সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
সেলিনা বেগম একজন নতুন উদ্যোক্তা। তিনি সমাজের পিতৃ-মাতৃহীন শিশুদের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেলিনা বেগম আরও চিন্তা করেন যে, যদি এমন কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। যেত, যেখানে কৃষকদের উদ্বৃত্ত ফসল জমা করে তা দিয়ে দুঃসময়ে সমস্যাগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করা যাবে।
- ক)(1)
'Inn'- এর বাংলা প্রতিশব্দ কী?
- খ)(2)
দানশীলতাই ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণের মূলভিত্তি- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
সেলিনা বেগমের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন সময়ের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Inn'-এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো 'সরাইখানা' বা পান্থশালা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দানশীলতাই ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণের মূলভিত্তি—কারণ প্রাচীনকাল থেকে সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমগুলো মূলত ধর্মীয় অনুভূতি, মানবপ্রেম এবং সমাজের বিত্তবানদের ব্যক্তিগত দান ও সহমর্মিতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হতো। অতীতে রাষ্ট্রীয় বা পেশাদার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অনুপস্থিতিতে সমাজের দুস্থ, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষদের রক্ষা করতে নিঃস্বার্থ দান বা সদকা-খয়রাত করাই ছিল সমাজকল্যাণের প্রধান চালিকাশক্তি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সেলিনা বেগমের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য হলো পিতৃ-মাতৃহীন ও অসহায় শিশুদের লালন-পালন, ভরণপোষণ, শিক্ষা ও উপযুক্ত সামাজিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
উদ্দীপকে সেলিনা বেগম পিতৃ-মাতৃহীন শিশুদের জন্য যে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, তা মূলত ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান 'এতিমখানা'র (Orphanage) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এই ধরণের প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজের অনাথ ও অসহায় শিশুদের আশ্রয়, পুষ্টিকর খাবার ও বস্ত্রের সংস্থান করা; তাদের সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা প্রদান করে স্বাবলম্বী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা; এবং স্নেহের ছায়ায় নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটি হলো ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান 'ধর্মগোলা' (Dharma Gola), তৎকালীন কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষায় যার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলায় প্রায়শই খরা, বন্যা, মহামারি বা ফসলহানির কারণে দুর্ভিক্ষ ও খাদ্যাভাব দেখা দিত। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও আপৎকালীন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রামীণ এলাকায় ধর্মগোলা স্থাপন করা হতো। ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকরা তাদের উদ্বৃত্ত ফসলের একটি অংশ ধর্মগোলায় স্বেচ্ছায় জমা রাখতেন এবং পরবর্তীতে আকালের সময় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেখান থেকে খাদ্যশস্য ধার নিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকতে পারতেন।
তৎকালীন সময়ে মহাজনদের চড়া সুদের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে এবং গ্রামীণ দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধে ধর্মগোলা এক অনন্য সমবায়মূলক সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করত। অতএব, গ্রামীণ খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থায়িত্ব রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও