পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ব্রিটিশ ভারতের একজন বরেণ্য রাজনীতিবিদ একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ প্রস্তাবে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। এর ভিত্তিতে পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনাবলীর মাধ্যমে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- ক)(1)
ছয় দফা দাবি পেশ করা হয়েছিল কত সালে?
- খ)(2)
মৌলিক অধিকার কেন প্রয়োজন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রস্তাবের সাথে সদৃশ্যপূর্ণ তোমার পঠিত বিষয়টি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
তোমার পঠিত উক্ত প্রস্তাবে স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল -উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছয় দফা দাবি ১৯৬৬ সালে পেশ করা হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাগরিকের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ, মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার সুরক্ষার জন্য মৌলিক অধিকার অপরিহার্য। মৌলিক অধিকার হলো সেসব সুযোগ-সুবিধা যা রাষ্ট্রীয় সংবিধানে স্বীকৃত থাকে এবং বিচার বিভাগের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হয়। এগুলো ব্যতীত একজন নাগরিক সমাজ ও রাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ, শিক্ষা ও জীবিকা নির্বাহ করতে পারে না এবং সরকারকেও স্বেচ্ছাচারী আচরণ থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রস্তাবের সাথে আমার পঠিত ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। উদ্দীপকেও ব্রিটিশ ভারতের একজন বরেণ্য রাজনীতিবিদ কর্তৃক একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপনের কথা বলা হয়েছে। লাহোর প্রস্তাবে বলা হয়েছিল যে, ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠন করা হবে এবং এই অঙ্গরাষ্ট্রগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম। উদ্দীপকে উল্লিখিত 'একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়' লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনার সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ইঙ্গিতকৃত লাহোর প্রস্তাবেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল— উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবে ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের সুস্পষ্ট রূপরেখা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে দিল্লির মুসলিম লীগ আইনপ্রণেতাদের কনভেনশনে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ কৌশলে 'States' শব্দের পরিবর্তে 'State' শব্দটি অন্তর্ভুক্ত করে অবিভক্ত পাকিস্তানের দাবি রূপদান করেন, যা লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনার পরিপন্থী ছিল।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশে পরিণত হয় এবং চরম রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার হয়। তখন বাঙালি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের 'স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহ' এবং 'পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন'-এর ধারণাকে অধিকার আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা এবং ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনের ভিত্তিও রচিত হয়েছিল এই লাহোর প্রস্তাবের চেতনার ওপর।
অবশেষে দীর্ঘ শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়, তার দার্শনিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি মূলত নিহিত ছিল লাহোর প্রস্তাবে। সুতরাং, বলা যায় লাহোর প্রস্তাবেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ প্রোথিত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও