রসায়ন ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কাকে বলে?
- খ)(2)
ধাতব ক্লোরাইডের দ্রাব্যতা HCI দ্রবণে হ্রাস পায় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে খাদ্য সংরক্ষকটি প্রস্তুতি সমীকরণসহ লেখ।
- ঘ)(4)
খাদ্য সংরক্ষকটির কার্যকারিতার কৌশল ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো পরমাণুর নিউক্লিয়াস থেকে তার সর্ববহিস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনের মধ্যবর্তী দূরত্বকে পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সম-আয়ন প্রভাবের (Common Ion Effect) কারণে ধাতব ক্লোরাইডের দ্রাব্যতা HCl দ্রবণে হ্রাস পায়।
ধাতব ক্লোরাইড (যেমন- NaCl বা AgCl) জলীয় দ্রবণে বিয়োজিত হয়ে ক্যাটায়ন ও ক্লোরাইড অ্যানায়ন (Cl⁻) উৎপন্ন করে। HCl একটি তীব্র তড়িৎ-বিশ্লেষ্য হওয়ায় এটি দ্রবণে সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়ে প্রচুর পরিমাণে H⁺ এবং সম-আয়ন Cl⁻ তৈরি করে। দ্রবণে Cl⁻ আয়নের ঘনমাত্রা অত্যধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় লা-শাতেলিয়ারের নীতি অনুযায়ী ধাতব ক্লোরাইডের বিয়োজন সাম্যাবস্থা পশ্চাৎমুখী হয়, যার ফলে ধাতব ক্লোরাইডের দ্রাব্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় বা তা অধঃক্ষিপ্ত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ডাইস্যাকারাইড থেকে ইথানল এবং ইথানল থেকে প্রস্তুতকৃত খাদ্য সংরক্ষকটি হলো ভিনেগার (ইথানয়িক অ্যাসিডের ৬-১০% জলীয় দ্রবণ)।
প্রস্তুতি সমীকরণসহ:
১. ডাইস্যাকারাইড (সুক্রোজ) থেকে ইথানল প্রস্তুতি:
ডাইস্যাকারাইড হিসেবে চিটাগুড় বা মোলাসেস দ্রবণকে লঘু করে তাতে ঈস্ট (Yeast) যোগ করা হয়। ঈস্ট থেকে নিঃসৃত ইনভার্টেজ (Invertase) এনজাইম সুক্রোজকে আর্দ্র-বিশ্লেষিত করে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে পরিণত করে:
এরপর ঈস্টের অপর এনজাইম জাইমেজ (Zymase) গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় ইথানল ও কার্বন ডাই-অক্সাইডে রূপান্তরিত করে:
২. ইথানল থেকে খাদ্য সংরক্ষক (ভিনেগার) প্রস্তুতি:
প্রাপ্ত ইথানলের লঘু জলীয় দ্রবণে (সাধারণত প্রায় ১০%) মাইকোডার্মা অ্যাসিটি (Mycoderma aceti) নামক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতে বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা জারিত করলে ইথানয়িক অ্যাসিড (ভিনেগার) উৎপন্ন হয়:
উৎপন্ন এসিটিক অ্যাসিডের ৬–১০% জলীয় দ্রবণই খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার নামে ব্যবহৃত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের খাদ্য সংরক্ষকটি হলো ভিনেগার বা ইথানয়িক অ্যাসিড (CH₃COOH)-এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণ। এর খাদ্য সংরক্ষণের কার্যকারিতার কৌশল নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. pH হ্রাসকরণ ও অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি:
ভিনেগারের প্রধান উপাদান দুর্বল অ্যাসিড অ্যাসিটিক অ্যাসিড জলীয় মাধ্যমে আংশিক বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোনিয়াম আয়ন (H₃O⁺ বা H⁺) উৎপন্ন করে:
এর ফলে খাদ্যের মাধ্যমের pH কমে গিয়ে সাধারণত ৪.৭৪ এর নিচে বা প্রায় ৩.০–৩.৫ এ নেমে আসে। অধিকাংশ খাদ্য বিনষ্টকারী ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অণুজীব নিরপেক্ষ বা সামান্য ক্ষারীয় pH (৬.৫–৭.৫) পরিবেশে বংশবৃদ্ধি করে। অম্লীয় পরিবেশে তারা বৃদ্ধি পেতে বা বেঁচে থাকতে পারে না।২. কোষঝিল্লি ভেদ ও বিপাক ক্রিয়া ব্যাহতকরণ:
অবিয়োজিত অ্যাসিটিক অ্যাসিড (CH₃COOH) অণুজীবের লিপিড সমৃদ্ধ কোষঝিল্লি সহজে ভেদ করে কোষের সাইটোপ্লাজমে প্রবেশ করে। ব্যাকটেরিয়ার কোষের অভ্যন্তরীণ তুলনামূলক ক্ষারীয় পরিবেশে এটি বিয়োজিত হয়ে প্রোটন (H⁺) মুক্ত করে। এর ফলে কোষের অভ্যন্তরীণ pH দ্রুত হ্রাস পায়।৩. অণুজীবের এনজাইম নিষ্ক্রিয়করণ ও মৃত্যু:
কোষাভ্যন্তরে অতিরিক্ত H⁺ আয়নের উপস্থিতিতে ব্যাকটেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উৎসেচক (এনজাইম) এবং প্রোটিনের স্বাভাবিক গঠন বিনষ্ট (Denaturation) হয়ে যায়। ফলে অণুজীবের স্বাভাবিক বিপাকীয় ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং অণুজীব ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।এভাবে ভিনেগার খাদ্যদ্রব্যকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ও পচনের হাত থেকে রক্ষা করে দীর্ঘকাল সতেজ রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও