অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
রহিম মিয়া একজন প্রান্তিক কৃষক। তিনি কৃষি ঋণ গ্রহণের উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী একটি ব্যাংকে যান। কিন্তু ঋণ গ্রহণের জটিল প্রক্রিয়া হওয়ায় তিনি ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহণ করতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি গ্রাম্য মহাজনের কাছে চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করে উন্নত বীজ, সার ও কীটনাশক, পাওয়ার টিলার প্রভৃতি ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছেন।
- ক)(1)
মিশ্র খামার কি?
- খ)(2)
কৃষির জন্য ঋণ গ্রহণ অত্যাবশ্যক - ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কৃষি ঋণের কোন উৎসের কথা বলা হয়েছে - ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
রহিম মিয়ার ঋণের উৎস সমূহের সুবিধা কি একই - ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে খামারে শস্য বা ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্য চাষ ইত্যাদি একাধিক কৃষি কার্যক্রম একসাথে পরিচালিত হয়, তাকে মিশ্র খামার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অধিকাংশ কৃষকই দরিদ্র ও প্রান্তিক, যাদের নিজস্ব সঞ্চয় বা মূলধন নেই বললেই চলে। উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক ক্রয়, আধুনিক সেচ সুবিধা প্রদান এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণের নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। কৃষকের এই আর্থিক ঘাটতি পূরণ এবং নির্বিঘ্নে কৃষি উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রাখার জন্য কৃষিঋণ গ্রহণ অত্যাবশ্যক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কৃষিঋণের দুটি উৎসের কথা বলা হয়েছে: একটি হলো 'প্রাতিষ্ঠানিক উৎস' (ব্যাংক) এবং অন্যটি হলো 'অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস' (গ্রাম্য মহাজন)। তবে রহিম মিয়া কার্যত ঋণ গ্রহণ করেছেন 'অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস' অর্থাৎ গ্রাম্য মহাজনের কাছ থেকে।
ব্যাংক হলো কৃষিঋণের একটি প্রাতিষ্ঠানিক উৎস, যা সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কম সুদে কৃষকদের মূলধন সরবরাহ করে। কিন্তু উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে রহিম মিয়া সেখান থেকে ঋণ পেতে ব্যর্থ হন।
ফলস্বরূপ তিনি বিকল্প হিসেবে অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস অর্থাৎ গ্রাম্য মহাজনের দ্বারস্থ হন। অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ব্যবস্থায় কোনো আনুষ্ঠানিক জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতা থাকে না, দ্রুত নগদ অর্থ পাওয়া যায়; তবে এর সুদ অত্যন্ত চড়া হয়। রহিম মিয়া এই অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ নিয়েই প্রয়োজনীয় আধুনিক কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, উদ্দীপকে উল্লিখিত রহিম মিয়ার ঋণের উৎসসমূহের (ব্যাংক ও গ্রাম্য মহাজন) সুবিধা কোনোভাবেই একই বা অভিন্ন নয়; বরং তাদের মধ্যে প্রকৃতিগত ও কার্যকারিতাগত সুস্পষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে প্রাতিষ্ঠানিক উৎস (ব্যাংক) এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস (গ্রাম্য মহাজন)—এই দুই ধরনের আর্থিক উৎসের চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রথমত, ব্যাংকের মতো প্রাতিষ্ঠানিক উৎসের প্রধান সুবিধা হলো এখানে সরকার নির্ধারিত স্বল্প ও সহনীয় সুদের হার থাকে, কোনো অনৈতিক শোষণ থাকে না এবং ঋণের পরিশোধের মেয়াদ যুক্তিযুক্ত হয়। তবে এর বড় অসুবিধা হলো কাগজপত্রের জটিলতা, জামানতের বাধ্যবাধকতা এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা, যার কারণে উদ্দীপকে রহিম মিয়া ব্যাংক হতে ঋণ নিতে ব্যর্থ হন।
দ্বিতীয়ত, গ্রাম্য মহাজন বা অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসের একমাত্র আপাত সুবিধা হলো—কোনো আনুষ্ঠানিক নথিপত্র বা জামানত ছাড়াই প্রয়োজনের মুহূর্তে খুব দ্রুত ও সহজে ঋণ পাওয়া যায়। কিন্তু এর ঋণাত্মক দিক অত্যন্ত মারাত্মক; এতে সুদের হার অত্যন্ত চড়া থাকে, চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বাড়ে এবং অনেক সময় কৃষকের জমিজমা লিখে নিয়ে তাকে সর্বস্বান্ত করা হয়।
উদ্দীপকে রহিম মিয়া মহাজনের ঋণ দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি ও সাময়িক সাফল্য পেলেও উচ্চ সুদের কারণে দীর্ঘমেয়াদে এটি কৃষকের অর্থনৈতিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতএব, প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের নিরাপত্তা ও স্বল্পব্যয়িতার সুবিধা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সহজলভ্যতা কিন্তু শোষণমূলক চরিত্র পরস্পর সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও