‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

অনেক স্বপ্ন নিয়ে 'প্রত্যাশা' সমাজকল্যাণ সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্বশীলদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেওয়ায় সংস্থাটির কোনো গঠনতন্ত্র তৈরি করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন পর একটি গঠনতন্ত্র তৈরি হলেও তা অল্প সময়ের ব্যবধানে বাতিল হয়ে যায়।

  1. ক)

    যুক্তফ্রন্ট কী?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধান প্রণয়নের সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনার মূলে ছিল 'সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অমিল'- পাকিস্তানের প্রেক্ষিতে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তফ্রন্ট হলো ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে গঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক জোট।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বলতে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের স্বৈরশাসন, শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অবিস্মরণীয় গণবিস্ফোরণকে বোঝায়। এর মূল দাবি ছিল আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি এবং ৬ দফা ও ১১ দফার বাস্তবায়ন। এই অভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যপুস্তকের ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধান প্রণয়নের ঘটনার স্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর পাকিস্তানের দুই অংশের নেতৃবৃন্দের মধ্যে জাতীয় ভাষা, প্রতিনিধিত্ব, স্বায়ত্তশাসন প্রভৃতি বিষয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। ফলে দীর্ঘ নয় বছর দেশটিতে কোনো সংবিধান রচিত হতে পারেনি। অবশেষে ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ একটি সংবিধান কার্যকর হলেও মাত্র আড়াই বছরের ব্যবধানে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর সামরিক আইন জারির মাধ্যমে তা বাতিল করা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, 'প্রত্যাশা' নামক সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হলেও দায়িত্বশীলদের মতভেদের কারণে দীর্ঘদিন কোনো গঠনতন্ত্র তৈরি হতে পারেনি এবং তৈরির পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা বাতিল হয়ে যায়। এই ঘটনাটি ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধান রচনার দীর্ঘসূত্রতা এবং দ্রুত তা বাতিল হয়ে যাওয়ার সাথে হুবহু মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনা অর্থাৎ পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নে দীর্ঘসূত্রতা ও এর ব্যর্থতার মূলে মূলত ভৌগোলিক দূরত্বের পাশাপাশি 'সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অমিল' অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছিল।

    পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে, কিন্তু পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক-আশাক এবং সামাজিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে ছিল আকাশ-পাতাল ব্যবধান। জনসংখ্যার শতকরা ৫৬ ভাগ মানুষের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার অপচেষ্টা চালায়। বাঙালিরা ছিল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল ভাবধারায় বিশ্বাসী, পক্ষান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ছিল সামন্তবাদী ও সামরিক ভাবাপন্ন।

    এই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতার কারণে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানকে সমমর্যাদা দিতে অস্বীকার করে এবং ঔপনিবেশিক মানসিকতায় শোষণ চালাতে থাকে। যার ফলে সংবিধানের মৌলিক বিষয় যেমন—রাষ্ট্রভাষা, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, জাতীয় পরিষদে প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ ইত্যাদি নিয়ে চরম রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। ফলে দীর্ঘ নয় বছর পর ১৯৫৬ সালে সংবিধান প্রণীত হলেও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের অভাবে তা বেশিদিন টিকতে পারেনি এবং সামরিক শাসন জারি করে তা রদ করা হয়। সুতরাং, উক্ত অচলাবস্থা ও ব্যর্থতার মূলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অমিলই প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন