‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

জমিদার ও মহাজনদের দ্বারা কৃষকদের শোষণ ও অত্যাচার দেখে জনাব এনামুল হক ব্যথিত হন এবং রাজনীতিতে যোগ দেন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় কৃষি ঋণ আইন, মহাজনি ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হয়। ফলে কৃষকদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

  1. ক)

    মজলুম জননেতা কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    লাহোর প্রস্তাব কেন উত্থাপন করা হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব এনামুল হকের সাথে কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কর্মকান্ডের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মকাণ্ড ছাড়াও উক্ত ব্যক্তিত্ব আরও অনেক জনহিতকর কাজ করেছেন - বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন মজলুম জননেতা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্রিটিশ ভারতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের জন্য পৃথক স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। অবিভক্ত ভারতে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসের অধীনে মুসলিমদের রাজনৈতিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সুরক্ষিত হবে না— এই আশঙ্কায় মুসলিম লীগ নেতা এ. কে. ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব এনামুল হকের কর্মকাণ্ডের সাথে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ব্রিটিশ শাসনামলে অবিভক্ত বাংলার দরিদ্র কৃষক ও প্রজা সাধারণ জমিদার ও মহাজনদের নির্মম শোষণ ও সুদের যাঁতাকলে পিষ্ট ছিল। এ. কে. ফজলুল হক 'কৃষক প্রজা পার্টি' গঠন করে কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৩৭ সালে বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ঋণ সালিশি বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঐতিহাসিক বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন ও মহাজনি আইন পাস করেন।

    উদ্দীপকের জনাব এনামুল হকও কৃষকদের শোষণ দেখে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে কৃষি ঋণ আইন, মহাজনি ও প্রজাস্বত্ব আইন পাসে ভূমিকা রেখেছিলেন। ফলে তাঁর এই জনহিতকর উদ্যোগ সরাসরি শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের অবদানকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মকাণ্ড ছাড়াও শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক শিক্ষা বিস্তার ও জাতীয় রাজনীতিতে অসামান্য অবদান রেখেছেন— উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সত্য।

    কৃষি ও প্রজা অধিকার সুরক্ষার বাইরে ফজলুল হক বাংলার পশ্চাৎপদ মুসলিম সমাজকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা প্রসারে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখেন। তিনি বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যার মধ্যে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমান মৌলানা আজাদ কলেজ), লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল, মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজ এবং চাখারের ফজলুল হক কলেজ অন্যতম। তিনি অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন।

    রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অনন্য। তিনি ১৯১৬ সালের 'লখনউ চুক্তি' সম্পাদনে ভূমিকা রাখেন, ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' উত্থাপন করেন এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু।

    সুতরাং, কৃষক রক্ষা আইনের বাইরেও শিক্ষা ও রাজনীতিতে তাঁর বহুমুখী জনহিতকর অবদান অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন