসবাসের জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং এর ফলে প্রজনন ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পায়।
২. খাদ্যাভ্যাস: উদ্দীপকে উল্লিখিত জনগণের প্রধান খাদ্য ভাত। কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে প্রভাব ফেলে থাকে বলে বিবেচনা করা হয়।
৩. শিক্ষার অভাব ও অজ্ঞতা: দেশটিতে শিক্ষার হার অত্যন্ত কম। শিক্ষার অভাব জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ, কারণ অশিক্ষার ফলে মানুষ সচেতন হতে পারে না এবং পরিবার পরিকল্পনার তাৎপর্য অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়।অতএব, অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ, সমতল ভূমি, খাদ্যাভ্যাস এবং চরম নিরক্ষরতার কারণেই 'A' দেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যা বা জনাধিক্যের সৃষ্টি হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অধিক জনসংখ্যার প্রভাব মোকাবেলায় 'A' দেশের সরকারের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব আরোপের পদক্ষেপটি অত্যন্ত সময়োপযোগী, বাস্তবমুখী এবং কার্যকর।
'A' দেশে অধিক জনসংখ্যার কারণে খাদ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থান সংকট ও জীবনযাত্রার নিম্নমানের মতো গভীর সমস্যা দেখা দিয়েছে। কোনো দেশের জনসংখ্যা তখনই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় যখন তা অনুৎপাদনশীল থাকে। এই জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে তা দেশের জন্য আশীর্বাদে পরিণত হয়।
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের কার্যকারিতা নিম্নরূপ:
১. মানবসম্পদ উন্নয়ন: সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অদক্ষ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ শ্রমশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব। এতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
২. জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ: সাধারণ শিক্ষার বিস্তার ঘটলে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে, বাল্যবিয়ে হ্রাস পাবে এবং পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের মানসিকতা গড়ে উঠবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জন্মহার কমাতে সহায়ক হবে।
৩. উৎপাদনশীলতা ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি: প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী আত্মকর্মসংস্থান ও শিল্প-কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে, যা দারিদ্র্য দূর করে জীবনযাত্রার মান বাড়াবে।সুতরাং, শুধু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং বিদ্যমান জনসংখ্যাকে দায় থেকে সম্পদে রূপান্তর করতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সম্প্রসারণই 'A' দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির সর্বোত্তম ও টেকসই কৌশল। তাই সরকারের গৃহীত পদক্ষেপটি যথার্থ ও অত্যন্ত কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও