জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রুই মাছের এমন একটি অঙ্গ আছে যাহা ভারসাম্য ও শ্বসনে ভূমিকা রাখে। ইহা ছাড়াও এর রক্ত সংবহন পদ্ধতি একমুখী।

  1. ক)

    সিস্টোল কী?

    (1)
  2. খ)

    অভয়াশ্রম বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটির গঠন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষোক্ত উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সংকোচন অবস্থাকে সিস্টোল (Systole) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অভয়াশ্রম হলো সরকার বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত এমন একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল বা জলাশয়, যেখানে বন্যপ্রাণী ও জলজ জীবের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, বংশবৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং সেখানে যেকোনো প্রকার শিকার, উদ্ভিদের ক্ষতিসাধন বা প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ড আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি যা ভারসাম্য ও শ্বসনে ভূমিকা রাখে, তা হলো রুই মাছের বায়ুথলি বা পটকা (Swim bladder)।

    পটকার গঠন নিম্নরূপ:
    ১. প্রকোষ্ঠ: রুই মাছের বায়ুথলি একটি পাতলা প্রাচীরবিশিষ্ট, চকচকে সাদা এবং বায়ুপূর্ণ থলি। এটি মধ্যবর্তী একটি খাঁজ দ্বারা দুটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত—একটি ছোট অগ্র প্রকোষ্ঠ এবং একটি বড় পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠ।
    ২. প্রাচীরের স্তর: বায়ুথলির প্রাচীর মূলত দুটি স্তরে গঠিত—বাইরের টিউনিকা এক্সটার্না (ঘন যোজক কলা নির্মিত) এবং ভেতরের টিউনিকা ইন্টার্না (মসৃণ পেশি ও এপিথেলিয়াম নির্মিত)।
    ৩. লাল গ্রন্থি (Red gland): অগ্র প্রকোষ্ঠের অঙ্কীয় প্রাচীরে রক্তজালকসমৃদ্ধ একটি লাল গ্রন্থি বা 'রেটি মিরাবিলিয়া' (Rete mirabile) থাকে। এর গ্যাস গ্রন্থি থেকে গ্যাস (প্রধানত অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড) ক্ষরিত হয়ে থলি পূর্ণ হয়। পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে গ্যাস শোষণকারী অঞ্চল থাকে।
    ৪. নিউম্যাটিক নালী: অগ্র প্রকোষ্ঠের অঙ্কদেশ থেকে একটি সরু নালী বের হয়ে খাদ্যনালির সাথে যুক্ত থাকে, একে নিউম্যাটিক নালী (Pneumatic duct) বলে। রুই মাছের ক্ষেত্রে এই নালীর উপস্থিতির কারণে একে ফাইসোস্টোমাস ধরনের বায়ুথলি বলা হয়।
    ৫. ওয়েবেরিয়ান অসিকল: বায়ুথলির অগ্রভাগ অন্তকর্ণের সাথে একসারি ক্ষুদ্র অস্থির মাধ্যমে যুক্ত থাকে, যাদের ওয়েবেরিয়ান অসিকল (Weberian ossicles) বলে। এটি শব্দ ও চাপ অনুভূতি গ্রহণে সাহায্য করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষোক্ত উক্তিটি হলো—"রুই মাছের রক্ত সংবহন পদ্ধতি একমুখী"। উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ। নিম্নে এর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:

    ১. একক সংবহন (Single circulation): রুই মাছের হৃৎপিণ্ড দিয়ে প্রতি চক্রে রক্ত কেবল একবারই প্রবাহিত হয়। এ ধরনের সংবহনকে একক রক্তসংবহন বলে।
    ২. শিরা হৃৎপিণ্ড (Venous heart): রুই মাছের হৃৎপিণ্ড কেবল ডি-অক্সিজেনযুক্ত বা কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত পরিবহন করে। তাই এর হৃৎপিণ্ডকে 'শিরা হৃৎপিণ্ড' বলা হয়।
    ৩. সংবহনের গতিপথ:

    • দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত শিরাতন্ত্রের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের সাইনাস ভেনোসাসে প্রবেশ করে।
    • সেখান থেকে রক্ত ক্রমশ অলিন্দ (অ্যাট্রিয়াম) এবং নিলয়ে (ভেন্ট্রিকল) আসে।
    • নিলয় সংকুচিত হলে রক্ত বাল্বাস আর্টারিওসাসে পৌঁছায়।
    • বাল্বাস আর্টারিওসাস থেকে রক্ত ভেন্ট্রাল অ্যাওর্টা হয়ে অন্তর্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনির মাধ্যমে ৪ জোড়া ফুলকায় পরিবাহিত হয়।
    • ফুলকায় গ্যাসীয় বিনিময়ের মাধ্যমে রক্ত অক্সিজেনযুক্ত হয় এবং বহির্বাহী ব্রাঙ্কিয়াল ধমনি হয়ে ডর্সাল অ্যাওর্টার মাধ্যমে সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ে।
    • প্রতিটি প্রকোষ্ঠের মুখে কপাটিকা (যেমন: সাইনো-অ্যাট্রিয়াল, অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার কপাটিকা) থাকার কারণে রক্ত কখনোই বিপরীত দিকে প্রবাহিত হতে পারে না।

    সুতরাং দেখা যায়, রক্ত দেহ → সাইনাস ভেনোসাস → অ্যাট্রিয়াম → ভেন্ট্রিকল → বাল্বাস আর্টারিওসাস → ফুলকা → দেহ—এই নির্দিষ্ট একমুখী পথে ধাবিত হয়। রক্তপ্রবাহের এই প্রকৃতিই প্রমাণ করে যে রুই মাছের রক্ত সংবহন পদ্ধতি একমুখী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন