বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

“আমার আমি সে কত অতল অসীম,আমিই কি জানি-কে জানে কে আছে আমাতে মহামহিম।”

  1. ক)

    ‘কুর্নিশ’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম।”- উক্তিটির তাৎপর্য কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মর্মবাণীটি কীভাবে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সার্থক বা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবিম্ব নয়।”-উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘কুর্নিশ’ শব্দের অর্থ হলো অভিবাদন বা নত হয়ে সালাম করা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম”—উক্তিটির দ্বারা মানবপ্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং সকল ধর্মের ঊর্ধ্বে মানুষের মর্যাদাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

    কাজী নজরুল ইসলামের মতে, বাহ্যিক ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বা জাতিগত বিভেদের চেয়ে মানুষের আত্মিক পরিচয় ও মানবিক মূল্যবোধ অনেক বড়। ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণ সাধন এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলাই ধর্মের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাই সংকীর্ণ ধর্মীয় ভেদবুদ্ধি পরিহার করে সার্বজনীন মানবিকতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই লেখক মানুষ-ধর্মকে শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মর্মবাণীটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে বর্ণিত ‘আত্মোপলব্ধি’ এবং ‘আত্মার শক্তি’র জাগরণের সাথে সংগতিপূর্ণ।

    উদ্দীপকের চরণে নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক অপার, সীমাহীন ও মহামহিমান্বিত সত্তাকে আবিষ্কারের কথা বলা হয়েছে। মানুষ বাইরে নানা দিকে সন্ধান করলেও নিজের অন্তরের অসীম সম্ভাবনা ও ক্ষমতা সম্পর্কে অসচেতন থাকে।

    ‘আমার পথ’ প্রবন্ধেও লেখক আত্মাকে চেনার এবং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। লেখক বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের আত্মাকে চিনেছে, যে নিজের ভেতরের সত্যকে উপলব্ধি করেছে, সে কখনও পরনির্ভরশীল বা দাস হতে পারে না। নিজের অন্তরে ‘মহামহিম’ সত্যের উপস্থিতি অনুভব করাই আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে। তাই আত্মজ্ঞান ও আত্মার মাহাত্ম্য প্রকাশের দিক দিয়ে উদ্দীপকের ভাবটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের মূল দর্শনের সাথে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সার্থক বা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবিম্ব নয়।”—উক্তিটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে কেবল মানুষের অন্তরের অপরিমেয় গভীরতা ও মহত্ত্বের আত্মোপলব্ধির দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। অর্থাৎ, মানুষের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা ও আত্মশক্তির আবিষ্কারই উদ্দীপকের একমাত্র উপজীব্য।

    অন্যদিকে, ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে লেখক কাজী নজরুল ইসলাম কেবল আত্মোপলব্ধির কথাই বলেননি; তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের বিদ্রোহ, ভণ্ডামি ও পদলেহিতার অবসান, দাসত্বমুক্ত মানসিকতা গঠন এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণের বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেছেন। প্রবন্ধে লেখক নিজের ‘আমি’কে সত্যের দিশারি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা সমস্ত সংকীর্ণতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ভণ্ডামির প্রাচীর ভেঙে ফেলতে দ্বিধাবোধ করে না। এছাড়া প্রবন্ধে পরনির্ভরশীলতা ত্যাগ করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আহ্বান এবং হিন্দু-মুসলমানের মিলন ঘটিয়ে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছে।

    সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে কেবল ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আত্মোপলব্ধির অংশটি প্রতিফলিত হয়েছে, কিন্তু প্রবন্ধের বিস্তৃত সামাজিক প্রেক্ষাপট, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মুক্তিসংগ্রামের সামগ্রিক আহ্বান উদ্দীপকে অনুপস্থিত। কাজেই উদ্দীপকটি প্রবন্ধটির একদেশদর্শী প্রতিফলন মাত্র, পূর্ণাঙ্গ প্রতিবিম্ব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন