যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: বাহ! চমৎকার!ছিঃ, ছিঃ! সাবাশ!দৃশ্যকল্প-২: মানুষ, সুন্দর ফুল, বুদ্ধিমান

  1. ক)

    সরল পদ কী?

    (1)
  2. খ)

    বিপরীত পদ ও বিরুদ্ধ পদ এক নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ধরনের শব্দ প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ যে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে তার সাথে দৃশ্যকল্প-১ এ পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে পদ মাত্র একটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়, তাকে সরল পদ বলে (যেমন: মানুষ, বই)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিপরীত পদ ও বিরুদ্ধ পদের মধ্যে সম্পর্কের প্রকৃতিগত পার্থক্যের কারণে এরা এক নয়।
    একই জাতীয় অন্তর্ভুক্ত দুটি গুণের চরম মাত্রার বৈপরীত্য নির্দেশক পদদ্বয়কে বিপরীত পদ বলে (যেমন: সাদা ও কালো)। বিপরীত পদ দুটি একসঙ্গে সত্য হতে পারে না, কিন্তু যুগপৎ মিথ্যা হতে পারে (বস্তুটি সাদা বা কালো না হয়ে লালও হতে পারে)। অন্যদিকে, কোনো পদের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতিকে সূচিত করে এমন দুটি পদকে বিরুদ্ধ পদ বলে (যেমন: সাদা ও অ-সাদা)। বিরুদ্ধ পদদ্বয়ের ক্ষেত্রে কোনো মধ্যবর্তী সম্ভাবনা নেই—যেকোনো বস্তু হয় সাদা হবে, না হয় অ-সাদা হবে। তাই বিপরীত পদ ও বিরুদ্ধ পদ এক নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ 'পদ-অযোগ্য শব্দ' (Categoriematic বাদে অন্য একটি প্রকার, অর্থাৎ Extra-categoriematic / পদ-অযোগ্য শব্দ) প্রকাশ পেয়েছে।
    যুক্তিবিদ্যায় শব্দকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: পদযোগ্য শব্দ, সহ-পদযোগ্য শব্দ এবং পদ-অযোগ্য শব্দ। যেসব শব্দ কখনো নিজে নিজে কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না এবং অন্য শব্দের সাহায্য নিয়েও পদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না, বরং মানুষের কেবল আকস্মিক আবেগ, অনুভূতি, বিস্ময়, হর্ষ বা ঘৃণা প্রকাশ করে, সেগুলোকে পদ-অযোগ্য শব্দ বলে।
    দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত 'বাহ!', 'চমৎকার!', 'ছিঃ, ছিঃ!', 'সাবাশ!' শব্দগুলো মানুষের তাৎক্ষণিক মানসিক আবেগ, উচ্ছ্বাস বা ঘৃণা প্রকাশ করে। এগুলো কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে পদরূপে ব্যবহৃত হতে পারে না। সুতরাং, দৃশ্যকল্প-১ এ পদ-অযোগ্য শব্দ প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ প্রকাশ পেয়েছে 'পদযোগ্য শব্দ' এবং দৃশ্যকল্প-১ এ প্রকাশ পেয়েছে 'পদ-অযোগ্য শব্দ'। নিচে এদের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. সংজ্ঞাগত পার্থক্য: যে শব্দ অন্য কোনো শব্দের সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় রূপে ব্যবহৃত হতে পারে, তাকে পদযোগ্য শব্দ বলে (যেমন: দৃশ্যকল্প-২ এর 'মানুষ', 'সুন্দর ফুল', 'বুদ্ধিমান')। অপরদিকে, যেসব শব্দ কখনো কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হতে পারে না, কেবল মনের আবেগ প্রকাশ করে, তাকে পদ-অযোগ্য শব্দ বলে (যেমন: দৃশ্যকল্প-১ এর 'বাহ!', 'ছিঃ, ছিঃ!')।
    ২. পদের মর্যাদা: দৃশ্যকল্প-২ এর শব্দগুলো সরাসরি পদ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা রাখে। পক্ষান্তরে, দৃশ্যকল্প-১ এর শব্দগুলো কোনোভাবেই পদ হওয়ার যোগ্যতা রাখে না।
    ৩. অর্থ ও প্রকাশ: পদযোগ্য শব্দ কোনো বস্তু বা গুণের ধারণা প্রকাশ করে এবং যুক্তিবোধের প্রতিফলন ঘটায়। কিন্তু পদ-অযোগ্য শব্দ যুক্তির চেয়ে আবেগ, হর্ষ, বিষাদ ও বিস্ময় প্রকাশ করে।
    ৪. যুক্তিবিদ্যায় উপযোগিতা: যুক্তিবিদ্যায় যুক্তিবাক্য গঠনের জন্য পদযোগ্য শব্দ অপরিহার্য। তবে পদ-অযোগ্য শব্দের কোনো প্রত্যক্ষ যৌক্তিক মূল্য নেই।
    সুতরাং, দৃশ্যকল্প-২ এর পদযোগ্য শব্দ এবং দৃশ্যকল্প-১ এর পদ-অযোগ্য শব্দ তাদের প্রকৃতি, ব্যবহার ও যৌক্তিক গুরুত্বের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন