অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

প্রায় ত্রিশ বছর আগে মিঃ জসিম লেখাপড়া শেষ করে কানাডা চলে যান। তৎসময়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে তার ধারণা ছিল নেতিবাচক। একটানা ত্রিশ বছর কাটিয়ে দেশে ফিরে তিনি অবাক। আগের বাংলাদেশ আর নেই। কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা প্রভৃতি সূচকে বাংলাদেশ আজ অগ্রসরমান। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পদাপর্ণ করেছে। মি. জসিম সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি দেশেই অবস্থান করবেন এবং অর্জিত অর্থ বিনিয়োগ করবেন।

  1. ক)

    প্রাকৃতিক পরিবেশ কী?

    (1)
  2. খ)

    অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক অবকাঠামো- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    বাংলাদেশ কি একটি উন্নয়নশীল দেশ? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মি. জসিমের যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে, সে সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দেশের জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি, নদ-নদী, মৃত্তিকা, খনিজ ও বনজ সম্পদ ইত্যাদি প্রাকৃতিক উপাদানসমূহের সমন্বয়ে যে পরিবেশ গড়ে ওঠে, তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনৈতিক অবকাঠামো বলতে পরিবহন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সেচ সুবিধা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিকে বোঝায়। এই উপাদানগুলো কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত পণ্য সুষ্ঠু বণ্টনে সরাসরি সহায়তা করে। অর্থনৈতিক অবকাঠামো যত উন্নত হয়, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তত বেশি সৃষ্টি হয় এবং জাতীয় উৎপাদন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়। তাই অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

    যেসব দেশে জাতীয় আয় ও মাথাপিছু আয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, দারিদ্র্য হ্রাস পায় এবং অর্থনীতি কৃষিভিত্তিক স্তর থেকে পর্যায়ক্রমে শিল্প ও সেবামুখী আধুনিক স্তরে রূপান্তরিত হতে থাকে, সেগুলোকে উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব জসিম ত্রিশ বছর পর কানাডা থেকে ফিরে এসে দেখতে পান বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রভৃতি ক্ষেত্রে লক্ষণীয় অগ্রগতি সাধন করেছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পদার্পণ করেছে। উন্নয়নশীল দেশের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মাথাপিছু আয় ও প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং কাঠামোগত ইতিবাচক পরিবর্তন। সুতরাং, উদ্দীপকে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলোর ভিত্তিতে স্পষ্টতই বলা যায় যে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মি. জসিমের ইতিবাচক মনোভাব সম্পূর্ণ যৌক্তিক এবং বাস্তবসম্মত।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ত্রিশ বছর আগে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে দেশ ছাড়া মি. জসিম বর্তমানে ফিরে এসে সার্বিক রূপান্তর প্রত্যক্ষ করেন। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বগতি, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়ন এবং নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ তাকে দেশে স্থায়ীভাবে বিনিয়োগ করতে অনুপ্রাণিত করেছে।

    বাংলাদেশের অর্থনীতি বিগত কয়েক দশক ধরে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি বজায় রেখে চলেছে। কৃষিভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে দেশ এখন আধুনিক শিল্প ও সেবা খাতের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তৈরি পোশাক শিল্প, রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের ফলে বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দেশের বিশাল কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠী (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ফলে উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    মি. জসিম দেশের এসব ইতিবাচক অগ্রগতি দেখে অর্জিত অর্থ দেশেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগতভাবেই লাভজনক হবে না, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে। অতএব, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে মি. জসিমের ইতিবাচক ধারণা সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন