সাহিত্য পাঠ • বিদ্রোহী • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
১৯৬১ সালে আলজেরিয়ায় যখন স্বাধীনতা সংগ্রামের ঢেউ তুঙ্গে, তখন রাজপথে প্রতিবাদকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ফরাসি পুলিশ—চালিয়েছিল নির্মম গণহত্যা। প্রায়ই জঙ্গলে, নদীতে, খালেবিলে পাওয়া যেত প্রতিবাদকারীদের লাশ। পনের বছরের কিশোরী ফাতিমা বেদার ঐ সংগ্রামে জীবন দিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।ফাতিমাকে হত্যা করায় আন্দোলন আরো তীব্র হয়। দলে দলে নারী ও শিশুরা জড়ো হয় প্রতিবাদ সমাবেশে। ফাতিমা বেদারদের রক্তের বিনিময়ে আলজেরিয়া ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়।
- ক)(1)
ফরিদপুরে কত তারিখে শোভাযাত্রা চলল?
- খ)(2)
“মানুষের যখন পতন আসে তখন পদে পদে ভুল হতে থাকে।” -ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ফাতিমা বেদার'র সাথে 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বাঙালি তরুণদের রক্ত দেয়ার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি তুলে ধর।
- ঘ)(4)
“প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক এবং ‘বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় মূলত দখলদার শাসক শ্রেণির নির্মম দমন-নিপীড়নের ইতিহাসই বর্ণিত হয়েছে।”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফরিদপুরে ১৯৫২ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি তারিখে শোভাযাত্রা বের হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শাসকগোষ্ঠী যখন চরম স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করে নিজের নিশ্চিত পতনকে ডেকে আনে, তখন তারা একের পর এক অবিবেচকের মতো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে থাকে—এ বিষয়টি বোঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে।
১৯৫২ সালে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর তৎকালীন পাকিস্তানি পুলিশ নির্মমভাবে গুলি চালায়। এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের কারণে আন্দোলন দমন হওয়ার পরিবর্তে আরও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং শাসকগোষ্ঠীর ভিত কেঁপে ওঠে। স্বৈরাচারী শাসকদের এমন আত্মঘাতী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত দেখেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মন্তব্য করেছিলেন যে পতনের সময় মানুষের পদে পদে ভুল হতে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ফাতিমা বেদার এবং ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনায় সালাম, বরকত, রফিক প্রমুখ তরুণদের রক্তদানের মধ্য দিয়ে আত্মত্যাগের মাধ্যমে স্বাধিকার অর্জনের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
‘বায়ান্নর দিনগুলো’ স্মৃতিচারণমূলক রচনায় দেখা যায়, ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি মায়ের ভাষা বাংলার মর্যাদার দাবিতে রাজপথে নামা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্র ও সাধারণ মানুষের ওপর বর্বর পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এতে বরকত, রফিক, সালাম, জব্বারসহ নাম না জানা অনেক তরুণ শহীদ হন। তাঁদের রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষা রক্ষা পায় এবং বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
একইভাবে উদ্দীপকে ১৯৬১ সালে আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামে কিশোরী ফাতিমা বেদার ফরাসি ঔপনিবেশিক পুলিশের নির্মম গুলিতে আত্মাহুতি দেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ সংগ্রামকে বহুগুণ তীব্রতর করে এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আলজেরিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। মাতৃভূমি ও স্বাধিকার রক্ষায় তরুণদের জীবন উৎসর্গ করে জাতিকে জাগিয়ে তোলার এই ঐতিহাসিক তাৎপর্য উদ্দীপক ও ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ উভয় রচনায় অভিন্ন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক এবং ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনায় মূলত দখলদার শাসক শ্রেণির নির্মম দমন-নিপীড়নের ইতিহাসই বর্ণিত হয়েছে”—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত হয়েছে ১৯৬১ সালের আলজেরিয়ার রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রাম, যেখানে ফরাসি ঔপনিবেশিক শক্তি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মম গণহত্যা চালিয়ে তাদের মরদেহ গুম করত। এমনকি পনেরো বছরের কিশোরী ফাতিমা বেদারকেও তারা হত্যা করতে দ্বিধা করেনি। এখানে ঔপনিবেশিক শাসকশ্রেণির নৃশংস দমননীতির প্রতিফলন ঘটেছে।
অন্যদিকে, ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ রচনায় ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠীর অমানবিক রূপ চিত্রিত হয়েছে। ন্যায্য দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা এবং রাজনৈতিক নেতাদের বিনাবিচারে কারারুদ্ধ রাখা ছিল তাদের দমন-পীড়নের প্রধান অস্ত্র।
যদিও একটির প্রেক্ষাপট ছিল আলজেরিয়ার ফরাসিদের বিরুদ্ধে জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম এবং অপরটির প্রেক্ষাপট ছিল বাঙালি জাতির পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে ভাষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন; কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই শাসকশ্রেণির উদ্দেশ্য ছিল এক—জনগণের ন্যায্য কণ্ঠরোধে নৃশংস পাশবিক শক্তি প্রয়োগ করা। উভয় ঘটনাই প্রমাণ করে যে শোষক ও দখলদারদের চরিত্র সর্বদাই এক এবং তাদের নির্মম অত্যাচারের চূড়ান্ত পরিণতিতেই মুক্তির পথ উন্মোচিত হয়। সুতরাং উক্তিটি সার্বিক অর্থেই সত্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও