ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
সম্প্রতি উত্তরায়ন রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলে একটি প্রাচীন সভ্যতার সন্ধান পাওয়া যায়। ইতিহাসবিদগণ মনে করেন যে, এটি খুব উন্নত সভ্যতা ছিল। প্রাপ্ত উপাদানসমূহ বিশ্লেষণ করে তারা অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, ঐ সভ্যতার মানুষ লেখাপড়া জানত এবং তারা একটি বিশেষ ধরনের লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে। চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা এ লিখন পদ্ধতি কয়েকটি ধাপে বিকশিত হয়ে পূর্ণতা লাভ করে। তারা বসবাসের জন্য সুন্দর বাড়ি-ঘর তৈরি করেনি, কিন্তু ধর্মীয় কারণে। সুন্দর স্থাপত্য শিল্প, ভাস্কর্য, চারুকলা প্রভৃতির উদ্ভাবন ও প্রসার ঘটায়। তাদের সকল কর্মে দেবতাদের সন্তুষ্টি বিধানের প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়।
- ক)(1)
কে মিসরকে নীল নদের দান বলেছেন?
- খ)(2)
মিসরকে নীল নদের দান বলা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে প্রাচীন - মিসরীয়দের উদ্ভাবিত লিখন পদ্ধতির সাদৃশ্য কতটুকু? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে মিসরীয়দের সকল অবদানে ধর্মের প্রভাব। বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইতিহাসের জনক গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস মিসরকে 'নীল নদের দান' বলেছেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নীল নদ ছাড়া প্রাচীন মিসরের অস্তিত্ব ও সমৃদ্ধি কল্পনা করা যেত না বলেই মিসরকে নীল নদের দান বলা হয়েছে।
ভৌগোলিক দিক থেকে মিসর একটি মরুভূমিপ্রধান অঞ্চল। কিন্তু নীল নদের নিয়মিত বন্যায় পলিমাটি জমে এই মরুময় অঞ্চলটি উর্বর কৃষিজমিতে পরিণত হয়। এ উর্বর জমিতে প্রচুর খাদ্যশস্য উৎপাদিত হতো এবং নীল নদকে কেন্দ্র করেই সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা, জীবিকা ও একটি উন্নত সভ্যতা গড়ে ওঠে। নীল নদ না থাকলে মিসর সাহারা মরুভূমির মতো একটি শুষ্ক বালুকাময় অঞ্চলে পরিণত হতো। তাই মিসরের জন্ম ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি হওয়ায় হেরোডোটাস মিসরকে 'নীল নদের দান' বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত উত্তরায়ন রাজ্যের প্রাচীন সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে প্রাচীন মিসরীয়দের উদ্ভাবিত 'হায়ারোগ্লিফিক' লিখন পদ্ধতির পরিপূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান অবদান হলো তাদের উদ্ভাবিত চিত্রলিপি বা হায়ারোগ্লিফিক (Hieroglyphic) লিখন পদ্ধতি। মিসরীয়রা মনের ভাব প্রকাশের জন্য প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন চিত্র ও প্রতীকের সাহায্য নিত। পরবর্তীকালে এটি বিভিন্ন ধাপে বিবর্তিত হয়ে বর্ণমালাভিত্তিক চিত্রে রূপ নেয়। এই লিখন পদ্ধতির তিনটি ধারা ছিল—হায়ারোগ্লিফিক (পবিত্র লিপি), হিয়্যারাটিক (পুরোহিত লিপি) ও ডেমোটিক (জনসাধারণের লিপি)।
উদ্দীপকে উল্লেখিত উত্তরায়ন রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাপ্ত সভ্যতার মানুষ লেখাপড়া জানত এবং তারা চিত্রের মাধ্যমে এক বিশেষ লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে, যা কয়েকটি ধাপে বিকশিত হয়ে পূর্ণতা পায়। মিসরীয় সভ্যতার হায়ারোগ্লিফিক পদ্ধতিও চিত্রের ওপর ভিত্তি করেই শুরু হয়েছিল এবং তা কয়েকটি স্তরে বিবর্তিত হয়ে পরিপূর্ণতা লাভ করেছিল। সুতরাং উদ্দীপকের লিখন পদ্ধতিটি প্রাচীন মিসরীয়দের চিত্রলিপি বা হায়ারোগ্লিফিক লিখন পদ্ধতিরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার প্রতিটি সৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক অবদানে ধর্ম গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল।
মিসরীয়দের সমগ্র জীবনব্যবস্থা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল ধর্মবিশ্বাস। তারা পরকাল, পুনর্জন্ম ও বহু দেব-দেবীতে বিশ্বাস করত। তাদের বিশ্বাস ছিল যে, মৃত্যুর পর আত্মা বেঁচে থাকে এবং অনন্ত জীবন লাভ করে। এই ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণেই তারা ফারাও ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের মৃতদেহ অবিকৃত রাখার জন্য 'মমি' তৈরির বিজ্ঞান উদ্ভাবন করে এবং মমি সুরক্ষার জন্য বিশাল ও জটিল স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে 'পিরামিড' নির্মাণ করে। এছাড়া মন্দির, দেবতাদের বিশাল ভাস্কর্য ও দেয়ালচিত্র সবই নির্মিত হয়েছিল দেবতাদের সন্তুষ্টি বিধান ও পরলৌকিক মুক্তির আশায়। তারা নিজস্ব বসবাসের জন্য স্থায়ী অট্টালিকা না বানালেও পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের জন্য দেবতাদের মন্দির ও সমাধি সৌধ পাথরে অত্যন্ত নিপুণভাবে নির্মাণ করত।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, উত্তরায়ন রাজ্যের সভ্যতার মানুষ বসবাসের জন্য উন্নত বাড়ি-ঘর তৈরি করেনি; কিন্তু ধর্মীয় কারণে সুন্দর স্থাপত্য শিল্প, ভাস্কর্য ও চারুকলার প্রসার ঘটিয়েছিল এবং তাদের সকল কর্মে দেবতাদের সন্তুষ্টি বিধানের প্রবণতা ছিল। মিসরীয় সভ্যতার চিত্রটিও হুবহু একই রকম। তাদের গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসা, স্থাপত্য ও ভাস্কর্য প্রতিটি শাখার সূচনা ও বিকাশ হয়েছিল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও দেবতাদের তুষ্ট করার তাগিদ থেকে।
অতএব, বলা যায় যে প্রাচীন মিসরীয়দের শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও স্থাপত্যসহ যাবতীয় অবদানে ধর্মই ছিল মূল চালিকাশক্তি, যা উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও