জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
সিলোম কী?
- খ)(2)
হাইড্রোকে মিথোজীবী বলা হয় কেন?
- গ)(3)
প্রকৃতিতে "X" এর সংরক্ষণে গৃহীত উপাসমূহ লিখ।
- ঘ)(4)
"X" ও "Y" এর মধ্যে কোনটি বিবর্তনের সাক্ষ্য বহন করে? আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ত্রিস্তরী প্রাণীর ভ্রূণীয় বিকাশের সময় মেসোডার্ম স্তর থেকে সৃষ্ট এবং মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা পরিবেষ্টিত তরলে পূর্ণ দেহগহ্বরকে সিলোম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যখন দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব ঘনিষ্ঠভাবে সহাবস্থান করে এবং একে অপর থেকে উপকৃত হয়, তখন সেই সম্পর্ককে মিথোজীবিতা বলে। সবুজ হাইড্রা (Hydra viridissima) এবং এককোষী সবুজ শৈবাল Zoochlorella-এর মধ্যে এই ধরনের মিথোজীবী সম্পর্ক দেখা যায়। শৈবাল হাইড্রার গ্যাস্ট্রোডার্মিসের কোষে বাস করে আশ্রয় পায় এবং হাইড্রার বিপাকীয় কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ চালায়। বিনিময়ে হাইড্রা শৈবালের প্রস্তুতকৃত খাদ্য এবং অক্সিজেন গ্রহণ করে। উভয় জীবই পরস্পরের দ্বারা উপকৃত হয় বলে হাইড্রাকে মিথোজীবী বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের "X" হলো Labeo (রুই মাছ)। প্রকৃতিতে এর সংরক্ষণে নিম্নলিখিত উপায়সমূহ গ্রহণ করা যেতে পারে:
১. প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ: হালদা নদীসহ রুই মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রসমূহ দূষণমুক্ত রাখা এবং সেখানে বাঁধ নির্মাণ বা অপরিকল্পিত খনন বন্ধ করা।
২. প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিষিদ্ধকরণ: সাধারণত মে থেকে জুলাই মাসে ডিম ছাড়ার মৌসুমে মা মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা ও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা।
৩. পোনা ও জাটকা নিধন রোধ: ছোট ফাঁসের কারেন্ট জাল ও অন্যান্য ক্ষতিকারক জালের ব্যবহার বন্ধ করে পোনা মাছের বৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
৪. অভয়াশ্রম স্থাপন: বিভিন্ন নদী ও হাওরে স্থায়ী ও অস্থায়ী মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তুলে সেখানে মাছের বংশবৃদ্ধির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।
৫. জলদূষণ রোধ: শিল্পকারখানার বর্জ্য, কীটনাশক এবং গৃহস্থালির বর্জ্য নদী ও জলাশয়ে ফেলা বন্ধ করা।
৬. সচেতনতা বৃদ্ধি: জেলে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের "X" হলো Labeo (রুই মাছ) এবং "Y" হলো Latimeria (ল্যাটিমেরিয়া বা সিলোক্যান্থ)। এদের মধ্যে "Y" অর্থাৎ Latimeria জীবন্ত জীবাশ্ম (Living Fossil) হিসেবে বিবর্তনের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য বহন করে।
নিচে এর সপক্ষে আলোচনা করা হলো:
১. প্রাচীনত্ব ও অপরিবর্তিত রূপ: সিলোক্যান্থ জাতীয় মাছ ক্রিটেশিয়াস যুগে (প্রায় ৬৫-৭০ মিলিয়ন বছর আগে) বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হতো। কিন্তু ১৯৩৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে জীবিত Latimeria আবিষ্কৃত হয়। সুদূর অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই প্রজাতির শারীরিক গঠন প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
২. সংযোগকারী যোগসূত্র (Connecting Link): Latimeria-এর পাখনাগুলো সাধারণ মাছের মতো নয়, বরং মাংসল লতিযুক্ত (lobe-finned)। এদের পাখনার অভ্যন্তরীণ অস্থির গঠন ডাঙ্গার চতুষ্পদী মেরুদণ্ডী প্রাণীদের (Tetrapods) অঙ্গের গঠনের সাথে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ।
৩. স্থলচর প্রাণীর উৎপত্তির প্রমাণ: বিজ্ঞানীদের মতে, সিলোক্যান্থের মতো প্রাচীন লতিযুক্ত পাখনাধারী মাছ থেকেই ডেভোনিয়ান যুগে প্রথম উভচর প্রাণীর বিবর্তন ঘটেছিল। Latimeria জল থেকে স্থলে অভিযোজনের একটি সুস্পষ্ট ক্রান্তিকালীন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।পক্ষান্তরে, Labeo একটি আধুনিক অস্থিময় (Teleost) মাছ যা সাম্প্রতিক অভিযোজনের ফসল। তাই জীবন্ত জীবাশ্ম হিসেবে Latimeria-ই মেরুদণ্ডী প্রাণীদের জলজ পরিবেশ থেকে ডাঙ্গায় বিবর্তনের প্রত্যক্ষ ও ঐতিহাসিক সাক্ষ্য বহন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও