পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জৈনিক নন্দিত নেতা সহপ ৩৫ জন সহচরকে কারাগারে বন্দি করার প্রতিবাদে গোটা বাংলাদেশ জাতীয় বৃহত্তর গণআন্দোলনের মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহারসহ নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তির স্বীকৃতি প্রদানের শাসকগোষ্ঠীকে বাধ্য করে।
- ক)(1)
মৌলিক গণতন্ত্র কে প্রবর্তন করেন?
- খ)(2)
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন সম্পর্কে লেখ।
- গ)(3)
তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে উদ্দীপকে বর্ণিত মামলাটির ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত আন্দোলনের প্রভাব পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন জেনারেল আইয়ুব খান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন। মুসলিম লীগের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল মিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে এবং বিখ্যাত ২১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে (মুসলিম লীগের ৯টি আসনের বিপরীতে যুক্তফ্রন্ট পায় ২২৮টি আসন) এবং পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগের একাধিপত্যের অবসান ঘটায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত মামলাটি হলো ১৯৬৮ সালের ঐতিহাসিক 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য)।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা দাবি পেশ করার পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শঙ্কিত হয়ে পড়ে। তাঁকেসহ বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে চিরতরে দমন করার লক্ষ্যে আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী সরকার ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে একটি মিথ্যা দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে।
এ মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১ নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভারতের সহায়তায় সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। উদ্দীপকেও স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর মাধ্যমে একজন নন্দিত নেতাসহ মোট ৩৫ জন সহচরকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্দোলনটি ছিল ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক 'গণঅভ্যুত্থান'। তৎকালীন রাজনীতিতে এ আন্দোলনের প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।
প্রথমত, এই আন্দোলনের চাপে আইয়ুব সরকারের চরম দম্ভ চূর্ণ হয়। তীব্র গণআন্দোলন ও ছাত্র-জনতার চরম আত্মত্যাগের (যেমন আসাদ, মতিউর ও ড. শামসুজ্জোহার শাহাদাত) মুখে আইয়ুব খান ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করতে এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হন।
দ্বিতীয়ত, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান একক অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে।
তৃতীয়ত, এই আন্দোলনের তীব্রতায় স্বৈরশাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ফলে পাকিস্তান সরকার প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করতে বাধ্য হয়।
পরিশেষে, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বাঙালিকে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার পথে সরাসরি চালিত করে, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও