অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সাফিন ও নাফিনসহ সাত বন্ধু তাদের নিজস্ব মূলধন নিয়ে একটি কারবার আরম্ভ করলেন। সম্ভাবনাময় হওয়ায় কারবারটি সম্প্রসারণের জন্য তারা পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের চিন্তা করলেন। সাফিন এমন একটি অনুমোদিত মূলধনের কথা চিন্তা করল যার দ্বারা কোম্পানির মালিকানা নির্দেশ করে এবং লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে। অন্যদিকে নাফিন এমন একটি দলিল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয় যা দ্বারা নির্দিষ্ট হারে সুদ পাবে কিন্তু কোম্পানির লভ্যাংশের আংশীদার হতে পারবে না।
- ক)(1)
অর্থায়ন কী?
- খ)(2)
অর্থায়নের উৎস হিসেবে ব্যাংক ঋণের ভূমিকা কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সাফিন যে বিশেষ পদ্ধতিতে মূলধন সংগ্রহের কথা চিন্তা করল তার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সাফিন ও নাফিনের অর্থ সংগ্রহের যে দুটি উৎসের কথা বলা হয়েছে তার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ, তার যথাযথ ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রমকে অর্থায়ন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থায়নের অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য বাহ্যিক উৎস হলো ব্যাংক ঋণ। ব্যাংক সাধারণত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় চলতি ও স্থায়ী মূলধনের সংস্থান করে থাকে। ব্যবসা সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন বা জরুরি আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ লাভজনক বিনিয়োগ নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানের তারল্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সাফিন যে পদ্ধতির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের কথা চিন্তা করল, তা হলো 'শেয়ার' (বিশেষ করে সাধারণ শেয়ার) ইস্যু।
কোম্পানির অনুমোদিত মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমান অংশকে শেয়ার বলা হয়। সাফিনের নির্বাচিত সাধারণ শেয়ারের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. মালিকানা নির্দেশক: শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে ক্রেতা কোম্পানির আংশিক মালিকানা অর্জন করে এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির প্রকৃত মালিক হিসেবে গণ্য হয়।
২. ভোটাধিকার ও নিয়ন্ত্রণ: সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।
৩. অনির্দিষ্ট লভ্যাংশ: এতে সুদের মতো নির্দিষ্ট কোনো আয়ের নিশ্চয়তা থাকে না; কোম্পানি লাভ করলে লভ্যাংশ পায়, ক্ষতি হলে কোনো লভ্যাংশ পায় না।
৪. ঝুঁকি বহন: লাভ-ক্ষতির অংশীদার হওয়ায় এ জাতীয় তহবিলে বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। কোম্পানি অবসায়নের ক্ষেত্রে সকল দায় পরিশোধের পর এদের দাবি বিবেচনা করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মূলধন সংগ্রহের জন্য সাফিন শেয়ার (সাধারণ শেয়ার) এবং নাফিন ঋণপত্র বা বন্ড (Debenture/Bond) বেছে নিয়েছে। নিচে এ দুটি উৎসের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ: শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির প্রত্যক্ষ মালিক এবং তাদের ভোটাধিকার থাকে। ফলে সাফিনের পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ শেয়ারহোল্ডারদের হাতে থাকে। অন্যদিকে ঋণপত্র ক্রেতারা কোম্পানির পাওনাদার মাত্র; তাদের কোনো ভোটাধিকার বা পরিচালনায় অংশগ্রহণের অধিকার থাকে না।
২. আয়ের প্রকৃতি: শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির মুনাফার ওপর ভিত্তি করে অনির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ (Dividend) পায়। অন্যদিকে নাফিনের ঋণপত্রে কোম্পানি লাভ বা লোকসান যাই করুক না কেন, চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে সুদ (Interest) প্রদান বাধ্যতামূলক।
৩. ঝুঁকির মাত্রা: কোম্পানির দিক থেকে শেয়ার মূলধন কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক দায়ের সৃষ্টি করে না, ফলে ঝুঁকি কম; কিন্তু বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিপরীতে, ঋণপত্রের ক্ষেত্রে কোম্পানিকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সুদ ও মেয়াদ শেষে আসল ফেরত দিতেই হয়, যা কোম্পানির জন্য আর্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি করে, তবে নাফিনের মতো বিনিয়োগকারীর জন্য এটি নিরাপদ।
৪. অবসায়নকালে দাবি: কোম্পানি বিলুপ্ত বা অবসায়িত হলে সম্পদের ওপর ঋণপত্র মালিকদের দাবি সবার আগে মেটাতে হয়। অবশিষ্ট সম্পদ থেকে সর্বশেষ শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।
সুতরাং, কারবারের ঝুঁকি সহনশীলতা ও মূলধনের স্থায়ী চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নিজস্ব মালিকানামূলক তহবিল (শেয়ার) এবং ঋণকৃত তহবিল (ঋণপত্র)—উভয়েরই নিজস্ব সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও