কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
স্কোয়াব কী?
- খ)(2)
কোয়েল পালন লাভজনক কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'B’ চিহ্নিত মুরগি পালন পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাণিজ্যিকভাবে মুরগি পালনের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' এবং C চিহ্নিত পালনের মধ্যে কোনটি উপযোগী? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবুতরের ৪ সপ্তাহ বা প্রায় এক মাস বয়সের কোমল মাংসবিশিষ্ট বাচ্চাকে স্কোয়াব (Squab) বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোয়েল পালন অত্যন্ত লাভজনক কারণ কোয়েলের শারীরিক বৃদ্ধি খুব দ্রুত ঘটে এবং এগুলো খুব অল্প বয়সে (মাত্র ৬-৭ সপ্তাহে) ডিম দেওয়া শুরু করে। বছরে এরা প্রায় ২৫০-৩০০টি ডিম দিয়ে থাকে। তাছাড়া এদের আকার ছোট হওয়ায় পালনের জন্য খুব কম জায়গা, খাদ্য ও পুঁজি লাগে এবং এদের রোগব্যাধি তুলনামূলকভাবে বেশ কম হয়। ফলে অল্প খরচে ও স্বল্প সময়ে বেশি মুনাফা অর্জন করা যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক অনুযায়ী মুরগি পালন পদ্ধতির তিনটি প্রধান ধারা হলো: মুক্ত পদ্ধতি, অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতি এবং আবদ্ধ পদ্ধতি। ছকে আবদ্ধ পদ্ধতির অধীনে খাঁচায় ও লিটার পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাই A হলো আবদ্ধ পদ্ধতি এবং 'B' হলো অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতি।
অর্ধ-আবদ্ধ পালন পদ্ধতি:
এ পদ্ধতিতে মুরগিকে একটি নির্দিষ্ট ঘর এবং ঘরের সামনে তারের জাল দিয়ে ঘেরা ফাঁকা বা খোলা জায়গা (রান) দেওয়া হয়। দিনের বেলা মুরগিগুলো ঘরের বাইরে নির্দিষ্ট ঘেরা জায়গায় মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায়, প্রাকৃতিক খাবার খায় ও রোদ পোহায়। রাতে বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় তারা ঘরে আশ্রয় নেয়। এ পদ্ধতিতে মুক্ত পদ্ধতির চেয়ে মুরগি বেশি সুরক্ষিত থাকে এবং সম্পূর্ণ আবদ্ধ পদ্ধতির তুলনায় ঘর তৈরিতে খরচ কিছুটা কম হয়। এটি মূলত পারিবারিকভাবে বা মাঝারি পরিসরে দেশি ও উন্নত জাতের মুরগি পালনে ব্যবহৃত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'B' চিহ্নিত পদ্ধতিটি হলো অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতি এবং 'C' চিহ্নিত পদ্ধতিটি হলো আবদ্ধ পদ্ধতির অন্তর্গত লিটার বা ডিপ লিটার পদ্ধতি। বাণিজ্যিকভাবে মুরগি পালনের ক্ষেত্রে B এবং C-এর মধ্যে 'C' অর্থাৎ লিটার পদ্ধতিটি অধিক উপযোগী। নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. স্থান সংকুলান ও উৎপাদনশীলতা: বাণিজ্যিক খামারে সীমিত জায়গায় অধিক সংখ্যক মুরগি পালন করতে হয়। অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতিতে ঘরের বাইরে উন্মুক্ত জায়গা বা রানের প্রয়োজন হয়, যা বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে অনেক জমির অপচয় ঘটায়। পক্ষান্তরে লিটার পদ্ধতিতে অল্প জায়গায় ঘরের মেঝেতে তুষ, করাতকলের গুঁড়া ইত্যাদি বিছিয়ে অনেক বেশি ব্রয়লার বা লেয়ার মুরগি পালন করা সম্ভব।
২. পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ও জৈব নিরাপত্তা: বাণিজ্যিক উৎপাদনের মূল ভিত্তি হলো রোগের সংক্রমণ রোধ ও কঠোর জৈব নিরাপত্তা রক্ষা। অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতিতে মুরগি বাইরে ঘুরে বেড়ানোর ফলে বন্য পাখি, কীটপতঙ্গ ও পরজীবীর মাধ্যমে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি থাকে। কিন্তু লিটার পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ আবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে খাদ্য, পানি ও তাপমাত্রা সরবরাহ করা যায়।
৩. উৎপাদন দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনা: ব্রয়লারের দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি এবং লেয়ারের ধারাবাহিক ডিম উৎপাদনের জন্য সুষম খাবার ও বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। লিটার পদ্ধতিতে মুরগির অযথা শক্তি অপচয় হয় না, ফলে খাদ্যের রূপান্তর হার (FCR) ভালো পাওয়া যায়। শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনার খরচও এ পদ্ধতিতে অনেক কম।
সুতরাং, অধিক লাভ, উন্নত ব্যবস্থাপনা, সীমিত স্থানে বহু মুরগি লালন-পালন ও উচ্চ জৈব নিরাপত্তার কারণে বাণিজ্যিকভাবে মুরগি পালনে অর্ধ-আবদ্ধ (B) পদ্ধতির চেয়ে লিটার (C) পদ্ধতিটি অধিক উপযোগী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও