ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
মামুন একজন রিকশাচালক। দীর্ঘতম দিন ও প্রচুর গরমের মধ্যে সে আল্লাহর একটি হুকুম পালন করতে সুবহে সাদিক হতে রাত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত আছে। সে জানে এটি একমাত্র ইবাদাত, যার পুরস্কার আল্লাহ নিজ হাতে দিবেন। সাকিব একটি বই পড়ে জানতে পারল যে, রাসুল (সা.)-এর পূর্বেকার যুগে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত বা মুস্তাহাব নামে কোনো পরিভাষা ছিল না। যদিও কুরআন-হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিল শব্দগুলো। পরবর্তীতে ইসলামি সাম্রাজ্যের বিস্তার লাভ করে। তখন শরিয়ত পালন অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। হিজরি দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় শতাব্দীর মধ্যে কিছু মুজতাহিদ আলেমগণ কুরআন-হাদিসের আলোকে এবং কিয়াস ও ইজমার ভিত্তিতে কিছু ফতোয়া বা সিদ্ধান্ত দেন। তা একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রে পরিণত হয় । ইসলামি শরিয়ত পালনও সহজ হয় ।
- ক)(1)
প্রসিদ্ধ মাযহাব কয়টি?
- খ)(2)
হাদিসকে কুরআনের ব্যাখ্যা বলার কারণ কী? ব্যাখ্যা কর ।
- গ)(3)
সাকিব বই পড়ে কোন শাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে জানতে পেরেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মামুনের কার্যক্রমের প্রভাব বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রসিদ্ধ মাযহাব চারটি (হানাফি, মালিকি, শাফিয়ি ও হাম্বলি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাদিসকে পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা বলার কারণ হলো— কুরআনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মৌলিক ও সংক্ষিপ্ত বিধিবিধান দেওয়া হয়েছে, আর হাদিসের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.) সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ ও বাস্তব প্রয়োগ সুস্পষ্ট করেছেন। যেমন— কুরআনে সালাত কায়েম করার এবং জাকাত আদায়ের সাধারণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সালাতের নিয়ম, রাকাত সংখ্যা কিংবা জাকাতের নিসাব নির্ধারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। তাই হাদিস মূলত কুরআনেরই বাস্তব ও প্রামাণ্য ব্যাখ্যা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাকিব বই পড়ে 'ফিকহশাস্ত্র' (ইসলামি আইনশাস্ত্র)-এর উৎপত্তি সম্পর্কে জানতে পেরেছে।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উপস্থিতির কারণে কোনো পৃথক বিধান বা শাস্ত্রের প্রয়োজন পড়েনি; সাহাবিগণ সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ অনুযায়ী আমল করতেন। পরবর্তীতে ইসলামি ভূখণ্ডের বিস্তৃতি ঘটলে এবং নতুন নতুন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যার উদ্ভব হলে সরাসরি কুরআন-সুন্নাহ ছাড়াও ইজমা ও কিয়াসের ভিত্তিতে আহকাম উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর ফলে হিজরি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে মুজতাহিদ ইমামগণের প্রচেষ্টায় ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, মুস্তাহাব প্রভৃতি পরিভাষাসহ মাসআলা-মাসায়েল সুবিন্যস্ত আকারে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রে রূপ নেয়, যা ফিকহশাস্ত্র নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিবরণটিতে ইসলামের বিস্তার, শরিয়তের হুকুম পালন সহজ করার লক্ষ্যে মুজতাহিদ আলেমদের ইজমা ও কিয়াসের মাধ্যমে ফতোয়া ও সিদ্ধান্ত প্রদান এবং এর ফলে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রের আত্মপ্রকাশের যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সুস্পষ্টভাবে ফিকহশাস্ত্রের উৎপত্তি ও বিকাশের ইতিহাসকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মামুনের কার্যক্রমটি হলো ইসলামি শরিয়তের ফরজ বিধান 'সিয়াম' বা রোজা পালন, যার ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে যে, মামুন একজন কঠোর পরিশ্রমী রিকশাচালক হওয়া সত্ত্বেও প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘতম দিনে আল্লাহর নির্দেশে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার বর্জন করে রোজা পালন করছে। এই কার্যক্রমের প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. তাকওয়া অর্জন: সিয়াম পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করা (সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)। মামুন একান্তে থাকলেও কিছু খায় না, কারণ সে জানে আল্লাহ দেখছেন। এতে তার ভেতর খাঁটি খোদাভীতি গড়ে উঠবে।
২. ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ: চরম গরম ও শারীরিক কষ্টের মধ্যেও পানাহার থেকে বিরত থাকা মামুনের মধ্যে অপরিসীম ধৈর্য (সবর) ও প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে।
৩. অফুরন্ত সওয়াব ও আল্লাহর নৈকট্য: হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন, "সিয়াম আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব" (সহিহ বুখারি)। মামুনের এই নিষ্ঠাপূর্ণ আমল তাকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের পাত্র বানাবে।
৪. অন্যদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: একজন শ্রমজীবী মানুষ হয়েও তীব্র কষ্টের মধ্যে মামুনের নিষ্ঠার সাথে রোজা রাখা সমাজের সামর্থ্যবান ও আরাম-আয়েশে থাকা মানুষদের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা এবং আত্মোপলব্ধির কারণ হবে।পরিশেষে বলা যায়, মামুনের সিয়াম সাধনা তার আত্মশুদ্ধি, নৈতিক দৃঢ়তা ও পরকালীন মুক্তির পথকে সুগম করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও