বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে হরিপুর গ্রামের মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে। ধনাঢ্য ব্যবসায়ী কালাম সাহেব গ্রামের মানুষকে নিয়মিত দান-খয়রাত ও আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন। গ্রামের আরেক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জামাল সাহেব নিজস্ব অর্থে একটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে নতুন পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। এতে গ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার অবসান ঘটে। সারা বছর চাষাবাদ করা সম্ভব হয় বলে এখন আর হরিপুর গ্রামের মানুষের আর্থিক সাহায্য গ্রহণের প্রয়োজন হয় না।
- ক)(1)
'মনীষা' অর্থ কী?
- খ)(2)
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান বলতে কী বোঝানো হয়েছে? বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের কালাম সাহেবের 'দ্রান-খয়রাত' 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে বর্ণিত মানব-কল্যাণের ধারণার সঙ্গে কেন সাদৃশ্যপূর্ণ নয় তা বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের জামাল সাহেবের কর্মকাণ্ডে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের লেখকের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে।" মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মনীষা' শব্দের অর্থ বুদ্ধি, প্রজ্ঞা বা ধীশক্তি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে মানব-মর্যাদাবোধ বৃদ্ধি এবং মানুষের মানবিক সত্তার বিকাশ সাধনকে মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান বলা হয়েছে।
প্রাবন্ধিক আবুল ফজলের মতে, কেবল অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান কিংবা বাহ্যিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া আসল মানব-কল্যাণ নয়। যে কল্যাণ মানুষের আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করে এবং মানুষকে পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত করে মনুষ্যত্ব অর্জনে সহায়তা করে, তাই হলো মানব-কল্যাণ শুরুর প্রথম পদক্ষেপ বা প্রাথমিক সোপান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কালাম সাহেবের 'দান-খয়রাত' মূলত মানুষের আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে এবং পরনির্ভরশীলতা তৈরি করে, তাই এটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের ধারণার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, সাধারণ দান-খয়রাত বা ভিক্ষা দেওয়া প্রকৃত মানব-কল্যাণ নয়। এ ধরনের কাজে গ্রহীতার মানবিক মর্যাদা ও আত্মসম্মান ভূলুণ্ঠিত হয় এবং মানুষ কর্মবিমুখ ও পরমুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে। প্রকৃত মানব-কল্যাণ হলো মানুষের অন্তরের মানবশক্তি ও মর্যাদাকে জাগ্রত করা।
উদ্দীপকের কালাম সাহেব গ্রামের জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষদের নিয়মিত দান-খয়রাত দিয়ে সাহায্য করতেন। এতে সাময়িকভাবে তাদের অভাব হয়তো পূরণ হতো, কিন্তু তাদের স্থায়ী মুক্তি মেলেনি বা সমস্যার মূল উৎপাটন হয়নি; বরং তারা কালাম সাহেবের সাহায্যের ওপর স্থায়ীভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। লেখকের দৃষ্টিতে এটি মানব-মর্যাদাহানিকর কাজ। তাই কালাম সাহেবের দান-খয়রাত প্রবন্ধে বর্ণিত মানব-কল্যাণের সংজ্ঞার সাথে মেলে না।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের জামাল সাহেবের কর্মকাণ্ডে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের লেখকের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে”—মন্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ।
'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক আবুল ফজল সামগ্রিক ও গঠনমূলক কল্যাণমূলক কাজের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রকৃত মানব-কল্যাণ হলো এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে মানুষ পরনির্ভরতা কাটিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে এবং মর্যাদার সাথে জীবনযাপন করতে পারে। সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে মানুষের সম্ভাবনাকে বিকশিত করাই আসল কল্যাণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, হরিপুর গ্রামের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য জামাল সাহেব নিজস্ব অর্থে প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণ করেন। এর ফলে গ্রামের দীর্ঘদিনের জলবদ্ধতা দূর হয়, সারা বছর মানুষ নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করতে সক্ষম হয় এবং কারও কাছে হাত পাতার বা সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়। মানুষ নিজের পরিশ্রমে মাথা উঁচু করে বাঁচার সুযোগ পায়।
জামাল সাহেবের এই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগটি মানুষের মর্যাদাবোধকে অক্ষুণ্ণ রেখে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলেছে, যা 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের লেখকের মূল ভাবনার সাথে হুবহু মিলে যায়। লেখক যে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও স্বাবলম্বী সমাজ গঠনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন, জামাল সাহেবের কাজের মধ্য দিয়ে তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। অতএব, মন্তব্যটি যথার্থ ও সুপ্রতিষ্ঠিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও