‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

ধনুঘাট শহরের নবনির্মিত স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় মি. মাইকেল জন একজন নির্বাচিত মেয়র। তাঁর স্বপ্ন সংস্থাটিকে একটি আধুনিক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে তিনি সংস্থার কাউন্সিলরদের নিয়ে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

  1. ক)

    পার্বত্য জেলা কয়টি?

    (1)
  2. খ)

    জেলা প্রশাসকের দুটি কাজ সম্পর্কে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্থাটির গঠন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মাইকেল জন তার সংস্থাটিকে আধুনিক করতে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে পার্বত্য জেলা ৩টি (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জেলা প্রশাসকের (DC) দুটি প্রধান কাজ নিম্নরূপ:
    ১. রাজস্ব সংক্রান্ত কাজ: জেলার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে ভূমি রাজস্ব আদায়, খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও তদারকি করা।
    ২. আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত কাজ: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ প্রশাসনকে দিক-নির্দেশনা প্রদান করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্থাটি হলো একটি পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন (যেহেতু ধনুঘাট শহরে মেয়র ও কাউন্সিলরদের কথা বলা হয়েছে)। সাধারণত শহরাঞ্চলের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসেবে এটি গঠিত হয়।

    এ সংস্থাটির গঠন প্রক্রিয়া নিম্নরূপ:
    ১. প্রধান ব্যক্তি: সংস্থাটির প্রধান হলেন 'মেয়র', যিনি সংশ্লিষ্ট শহর বা পৌর এলাকার নাগরিকদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
    ২. কাউন্সিলর: পুরো এলাকাকে কয়েকটি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একজন করে সাধারণ কাউন্সিলর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
    ৩. সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর: নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য প্রতি তিনটি সাধারণ ওয়ার্ডের বিপরীতে একজন করে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরও জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।
    এভাবে একজন মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলরবৃন্দ এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে সংস্থাটি গঠিত ও পরিচালিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাইকেল জন তাঁর সংস্থাটিকে আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী করতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করতে পারেন:

    ১. ডিজিটাল সেবার প্রসার (ই-গভর্ন্যান্স): নাগরিক সনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও ট্যাক্স প্রদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন বা ডিজিটালাইজড করা।
    ২. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ: আধুনিক বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট স্থাপন, রিসাইক্লিং ব্যবস্থা এবং শহরকে সবুজ ও দূষণমুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা।
    ৩. টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়ন: পরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সৌরচালিত স্মার্ট স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা।
    ৪. স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুবিধা বৃদ্ধি: প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং নাগরিক পার্ক ও পাঠাগার নির্মাণ করা।
    ৫. জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ: উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশন এবং অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (Citizen Grievance Redress System) চালু করা।

    যুক্তি: একটি আধুনিক শহর বলতে কেবল পাকা রাস্তাঘাট বোঝায় না, বরং নাগরিক সুবিধার সহজপ্রাপ্যতা, স্বচ্ছতা ও পরিবেশবান্ধব পরিবেশকে বোঝায়। উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে সংস্থাটির কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে, নাগরিক ভোগান্তি দূর হবে এবং সংস্থাটি সত্যিই একটি আধুনিক ও স্মার্ট স্থানীয় সংস্থায় রূপ নেবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন