সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
আলেয়া বেগম একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। সে সময়ে মেয়েদের লেখাপড়ার কোনো সুযোগ না থাকলেও তিনি তার বড় ভাইয়ের কাছে পড়ালেখা শেখেন। বিয়ের পর স্বামীর সহযোগিতায় নারীদের কল্যাণার্থে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানাবিধ কাজ করেন। তাই তাকে নারী শিক্ষার পথিকৃৎ বলে।
- ক)(1)
সতীদাহ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
দেবোত্তর ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
আলেয়া বেগমের কাজের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মহীয়সী নারীর কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য পাওয়া যায়-তা আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
নারী শিক্ষা ও অগ্রযাত্রায় তার অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সতীদাহ শব্দের অর্থ হলো স্বামীর চিতায় বিশ্বস্ত ও পুণ্যবতী স্ত্রী কর্তৃক স্বেচ্ছায় বা জোরপূর্বক আত্মাহুতি দেওয়ার প্রাচীন প্রথা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হিন্দু আইন অনুসারে দেবতাদের সন্তুষ্টি ও পূজার্চনার ব্যয় নির্বাহ কিংবা ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কাজের উদ্দেশ্যে কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করাকে 'দেবোত্তর' বলা হয়।
এ ধরনের সম্পত্তি সাধারণত কোনো ব্যক্তিবিশেষের মালিকানাধীন থাকে না; বরং দেব-দেবীর নামে তা নিবেদিত থাকে। দেবোত্তর সম্পত্তির আয় মন্দির পরিচালনা, পূজা-পার্বণ, তীর্থযাত্রীদের সেবা এবং দাতব্য কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়। এটি হিন্দু সমাজে প্রচলিত একটি ঐতিহ্যবাহী সমাজকল্যাণমূলক ব্যবস্থা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলেয়া বেগমের কাজের সাথে আমাদের পাঠ্যবইয়ের মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) তৎকালীন মুসলিম সমাজের কঠোর পর্দা প্রথা ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নারী শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে আজীবন সংগ্রাম করেছিলেন। প্রতিকূল পারিবারিক পরিবেশে থেকেও তিনি বড় ভাই ইব্রাহিম সাবেরের সহযোগিতায় শিক্ষালাভ করেন এবং বিয়ের পর স্বামী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় নারীদের আত্মউন্নয়নে আত্মনিয়োগ করেন।
উদ্দীপকের আলেয়া বেগমের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, তিনিও এক রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবে বড় ভাইয়ের নিকট থেকে পড়াশোনা শেখেন। পরবর্তীকালে স্বামীর সার্বিক সহযোগিতায় তিনি নারী কল্যাণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাসহ বহুবিধ সমাজসংস্কারমূলক কাজ করেন। এই জীবনবৃত্তান্ত ও কর্মপ্রচেষ্টা হুবহু বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবন ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নারী শিক্ষা ও অগ্রযাত্রায় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অবদান অসামান্য ও অবিস্মরণীয়।
তৎকালীন বাঙালি মুসলিম সমাজে নারীরা যখন কঠোর অবরোধ প্রথা, অশিক্ষা ও অন্ধবিশ্বাসের নিগড়ে বন্দি ছিল, তখন বেগম রোকেয়া তাদের মুক্তির অগ্রদূত হিসেবে আবির্ভূত হন। নারী শিক্ষা ও সামগ্রিক নারীমুক্তিতে তাঁর মূল অবদানগুলো নিম্নরূপ:
১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা: স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া অর্থে ১৯০৯ সালে তিনি ভাগলপুরে এবং পরবর্তীতে ১৯১১ সালে কলকাতায় 'সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন। বাড়ি বাড়ি ঘুরে ছাত্রী সংগ্রহ করে তিনি নারী শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন করেন।
২. সংগঠন প্রতিষ্ঠা: ১৯১৬ সালে তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার আদায় ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' (নিখিল বঙ্গ মুসলিম মহিলা সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি অসহায় নারীদের হাতের কাজ শেখানো, আর্থিক সহায়তা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করেন।
৩. সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে জাগরণ: রোকেয়া তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে নারী সমাজের দুরবস্থা তুলে ধরেন এবং তাদের ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেন। 'সুলতানাস ড্রিম', 'অবরোধবাসিনী', 'মতিচূর' প্রভৃতি গ্রন্থে তিনি নারী-পুরুষের সমমর্যাদা এবং নারী শিক্ষার অপরিহার্যতা যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেন।পরিশেষে বলা যায়, বেগম রোকেয়া ছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনিই প্রথম উপলদ্ধি করেছিলেন যে, সমাজের অর্ধেক অংশকে অন্ধকারে রেখে কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। ফলে নারী শিক্ষার বিস্তার ও নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও