অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মি. সুমন একজন জনসংখ্যা গবেষক। দেশের জনাধিক্য সমস্যা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অধিক জনসংখ্যা একটি দেশের খাদ্য ঘাটতিসহ নানাবিধ আর্থ-সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করে। কিন্তু নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যাকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে জনসম্পদে পরিণত করা গেলে তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। তার মতে, জনসংখ্যা একটি দেশের জন্য শুধু অভিশাপই নয় বরং আশীর্বাদও বটে। প্রয়োজন শুধু জনসংখ্যার কার্যকর ব্যবস্থাপনা।

  1. ক)

    জনসংখ্যার ঘনত্ব কী?

    (1)
  2. খ)

    'জনসংখ্যা বৃদ্ধি পরিবেশ দূষণ ঘটায়'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    অধিক জনসংখ্যা কী কী আর্থ-সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করে? তোমার দেশের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "জনসংখ্যা শুধু অভিশাপ নয় বরং আশীর্বাদও বটে"- উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দেশের প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে যত জন লোক বসবাস করে, তাকে জনসংখ্যার ঘনত্ব বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বহুমুখী চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ ঘটায়।

    জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে অতিরিক্ত মানুষের বাসস্থান তৈরি ও কৃষিজমি সম্প্রসারণের জন্য ব্যাপকভাবে বনভূমি ও গাছপালা উজাড় করা হচ্ছে। এছাড়া কলকারখানা স্থাপন, যানবাহন বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত বর্জ্য অপসারণের কারণে বায়ু, পানি ও মাটি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। প্রকৃতির ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত সম্পদ আহরণ ও ব্যবহারের ফলে বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়ে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অধিক জনসংখ্যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নানাবিধ আর্থ-সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. খাদ্য ঘাটতি ও অপুষ্টি: বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, ফলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ব্যাহত হয় এবং দেশের বহু মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভোগে।
    ২. বেকারত্ব ও দারিদ্র্য: দেশে যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে, সে অনুপাতে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দারিদ্র্যের হার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
    ৩. বাসস্থান ও ভূমির সংকট: বর্ধিত জনসংখ্যার বসবাসের জন্য আবাদি জমি ও নদী-নালা ভরাট করে বাসস্থান নির্মাণ করায় আবাদি জমি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং বস্তি সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে।
    ৪. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ: স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও চিকিৎসকের তুলনায় সেবাগ্রহীতার সংখ্যা অত্যধিক হওয়ায় গুণগত শিক্ষা ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বিপুল জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হচ্ছে।
    ৫. সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি: অভাব ও বেকারত্বের কারণে সমাজে অপরাধ প্রবণতা, চুরি, ছিনতাই, দুর্নীতি ইত্যাদি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে গবেষক মি. সুমনের উক্তিটি যথার্থ, কারণ সঠিক নীতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে অদক্ষ জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে তা দেশের জন্য অভিশাপ না হয়ে আশীর্বাদে পরিণত হয়।

    একটি দেশের জনসংখ্যা তখনই অভিশাপ হয়ে ওঠে যখন তা অতিরিক্ত হয় এবং জনগণ অশিক্ষিত, অদক্ষ ও পরনির্ভরশীল থাকে। ফলে তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা না রেখে জাতীয় আয়ের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, যা খাদ্য সংকট, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বৃদ্ধি করে।

    তবে এই জনসংখ্যাই পরম আশীর্বাদ হতে পারে যদি তাদের ওপর কার্যকর মানবসম্পদ উন্নয়ন কৌশল প্রয়োগ করা যায়:
    ১. শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন: জনসংখ্যাকে আধুনিক ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত এবং সময়োপযোগী প্রশিক্ষণে দক্ষ করে তুললে শ্রমের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
    ২. স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি: সুস্বাস্থ্যের অধিকারী জনগোষ্ঠী দীর্ঘ সময় সক্রিয়ভাবে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখতে পারে।
    ৩. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স: প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ দেশে শিল্প ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে। তাছাড়া দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা (রেমিট্যান্স) অর্জন করা সম্ভব হয়, যা দেশের অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করে। চীন, জাপান বা এমনকি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ও প্রবাসী আয় এর বড় উদাহরণ।

    অতএব, জনসংখ্যা নিজেই কোনো সমস্যা নয়; যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও উপযুক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে পারলে জনসংখ্যা দেশের জন্য সবচেয়ে বড় আশীর্বাদে পরিণত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন