পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
মহান নেতা সমশের মুবিন জাতিকে স্বৈরাচারী শাসকের হাত থেকে মুক্তির জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। এজন্য তাকে প্রায়ই কারাগারে থাকতে হয়েছে। ১৯৬৮ সালে স্বৈরাচারী শাসক তাঁকেসহ আরো ৩৪ জন সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বিচ্ছিন্নতার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে এবং তাকে গ্রেফতার করে। এ প্রহসনমূলক মামলার বিরুদ্ধে বীর জাতি রুখে দাঁড়ায় এবং ক্ষোভে জ্বলে উঠে। প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে অবশেষে স্বৈরাচারী শাসক সমশের মুবিনকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।
- ক)(1)
ছয়দফা কর্মসূচি কত সালে পেশ করা হয়?
- খ)(2)
ফরায়েজি আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
পাঠ্যবইয়ের আলোকে উদ্দীপকে উল্লিখিত মামলাটি সম্পর্কে লেখ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত গণআন্দোলন পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টিতে কীভাবে সহায়তা করেছিল বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছয়দফা কর্মসূচি ১৯৬৬ সালে পেশ করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহর নেতৃত্বে অবিভক্ত বাংলায় যে ধর্মীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তাকে ফরায়েজি আন্দোলন বলা হয়। 'ফরায়েজ' শব্দটি আরবি 'ফরজ' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্য। হাজী শরীয়তুল্লাহ ইসলাম ধর্মে অনুপ্রবেশকারী অনৈসলামিক কুসংস্কার ও বিদআত দূর করে কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে জীবন পরিচালনার ডাক দেন। পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র দুদু মিয়ার নেতৃত্বে এই আন্দোলন কৃষক ও মেহনতি মানুষের ওপর ইংরেজ ও স্থানীয় জমিদার-নীলকরদের শোষণ-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মামলাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা 'ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা' বা 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'-এর প্রতি ইঙ্গিত করে।
১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তান সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১ নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে। মামলার মূল অভিযোগ ছিল, অভিযুক্তরা ভারতের সহযোগিতায় পূর্ব পাকিস্তানকে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। এ মামলার বিচারকার্য পরিচালিত হয় ঢাকা সেনানিবাসে গঠিত এক বিশেষ ট্রাইব্যুনালে।
উদ্দীপকে নেতা সমশের মুবিনসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বিচ্ছিন্নতার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার বিবরণ ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার পটভূমি ও রূপরেখাকে হুবহু প্রতিফলিত করে। সরকার শেখ মুজিব ও বাঙালিদের রাজনৈতিক অধিকার আন্দোলন চিরতরে ধ্বংস করার হীন উদ্দেশ্যে এ ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করেছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত গণআন্দোলনটি হলো ঐতিহাসিক '১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান', যা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ ও নির্ধারক ভূমিকা পালন করেছিল।
আগরতলা মামলার প্রতিবাদে এবং বন্দিদের মুক্তির দাবিতে ছাত্র-জনতার উদ্যোগে গড়ে ওঠে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলন। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা কর্মসূচি এই আন্দোলনে ব্যাপক গতিশীলতা আনে। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পুলিশ ও সেনাবাহিনী আসাদ, মতিউর ও ড. শামসুজ্জোহাসহ অসংখ্য মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করলে আন্দোলন তীব্র গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত গণরোষের মুখে আইয়ুব সরকার মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
এই গণঅভ্যুত্থান বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশকে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। এটি বাঙালিদের মধ্যে এই দৃঢ় প্রত্যয় জন্ম দেয় যে, রক্ত ও সংগ্রামের মাধ্যমেই পাকিস্তানি স্বৈরশাসনকে পরাভূত করা সম্ভব। এই অভ্যুত্থানের ফলেই স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পটভূমি রচিত হয় এবং জনগণ আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট দেয়। ফলস্বরূপ, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সংঘটিত মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্র তৈরিতে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সবচেয়ে শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও