রসায়ন ১ম পত্র • ল্যাবরেটরির নিরাপদ ব্যবহার • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

[A, B, C এবং D যৌগসমূহকে ল্যাবরেটরির একই সেলফে উপরের ক্রমানুযায়ী সংরক্ষণ করা হলো]

  1. ক)

    দ্রাবক নিষ্কাশন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    UV রশ্মির সাহায্যে কিভাবে জাল টাকা শনাক্ত করা হয়?

    (2)
  3. গ)

    A যৌগের ক্ষারীয় মূলকের শনাক্তকরণে শিখা পরীক্ষায় যে বর্ণ উৎপন্ন করে তার কারণ ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক অনুযায়ী A, B, C ও D এর সংরক্ষণ করার কৌশল সঠিক কিনা তা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো জলীয় দ্রবণ থেকে জৈব বা অজৈব যৌগকে পৃথক করার জন্য ওই যৌগের সাথে মিশ্রিত হয় না এমন একটি উপযুক্ত জৈব দ্রাবক যোগ করে ঝাঁকিয়ে যৌগটিকে দ্রাবকে দ্রবীভূত করে পৃথক করার পদ্ধতিকে দ্রাবক নিষ্কাশন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাল টাকা শনাক্তকরণে অতিবেগুনি (UV) রশ্মি ব্যবহৃত হয়। আসল নোটে ফ্লুরোসেন্ট ডাই বা ফসফর দ্বারা বিশেষ নিরাপত্তা সুতা, জলছাপ এবং বিভিন্ন অদৃশ্য নকশা বা প্রতীক আঁকা থাকে। সাধারণ আলোতে এগুলো দৃশ্যমান হয় না। কিন্তু যখন আসল নোটের ওপর নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (প্রায় 230–375 nm) UV রশ্মি ফেলা হয়, তখন ফসফর অণুগুলো UV রশ্মির শক্তি শোষণ করে উত্তেজিত হয় এবং পরবর্তীতে দৃশ্যমান আলোর নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিকিরণ করে প্রতিপ্রভা (fluorescence) সৃষ্টি করে। ফলে নিরাপত্তা চিহ্নগুলো জ্বলজ্বলেভাবে দৃশ্যমান হয়। কিন্তু জাল নোটে সাধারণত এই বিশেষ রাসায়নিক ফসফর থাকে না, ফলে UV আলোর নিচে কোনো প্রতিপ্রভা সৃষ্টি হয় না। এভাবে জাল টাকা সহজে শনাক্ত করা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'A' যৌগটি হলো সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH)। এর ক্ষারীয় মূলক বা ক্যাটায়নটি হলো সোডিয়াম আয়ন (Na⁺)।

    শিখা পরীক্ষায় গাঢ় HCl সহযোগে Na⁺ লবণকে বুনসেন শিখার অনুজ্জ্বল মণ্ডলে ধরা হলে উজ্জ্বল সোনালী হলুদ (Golden Yellow) শিখা দেখা যায়। এর কারণ নিম্নরূপ:
    বুনসেন শিখার উচ্চ তাপে উদ্বায়ী সোডিয়াম ক্লোরাইড তৈরি হয় এবং তাপশক্তি শোষণ করে Na⁺ আয়ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে ক্ষণস্থায়ী সোডিয়াম পরমাণুতে (Na) রূপান্তরিত হয়। এরপর সোডিয়াম পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ স্তরের যোজ্যতা ইলেকট্রন তাপশক্তি শোষণ করে নিম্ন শক্তিস্তর (3s) থেকে উচ্চ শক্তিস্তরে (যেমন- 3p) লাফিয়ে উন্নীত হয়। উত্তেজিত অবস্থায় ইলেকট্রনটি অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী হওয়ায় তা সাথে সাথেই শক্তি বিকিরণ করে পুনরায় নিম্ন শক্তিস্তরে (3s) ফিরে আসে। বোর পরমাণু মডেলের ধারণা অনুযায়ী, বিকিরিত এই শক্তির কম্পাঙ্ক দৃশ্যমান আলোর অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হয়। সোডিয়াম পরমাণু কর্তৃক নির্গত আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য প্রায় 589 nm এবং 589.6 nm, যা দৃশ্যমান আলোর হলুদ বর্ণালির পরিসীমার মধ্যে পড়ে। একারণে Na⁺ মূলক শিখা পরীক্ষায় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সোনালী হলুদ বর্ণ সৃষ্টি করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদত্ত যৌগগুলো হলো:
    A = NaOH (তীব্র ক্ষারীয় ও ক্ষয়কারী পদার্থ)
    B = KMnO₄ (তীব্র জারক পদার্থ)
    C = LiAlH₄ (তীব্র বিজারক ও আর্দ্রতাপ্রবণ/বিস্ফোরক পদার্থ)
    D = C₂H₅OH (দাহ্য ও উদ্বায়ী জৈব পদার্থ)

    ল্যাবরেটরির একই সেলফে এই যৌগগুলোকে পাশাপাশি সংরক্ষণ করার কৌশলটি মোটেও সঠিক নয়। এর কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. জারক ও বিজারকের সহাবস্থান: B (KMnO₄) একটি অত্যন্ত শক্তিশালী জারক এবং C (LiAlH₄) একটি তীব্র বিজারক। এদেরকে পাশাপাশি রাখলে এদের সংস্পর্শে বা যেকোনোভাবে মিশ্রিত হলে তীব্র তাপমোচী বিক্রিয়া, ধোঁয়া সৃষ্টি এবং ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

    ২. দাহ্য পদার্থ ও জারকের সহাবস্থান: D (C₂H₅OH) অত্যন্ত দাহ্য জৈব তরল। শক্তিশালী জারক B (KMnO₄)-এর সংস্পর্শে এলে তা তীব্রভাবে জারিত হয়ে আগুন ধরে যেতে পারে।

    ৩. আর্দ্রতাপ্রবণ পদার্থ ও ক্ষারের সংস্পর্শ: C (LiAlH₄) পানির সংস্পর্শে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এটি পানির সাথে দ্রুত বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে বিস্ফোরণ ঘটায়। অন্যদিকে A (NaOH) একটি শক্তিশালী হাইগ্রোস্কোপিক (পানিগ্রাহী) ক্ষয়কারী ক্ষার।

    রাসায়নিক সুরক্ষাবিধি (GHS) অনুসারে জারক, বিজারক, দাহ্য ও ক্ষয়কারী পদার্থগুলোকে পৃথক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ নির্দিষ্ট ক্যাবিনেটে পৃথকভাবে সংরক্ষণ করতে হয়। সুতরাং, ভিন্ন ভিন্ন বিপজ্জনক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী A, B, C ও D যৌগগুলোকে একই সেলফে একসাথে রাখা রাসায়নিক নিরাপত্তার পরিপন্থী এবং বিপজ্জনক; তাই উদ্দীপকের সংরক্ষণ কৌশলটি সঠিক নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন